প্রধান মেনু খুলুন

মহাতছাজী মহাত্মাজী আজ রাজার বর্মী। ভারতবাসীর পক্ষে এ সংবাদ যে কি, সে কেবল ভারতবাসাঁই জানে। তবুও সমস্ত দেশ স্তন্ধ হইয়া রছিল। দেশব্যাপী কঠোর হরতাল হইল না, শোকোত্মত্ত নর-নারী পথে পথে বাহির হইয়া পড়িল না, লক্ষ কোটি সভাসমিতিতে হৃদয়ের গভীর ব্যথা নিবেদন করিতে কেহ আসিল না - যেন কোথাও কোন দুর্ঘটনা ঘটে নাই,-যেমন কাল ছিল, আজও সমস্তই ঠিক তেমনি আছে, কোনখানে একটি তিল পৰ্য্যস্ত বিপৰ্য্যস্ত হয় নাই—এমনিভাবে আসমূদ্র-হিমাচল নীরব হইয়া আছে। কিন্তু এমন কেন ঘটিল ? এতৰভু অসম্ভব কাও কি করিয়া সম্ভবপর হইল ? নীচাশয়, এ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান কাগজগুলো যাহার যাহা মুখে আসিতেছে বলিতেছে, কিন্তু প্রতিদিনের মত সে মিথ্যা খণ্ডন করিতে বেহু উদ্যত হইল না। আজ কথাকাটাকাটি করিবার প্রবৃত্তি পৰ্য্যন্ত কাহারও নাই। মনে হয়, যেন তাহাদের ভারাক্রাস্ত হৃদয়ের গভীরতম বেদনা আজ সমস্ত তর্ক-বিতর্কের অতীত । যাইবার পূর্বাহ্লে মহাত্মাষ্ঠী অনুরোধ করিয়া গেছেন, তাহার জন্য কোথাও কোন হরতাল, কোনরূপ প্রতিবাদ-সভা, কোন প্রকার চাঞ্চল্য বা লেশমাত্র আক্ষেপ উখিত না হয়। অ হ্যস্ত কঠিন আদেশ। কিন্তু তথাপি সমস্ত দেশ তাহার সে অাদেশ শিরোধাৰ করিয়া লইয়াছে। এই কণ্ঠরোধ, এই নিঃশব্দ সংযম, আপনাকে দমন করিয়া রাখার এই কঠোর পরীক্ষা যে কত বড় দুঃসাধ্য, এ-কথা তিনি ভাল করিয়াই জানিতেন, তবুও এ আজ্ঞা প্রচার করিয়া ৰাইতে র্তাহার বাধে নাই । আর একদিন— ষেদিন তিনি বিপন্ন দরিদ্র উপদ্রুত ও বঞ্চিত প্রজার পরম দুঃখ রাজার গোচর করিতে যুবরাজের অভ্যর্থনা নিষেধ করিয়াছিলেন, এই অর্থহীন, নিরানন্দ উৎসবের অভিনয় হইতে সৰ্ব্বতোভাবে বিরত হইতে প্রত্যেক ভারতবাসীকে উপদেশ দিয়াছিলেন, সেনিও তাহার বাধে নাই। রাজরোষাগ্নি যে কোথায় এবং কত দূরে উৎক্ষিপ্ত হইবে, ইহা তাহার অবিদিত ছিল না, কিন্তু কোন আশঙ্কা, কোন প্রলোভনই তাহাকে সঙ্কল্পচু্যত করিতে পারে নাই। ইহাকে উপলক্ষ করিয়া দেশের উপর দিয়া কত ঝঙ্কা কত বজ্রপাত কত দুঃখই না বহিয়া গেল, কিন্তু একবার যাহা সত্য ও কর্তব্য বলিয়া স্থির করিয়াছিলেন, যুবরাজের উৎসব-সম্বন্ধে শেষ দিন পৰ্যন্ত সে আদেশ তাহার প্রত্যাহার করেন নাই। তার পর অকস্মাৎ একদিন চৌরিচৌরার ভীষণ দুর্ঘটনা א9אא শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ঘটিল। নিরুপদ্রব সম্বন্ধে দেশবাসীর প্রতি র্তাহার বিশ্বাস টলিল,—তখন এ কথা সমস্ত জগতের কাছে অকপট ও যুক্তকণ্ঠে ব্যক্ত করতে র্তাহার লেশমাত্র দ্বিধা বোধ হইল না। নিজের ভুল ও ক্রটি বারংবার স্বীকার করিয়া বিরুদ্ধ রাজশক্তির সহিত আসন্ন ও মুতীব্র সংঘর্ষের সর্বপ্রকার সম্ভাবনা স্বহস্তে রোধ করিয়া দিলেন। বিন্দুমাত্রও কোথাও তাহার বাধিল না। সিন্ধু হইতে আসাম ও হিমাচল হইতে দাক্ষিণাত্যের শেষ প্রাস্ত পৰ্য্যস্ত সমস্ত অসহযোগ পন্থীদের মূখ হতাশ্বাস ও নিফল ক্রোধে কালো হইয়। উঠিল এবং অনতিকাল-বিলম্বে দিল্লীর নিখিল-ভারতীয় কংগ্রেস-কাৰ্য্যকরীসভায় তাহার মাথার উপর দিয়া গুপ্ত ও ব্যক্ত লাঞ্ছনার যেন একটা ঝড় বহিয়া গেল। কিন্তু তাহাকে টলাইতে পারিল না। একদিন যে তিনি সবিনয়ে ও অত্যন্ত সংক্ষেপে বলিয়াছিলেন, I have lost all fear of men-assist*H RIÊNs Ntwąty NtfR są șf Ri– এ সত্য কেবল প্রতিকূল রাজশক্তির কাছে নয়, একান্ত অমুকুল সহযোগী ও ভক্ত অম্লচর দিগের কাছেও সপ্রমাণ করিয়া দিলেন। রাজপুরুষ ও রাজশক্তির অনাচার ও অত্যচারের তীব্র আলোচনা এ-দেশে নিৰ্ভয়ে আরও অনেকে করিয়া গেছেন, তাহার দওভোগও র্তাহাদের ভাগ্যে লঘূ হয় নাই, তথাপি ভয়হীনতার পরীক্ষা তাহাদিগকে কেবল এই দিক দিয়াই দিতে হইয়াছে। কিন্তু ইহাপেক্ষাও ষে বড় পরীক্ষা ছিল,— অনুরক্ত ও ভক্তের অশ্রদ্ধা, অভক্তি ও বিদ্রুপের দগু—একথা লোকে একপ্রকার ভুলিয়াইছিল—যাবার পূৰ্ব্বে দেশের কাছে এই পরীক্ষাটাই উহাকে উত্তীর্ণ হইয়া যাইতে হইল, অভ্যস্ত স্পষ্ট করিয়া দেখিয়া যাইতে হুইল যে সন্ত্রম, মধ্যাদা, যশ, এমন কি, জন্মভূমির উপরও সত্যকে প্রতিষ্ঠা করিতে না পারিলে ইহা পারা যায় না । কিন্তু এত বড় শাস্ত শক্তি ও সুদৃঢ় সত্যনিষ্ঠার মৰ্যাদা ধৰ্ম্মহীন উদ্ধত রাজশক্তি উপলব্ধি করিতে পারিল না, তাহাকে লাঞ্ছনা করিল। মহাত্মাকে সেদিন রাত্রে গ্রেপ্তার করা হইয়াছে। কিন্তু কিছুকাল হইতে এই সম্ভাবনা জনশ্রুতিতে ভাসিতেছিল, অতএব ইহা আকস্মিকও নয়, আশ্চৰ্য্যও নয়। কারাদগু অনিবার্ধ্য। ইহাতেও বিস্ময়ের কিছু নাই। কিন্তু ভাবিবার কথা আছে । ভাবনা ব্যক্তিগতভাবে তাহার নিজের জন্য নয়, এ চিন্তা সমষ্টিগতভাবে সমস্ত দেশের জন্য। যিনি একান্ত সত্যনিষ্ঠ, যিনি কায়মনোবাক্যে অহিংস, স্বাৰ্থ বলিয়া যাহার কোথাও কোন-কিছু নাই, আর্জের জন্ত, পীড়িতের জন্ত সন্ন্যাসী,— এ দুর্ভাগা দেশে এমন আইনও আছে, যাহার অপরাধে এই মানুষটিকেও আজ জেলে যাইতে হইল। দেশের মঙ্গলেই রাজশ্রীর মঙ্গল, প্রজার কল্যাণেই রাজার কল্যাণ, শাসনতন্ত্রের এই মূল তত্ত্বটি আজ এ-দেশে সত্য কি না, এখানে দেশের হিতার্থেই রাজ্য *ब्रिकांनना, अञ्जांब्र छांन श्zलझे ब्रांछांद्र छांन श्ब्र किना, झेश cफ्रांथ cभनिबा यांज ४७३ भश्tंचांधौ দেখিতে হইবে। আত্ম-বঞ্চনা করিয়া নয়, পরের উপর মোহ বিস্তার করিয়া নয়, হিংসা ও আক্রোশের নিষ্ফল অগ্নিকাও করিয়া নয়, -কারারুদ্ধ মহাত্মার পদাঙ্ক অমুসরণ করিয়া, তাহারি মত শুদ্ধ ও সমাহিত হইয়া এবং তাহারি মত লোভ, মোহ ও ভয়কে সকল দিক দিয়া জয় করিয়া। অর্থহীন কারাবরণ করিয়া নয়,— কারাবরণের অধিকার অর্জন করিয়া । হয়ত ভালই হইয়াছে। শাসনযন্ত্রের নাগপাশে আজ তিনি আবদ্ধ। তাহার একান্ত বাঞ্ছিত বিশ্রামের কথাটা না হয় ছাড়িয়াই দিলাম, কিন্তু দেশের ভার যখন আজ দেশের মাথায় পড়িল,—একটা কথা তিনি বারবার বলিয়া গিয়াছেন, দানের মত স্বাধীনতা কোনদিন কাহারও হাত হইতে গ্রহণ করা যায় না, গেলেও তাহ থাকে না, ইহাকে হৃদয়ের রক্ত দিয়া অর্জন করিতে হয় তাহার অবর্তমানে আপনাকে সার্থক করিবার এই পরম সুযোগটাই হন্ধত আজ সৰ্ব্বসাধারণের ভাগ্যে জুটিয়াছে। যাহারা রহিল, তাহারা নিতান্তই মানুষ । কিন্তু মনে হয়, অসামান্ততার পরম গৌরব আজ কেবল তাহাদেরই প্রতীক্ষা করিয়া রহিল । আরও এ টা পরম সত্য তিনি অত্যন্ত পরিস্ফুট করিয়া গেছেন। কোন দেশ যখন স্বাধীন মুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে তখন দেশাত্মবোধের সমস্তাও খুব জটিল হয় না, স্বদেশ-প্রেমের পরীক্ষাও একেবারে নিয়তিশয় কঠোর করিয়া দিতে হয় না । সেদেশের নেতৃস্থানীয়গণকে তখন পরম যত্বে বাছাই করিয়া না লইলেও হয়ত চলে। কিন্তু সেই দেশ যদি কখনও পীড়িত, রুগ্ন ও মরণাপন্ন হইয়া উঠে, তখন ঐ ঢ়িলাঢ়ালা কৰ্ত্তব্যের আর অবকাশ থাকে না। তখন এই দুদিন যাহার। পার করিয়া লইয়া যাইবার তার গ্রহণ করেন, সকল দেশের সমস্ত চক্ষের সম্মুখে তাহাদিগকে পরার্থপরতার অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয় । বাক্যে নয় –কাজে, চালাকির মার-প্যাচে নয় - সরল সোজা পথে, স্বার্থের বোঝা বহিয়া নয়—সকল চিন্তা, সকল উদ্বেগ, সকল স্বার্থ জন্মভূমির পদপ্রান্তে নিঃশেষে বলি দিয়া । ইহার অন্যথা বিশ্বাস করা চলে না। এই পরম সত্যটিকে আর আমাদের বিস্তুত হইলে কোনমতে চলিবে না । এই পরীক্ষা দিতে গিয়াই আজ শত-সহস্র ভারতবাসী রাজকারাগারে । এবং এইজন্তই ইহাকে "স্বরাজ আশ্রণ’ নাম দিয়াও র্তাহারা আনন্দে রাজদও মাথায় পাতিয়া লইয়াছেন । প্রজার কল্যাণের সহিত রাজশক্তির আজ কঠিন বিরোধ বাধিয়াছে। এই বিগ্ৰহ, এই বোঝাপড়া কবে শেষ হইবে সে শুধু জগদীশ্বরই জানেন, কিন্তু রাজার প্রজায় এই সংঘর্ষ প্রজ্জ্বলিত করিবার ৰিনি সৰ্ব্বপ্রধান পুরোহিত, আজ যদিও তিনি অবরুদ্ধ, কিন্তু, এই বিরোধের মূল তথ্যটা আবার একবার নুতন করিয়া দেখিবার সময় আসিয়াছে। vుeళి শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সংশয় ও অবিশ্বাসই সকল সম্ভাব, সকল বন্ধন, সকল কল্যাণ পলে পলে ক্ষয় করিম্ব আসিতেছে। শাসনতন্ত্ৰ কহিলেন, “এই” প্রজাপুঞ্জ জবাব দিতেছে,—“না, এই নয়, তোমার মিথ্যা কথা।” রাজশক্তি কহিতেছেন, “তোমাকে এই দিব, এতদিনে দিব।” প্রজাশক্তি চোখ তুলিয়া, মাৰা নাড়ির বলিতেছে, “তুমি আমাকে কোনদিন কিছু দিবে না,—নিছক বঞ্চনা করিতেছ।” “ৰে বলিল ?” ”কে বলিল । আমার সমস্ত অস্থি-মজ্জা, আমার সমস্ত প্রাণশক্তি, আমার আত্মা, আমার ধৰ্ম্ম, আমার মনুষ্যত্ব, আমার পেটের সমস্ত নাড়িভূড়িগুলা পৰ্য্যস্ত তারস্বরে চীৎকার করিয়া কেবল এই কথা ক্রমাগত বলিবার চেষ্টা করিতেছে । কিন্তু শোনে কে? চিরদিন তুমি গুনিবার ভান করিয়াছ, কিন্তু শোন নাই। আজও সেই পুরনো অভিনয় আর একবার মুতন করিয়া করিতেছ মাত্র । তোমাকে শুনাইবার ব্যর্থ চেষ্টায় জগতের কাছে আমার লজ্জ ও হীনতার অবধি নাই ; কিন্তু আর তাহাতে প্রবৃত্তি নাই। তোমার কাছে নালিশ করিব না, শুধু আর একবার আমার বেদনার কাহিনীটা দেশের কাছে একে একে ব্যক্ত করিব।” ভূতপূৰ্ব্ব ভারত-সচিব মণ্টেণ্ড সাহেব সেবার যখন ভারতবর্ষে আসিয়াছিলেন, তখন এই বাংলাদেশেরই একজন বিশ্ববিখ্যাত ৰাঙ্গালী তাহাকে একখানা বড় পত্ৰ লিখিয়াছিলেন, এবং তাহার মন্ত একটা জবাবও পাইয়াছিলেন । কিন্তু সেই আগাগোড়া ভাল ভাল ফাক কথার বোঝায় ভরা চিঠিখানির ফাকিটুকু ছাড়া আর কিছুই আমার মনে নাই, এবং বোধ করি মনেও থাকে না । কিন্তু এ পক্ষের মোট বক্তব্যটা আমার বেশ স্মরণ আছে । ইনি বার বার করিয়া, এবং বিশদ করিয়া ওই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের তর্কটাই চার পাতা চিঠি ভরিয়া সাহেবকে বুঝাইতে চাহিয়াছিলেন যে, বিশ্বাস না করিলে বিশ্বাস পাওয়া যায় না। যেন এতবড় নুতন তত্ত্বকথা এই ভারতভূমি ছাড়া বিদেশী সাহেবের আর কোথাও শুনিবার সম্ভাবনাই ছিল না। অথচ আমার বিশ্বাস, সাহেবের বয়স অল্প হইলেও এ-তত্ত্ব তিনি সেই প্রথমও গুনেন নাই এবং সেই প্রথমও জানিয়া ধান নাই । কিন্তু জানা এক এবং তাহাকে মানা আর । তাই সাহেবকে কেবল এমন সকল কথা এবং ভাষা ব্যবহার করিতে হইয়াছিল, যাহা দিয়া চিঠির পাতা ভরে, কিন্তু অর্থ হয় না। কিন্তু কথাটা কি ব্যস্তবিকই সত্য ! জগতে কোথাও কি ইহার ব্যতিক্রম নাই ? গভর্নমেন্ট আমাদের অর্থ দিয়া বিশ্বাস করেন না, পল্টন দিয়া বিশ্বাস করেন না, পুলিশ দিয়া বিশ্বাস করেন না, ইহা অবিসবাদী সত্য। কিন্তু গুৰু কেবল এই רגאSי भशब्लांबँौ জন্তই কি আমরাও বিশ্বাস করিব না এবং এই যুক্তিবলেই দেশের সর্বপ্রকার রাজকার্ধ্যের সহিত অসহযোগ করিয়া বসিয়া থাকিব ? গভর্ণমেণ্ট ইহার কি কি কৈফিয়ৎ দিয়া থাকেন জানি না, খুব সম্ভব কিছুই দেন না, দিলেই হয়ত ওই মণ্টেণ্ড সাহেবের মতই দেন—ম্বাহার মধ্যে বিস্তর ভাল কথা থাকে, কিন্তু মানে থাকে না । কিন্তু তাহাদের অফিসিয়াল বুলি ছাড়িয়া যদি স্পষ্ট করিয়া বলেন, “তোমাদের এই সকল দিয়া বিশ্বাস করি না খুব সত্য কথা, কিন্তু সে শুধু তোমাদেরই মঙ্গলের নিমিত্ত ।” আমরা রাগ করিয়া জবাব দিই, “ও আবার কি কথা ? বিশ্বাস কি কখনও একতরফা হয় ? তোমরা বিশ্বাস না করলে আমরাই বা করিব কি করিয়া ?” অপর পক্ষ হইতে যদি পাণ্ট। প্রশ্ন আসিত, ও বস্তুট দেশ কাল-পাত্র-ভেদে একতরফা হওয়া অসম্ভবও নয়, অস্বাভাবিকও নয়, তাহা হইলে কেবলমাত্র গলার জোরেই জয়ী হওয়া ষাইত না । এবং প্রতিপক্ষ সাধারণ একটা উদাহরণের মত যদি কহিতেন, পীড়িত রুগ্ন ব্যক্তি যখন অস্ত্রচিকিৎসায় চোখ বুজিয়া ডাক্তারের হাতে আত্মসমর্পণ করে, তখন বিশ্বাস বস্তুটা একতরফাই থাকে পীড়িতের বিশ্বাসের অঙ্গরূপ জামিন ডাক্তারের কাছে কেহ দাবী করে না এবং করিলেও মেলে না ! চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, পারদর্শিতা, তাহার সাধু ও সদিচ্ছাই একমাত্র জামিন এবং সে তাহার নিছক নিজেরই হাতে । পরকে তাহা দেওয়া যায় না। রোগীকে বিশ্বাস করিতে হয় আপনারই কল্যাণে, আপনারই প্রাণ বাচাইবার জন্ত । এ পক্ষ হইতেও প্রত্যুত্তর হইতে পারে, ওটা উদাহরণেই চলে, বাস্তবে চলে না। কারণ, অসঙ্কোচে আত্মসমর্পণ করিবার জামিন আছে, কিন্তু তাহ ঢের বঙ্ক, এবং তাহা গ্রহণ করেন চিকিৎসকের হৃদয়ে বসিয়া ভগবান নিজে । তার আদায়ের দিন যখন আসে, তখন না চলে ফাকি, না চলে তর্ক। তাই বোধ হয় সমস্ত ছাড়িয়া মহাত্মাঙ্গী রাজশক্তির এই হৃদয় লইয়াই পড়িয়াছিলেন । তিনি মারামারি, কাটাকাটি, অস্ত্র-শস্ত্র, বাহুবলের ধার জিয়া যান নাই, তার সমস্ত আবেদন-নিবেদন, অভিষোগঅমুযোগ এই আত্মার কাছে। রাজশক্তির হৃদয় বা আত্মার কোন বালাই না থাকিতে পারে, কিন্তু এই শক্তিকে চালনা যাহারা করে, তাহারাও নিষ্কৃতি পায় নাই। এবং সহানুভূতিই যখন জীবের সকল মুখ-দুঃখ, সকল জ্ঞান, সকল কৰ্ম্মের আধার, তখন ইহাকেই জাগ্রত করিতে তিনি প্রাণপণ করিয়াছিলেন । আজ স্বার্থ ও অনাচারে ইহা যত মলিন, যত আচ্ছন্নই না হইয়া থাক, একদিন ইহাকে নিৰ্ম্মল ও যুক্ত করিতে পারিবেন, এই অটল ৰিশ্বাস হইতে তিনি এক মূহূৰ্ত্তও বিচু্যত হন নাই। কিন্তু লোত ও মোহ দিয়া স্বাধকে, ক্রোধ ও বিদ্বেষ দিয়া হিংসাকে নিবারণ করা যায় না, তাহা अंबं९-नॉझेिॐ)-न२áई মহাত্মা জানিতেন । তাই দুঃখ দিয়া নহে, দুঃখ সহিয়া, বধ করিয়া নহে, আপনাকে অকুষ্ঠিতচিত্তে বলি দিতেই এই ধৰ্ম্মযুদ্ধে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন। ইহাই ছিল তাহার তপশু, ইহাকে তিনি বীরের ধৰ্ম্ম বলিয়া অকপটে প্রচার করিয়াছিলেন। পৃখিবীব্যাপী এই ষে উদ্ধত অবিচারের জাত-কলে মানুষ অহোরাত্র পিষিয়া মরিতেছে, ইহাই একমাত্র সমাধান। গুলি-গোলা, বন্দুক-বারুদ, কামানের মধ্যে নাই, আছে কেবল মানবের প্রীতির মধ্যে, তাহার আত্মার উপলব্ধির মধ্যে, এই পরম সত্যকে তিনি সমস্ত প্রাণ দিয়া বিশ্বাস করিয়াছিলেন বলিয়াই অহিংসা-ব্রতকে মাত্র ক্ষণিকের উপায় বলিয়া নয়, চিরজীবনের একমাত্র ধৰ্ম্ম বলিয়। গ্রহণ করিয়াছিলেন । এবং এইজন্যই তিনি ভারতীয় আন্দোলমকে রাজনীতিক না বলিয়া আধ্যাত্মিক বলিয়া বুঝাইবার চেষ্টায় দিনের পর দিন প্রাণপাত পরিশ্রম করিতেছিলেন। বিপক্ষ উপহাস করিয়াছ, স্বপক্ষ অবিশ্বাস করিয়াছে, কিন্তু কোনটাই তাহাকে বিভ্রাস্ত করিতে পারে ‘নাই । ইংরাজ-রাজশক্তির প্রতি বিশ্বাস হারাইয়াছিলেন, কিন্তু মামুয-ইংরাজদের আত্মোপলব্ধির প্রতি আজও তাহার বিশ্বাস তেমনি স্থির হইয়া আছে । কিন্তু এই অচঞ্চল নিষ্কম্প শিখাটির মহিমা বুঝিয়। উঠা অনেকের দ্বারাই দুঃসাধ্য। তাই সেদিন শ্ৰীযুক্ত বিপিনবাবু যখন মহাত্মাঙ্গীর কথা—“I would decline to gain India's. Freedom at the cost of uon-violence, meaning that India will rever gain her Freedom without non-violence” oft ধরিয়া বুঝাইতে চাহিয়াছেন যে, “মহাজীর লক্ষ্য—সত্যাগ্রহ, ভারতের স্বাধীনতা বা স্বরাজলাভ এই লক্ষ্যের একটা অঙ্গ হইতে পারে, কিন্তু ভুল লক্ষ্য নহে", তখন তিনিও এই শিখার স্বরূপ হৃদয়ঙ্গম করিতে পারেন নাই। অপরের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার প্রতি হস্তক্ষেপ না করিয়া মানবের পূর্ণ স্বাধীনতা ষে কত বড় সত্য বস্তু এবং ইহার প্রতি দ্বিধাহীন আগ্রহও যে কত বড় স্বরাজসাধনা, তাহা তিনিও উপলব্ধি করিতে পারেন নাই । সত্যের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মূল ডাল প্রভৃতি নাই, সত্য সম্পূর্ণ এবং সত্যই সত্যের শেষ। এবং এই চাওয়ার মধ্যেই মানব জাতির সর্বপ্রকার এবং সৰ্ব্বোত্তম লক্ষ্যের পরিণতি রহিয়াছে। দেশের স্বাধীনতা বা স্বরাজ তিনি সত্যের ভিতর দিয়াই চাহিয়াছেন, মারিয়া কাটিয়া ছিনাইয়া লইতে চাহেন নাই, এমন করিয়া চাহিয়াছেন, ষাহাতে দিয়া সে নিজেও ধন্য হইয়া যায়। তাহার ক্ষুব্ধ চিত্তের কৃপণের দেয় অর্থ নয়, তাহার দাতার প্রসন্ন হৃদয়ের সার্থকতার দান। অমন কাড়াকাড়ির দেওয়া-নেওয়া ত সংসারে অনেক হইয়া গেছে, কিন্তু সে ত স্থায়ী হইতে পারে নাই,–ছুঃখ-কষ্ট বেদনার ভারত কেবল বাড়িয়াই চলিয়াছে, কোথাও ত একটি তিলও কম পড়ে নাই ? তাই VENEG धशंख्रांबौ তিনি আজ ও-সকল পুরাতন পরিচিত ও ক্ষণস্থায়ী অসত্যের পথ হইতে বিশ্বৰ হইব। সভ্যfগ্রহী হইয়াছিলেন, পণ করিয়াছিলেন -মানবাত্মার সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বান ছাড়া হাত পাতিয়া আর তিনি কিছুই গ্রহণ করিবেন না। সৰ্ব্বাস্ত;করণে স্বাধীনতা বা স্বরাজকামী তিনি যখন ইংরাজ-রাজত্বের সর্বপ্রকায় সংস্রব পরিত্যাগ করিতে অসম্মত হইয়াছিলেন, তখন তাহাকে বিস্তর কটু-কথা শুনিতে হইয়াছিল। বহু কটুক্তির মধ্যে একটা তর্ক এই ছিল যে, ইংরাজ-রাজত্বের সহিত আমাদের চিরদিনের অবিচ্ছিন্ন বন্ধন কিছুতেই সত্য হইতে পারে না। নিরুপত্ৰৰ শাস্তির জন্তই বা এত ব্যাকুল হওয়া কেন ? পরাধীনতা যখন পাপ এবং পরের স্বাধীনতা অপহরণকারীও যখন এতবড় পাপী, তখন যেমন করিয়া হউক, ইহা হইতে যুক্ত হওয়াই ধৰ্ম্ম । ইংরাজ নিরুপজব-পথে রাজ্য স্থাপন করে নাই, এবং রক্তপাতেও ংকোচ বোধ করে নাই, তখন আমাদেরই শুধু নিরুপদ্রবপন্থী থাকিতে হইবে, এতবড় দায়িত্ব গ্রহণ করি কিসের জন্য ? কিন্তু মহাত্মাঙ্গী কর্ণপাত করেন নাই, তিনি জানিতেন এ উক্তি সত্য নয়, ইহার মধ্যে একটা মস্ত বড় ভুল প্রচ্ছন্ন হইয়া আছে। বস্ত তঃ, এ-কৰা কিছুতেই সত্য নয়, জগতে যাহ। কিছু অন্যান্ধের পৰে, অধশ্বের পৰে একদিন প্রতিষ্ঠিত হইয়া গেছে, আজ তাহাকে ধ্বংস করাই যায়, যেমন করিয়া হাকতাহাকে বিদূরিত করাই আজ ধৰ্ম্ম । যে ইংরাজ রাজকে একদিন প্রতিহত রাইক ছিল দেশের সৰ্ব্বোত্তম ধৰ্ম্ম, সেদিন তাহাকে ঠেকাইতে পারি নাই বলিয়া আঙ্গ যে-কোন পথে তাহাকে বিনাশ করাই দেশের একমাত্র শ্রেয়, এ-কথা কোনমতেই জোর করিয়া বলা চলে না। অবাঞ্ছিত জারজ সন্তান অধর্মের পথেই জন্মলাভ করে, অতএব ইহাকে বধ করিয়াই স্বাধীনতার প্রায়শ্চিত্ত করা যায়, তাহা সত্য নয়।*

  • ১৩২৯ বঙ্গাছের বৈশাখ সংখ্যা "নারায়ণ" পত্রে প্রকাশিত ।

vరిల4 ge--سstه و