প্রধান মেনু খুলুন


क्राञ्जपव्नान्ञ्ज =ुब्व्न्न বুড়ী বৃন্দাবন সামস্তের মৃত্যুর পরে তাহার দুই ছেলে শিবু ও শম্ভু সামস্ত প্রত্যহ ঝগড়া-লড়াই করিয়া মাস-ছয়েক একাম্নে এক বাটীতে কাটাইল, তাহার পরে একদিন পৃথক হইয়া গেল । গ্রামের জমিদার চৌধুরীমশাই নিজে আসিয়া তাহদের চাষ-বাস, জমি-জমা, পুকুর-বাগান সমস্ত ভাগ করিয়া দিলেন । ছোটভাই স্বমুখের পুকুরের ওধারে খানদুই মাটির ঘর তুলিয়া ছোটবে এবং ছেলে-পুলে লইয়া বাস্তু ছাড়িয়া উঠিয়া গেল । সমস্তই ভাগ হইয়াছিল, শুধু একটা ছোট বঁাশঝাড় ভাগ হইতে পাইল না। কারণ, শিৰু আপত্তি করিয়া কহিল, চৌধুরীমশাই, বঁাশঝাড়টা আমার নিতান্তই চাই। ঘরদোর সব পুরানো হয়েচে, চালের বাত-বাকারি বদলাতে, খোটাখুটি দিতে বঁাশ আমার নিত্য প্রয়োজন । গায়ে কার কাছে চাইতে যাব বলুন ? শম্ভু প্রতিবাদের জন্য উঠিয়া বড় ভাইয়ের মুখের উপর হাত নাড়িয়া বলিল, আহ, ওর ঘরে খোটাখুটিতেই বঁাশ চাই—আর আমার ঘরে কলাগাছ চিরে দিলেই হবে, না ? সে হবে না, সে হবে না চৌধুরীমশাই, বঁাশঝাড়টা আমার না থাকলেই চলবে না, তা বলে দিচ্ছি। মীমাংসা ঐ পর্য্যন্তই হইয়া রহিল। স্বতরাং সম্পত্তিটা রহিল দুই শরিকের। তাহার ফল হইল এই যে, শম্ভু একটা কঞ্চিতে হাত দিতে আসিলেই শিবু দা লইয়া তাড়িয়া আসে, এবং শিবুর স্ত্র বঁাশঝাড়ের তলা দিয়া হাটিলেই শঙ্কু লাঠি লইয়া মারিতে দৌড়ায় । সেদিন সকালে এই বঁাশঝাড় উপলক্ষ করিয়াই উভয় পরিবারে তুমুল দাঙ্গ হইয়া গেল। ষষ্ঠীপূজা কিংবা এমনি কি একটা দৈবকার্য্যে বড়বে। গঙ্গামণির কিছু বাশপাতার অাবগুক ছিল । পল্লীগ্রামে এ বস্তুটি দুল্লাভ নয়, অনায়াসে অন্যত্র সংগ্ৰহ হইতে পারিত, কিন্তু নিজের থাকিতে পরের কাছে হাত পাতিতে তাহার সরম বোধ হইল। বিশেষতঃ র্তাহার মনে ভরসা ছিল, দেবর এতক্ষণে নিশ্চয়ই মাঠে গিয়াছে— ছোটবোঁ এক আর করিবে কি। - ఇలిa শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কিন্তু কি কারণে শঙ্কুর সেদিন মাঠে বাহির হইতে বিলম্ব হইয়াছিল। সে সবেমাত্র পাস্তা-ভাত শেষ করিয়া হাত ধুইবার উদ্যোগ করিতেছিল, এমনি সময়ে ছোটবোঁ । পুকুর-ঘাট হইতে উঠিপড়ি করিয়া চুটিয়া আসিয়া স্বামীকে সংবাদ দিল। শঙ্কুর কোথায় রহিল জলের ঘাট-কোথায় রহিল হাত-মুখ ধোওয়া, সে রৈ-রাই শব্দে সমস্ত পাড়াটা তোলপাড় করিয়া তিন লাফে আসিয়া এটো-হাতেই পাতা কয়টি কাড়িয়া লইয়া টান মারিয়া ফেলিয়া দিল এবং সঙ্গে সঙ্গে বড়ভাজের প্রতি যে-সকল বাক্য প্রয়োগ করিল, সে-সকল সে আর যেখানেই শিথিয়া থাকুক, রামায়ণের লক্ষ্মণ-চরিত্র হইতে যে শিক্ষা করে নাই তাহা নিংসংশয়ে বলা যায়। এদিকে বড়বে কাদিতে কঁাদিতে বাড়ি গিয়া মাঠে স্বামীর নিকট খবর পাঠাইয়া দিল । শিৰু লাঙ্গল ফেলিয়া কান্তে হাতে করিয়া ছুটিয়া আসিল এবং বঁাশঝাড়ের অদূরে দাড়াইয়া অনুপস্থিত কনিষ্ঠের উদ্দেশ্বে অস্ত্র ঘুরাইয়া চীৎকার করিয়া এমন কাও বাধাইল যে, ভীড় জমিয়া গেল। তাহাতেও যখন ক্ষোভ মিটিল না, তখন সে জমিদার বাড়িতে নালিশ করিতে গেল এবং এই বলিয়া শাসাইয়া গেল যে চৌধুৰীমশাই এর বিলন করেন ভালই, না হইলে সে সদরে গিয়া এক নম্বর রুজু করিবে—তবে তার নাম শিবু সামন্ত । - ওদিকে শম্ভু বাঁশপাত-কাড়ার কৰ্ত্তব্যটা শেষ করিয়াই মনের মুখে হাল গরু লইয়া মাঠে চলিয়া গিয়াছিল। স্ত্রীর নিষেধ শুনে নাই। বাটতে ছোটবে একা । ইতিমধ্যে ভাণ্ডর মাসিয়া টংকারে পাড়া জড় করিয়া বীরপে এক তরফ জয়ী श्ब्रां চলিয়া গেলেন, ভাদ্রবধু হইয়া সে সমস্ত কানে শুনিয়াও একটা কথারও জবাব দিতে পারিল না। ইহাতে তাহার মনস্তাপ ও স্বামীর বিরুদ্ধে নতুন অভিমানের অবধি ৰহিল না। সে রান্নাঘরের দিকেও গেল না। বিরস-মুখে দাওয়ার উপর পা ছড়াইয়া বসিয়া বুহিল । 摄 শিবুর বাড়িতেও সেই দশা। বড়বে প্রতিজ্ঞা করিয়া স্বামীর পথ চাহিয়া বসিয়া আছে। হয় সে ইহার একটা বিহিত করুক, নয় সে জলটুকু পৰ্যন্ত মুখে না দিয়া বাপের বাড়ি চলিয়া যাইবে। দু'টা বাশপাতার জন্তে দেওরের হাতে এত লাঞ্ছনা! বেলা দেড় প্রহর হইয়া গেল, তখনও শিবুর দেখা নাই। বড়বে ছট্‌ফট্‌ করিতে লাগিল, কি জানি চৌধুরীমশায়ের বাটা হইতেই বা তিনি এক নম্বর রন্ধু করিতে সোজা সদরে চলিয়া গেলেন । এমন সময় বাহিরের দরজায় বানাৎ করিয়া সজোরে ধাক্কা দিয়া শঙ্কুর বড়ছেলে গত্বারাম প্রবেশ করিল। বয়স তাহার ষোল-সতের, কিংবা এমনি ७कछै किडू । किरू ३8 ● भांबणांब्र शत्र এই বয়সেই ক্রোধ এবং ভাষাটা তাহার বাপকেও ডিজাইৱা গিয়াছিল। সে গ্রামের মাইনর স্কুলে পড়ে। আজকাল মর্নিং-ইস্কুল, বেলা সাড়ে দশটায় ইস্থলের ছুটি হইয়াছে। গয়ারামের যখন এক বৎসর বয়স তখন তার জননীৰ মৃত্যু হয়। তাহার পিতা איר পুনরায় বিবাহ করিয়া নূতন বধূ ঘরে জানিল বটে, কিন্তু এই ম-মর ছেলেটিকে • মানুষ করিবার দায় জ্যাঠাইমার উপরেই পড়িল এবং এতকাল দুই ভাই পৃথক নী হওয়া পর্য্যন্ত এ-ভার তিনিই বহন করিয়া জাসিতেছিলেন। বিমাতার সহিত তাহার কোনদিনই বিশেষ কোনও সম্বন্ধ ছিল না—এমন কি, তাহার নূতন বাড়িতে উঠিৱ। যাওয়ার পরেও গয়ারাম যেখানে যেদিন সুবিধা পাইত আহার করিয়া লইত । আজ সে ইস্কুলের পর বাড়ি চুকিয়া বিমাতার মুখ এবং আহারের বন্দোবস্ত দেখিয় প্ৰজলিত হুতাশনবং এ-বাড়িতে আসিতেছিল। জ্যাঠাইমার মুখ দেখিয়া তাহার সেই আগুনে জল পড়িল না, কেরোসিন পড়িল । সে কিছুমাত্র ভূমিকা না করিয়া কহিল, ভাত দে জ্যাঠাইমা ! & জ্যাঠাইমা কথা কহিলেন না, যেমন বসিয়াছিলেন তেমনি বসিয়া রহিলেন । ক্ষুদ্ধ গয়ারাম মাটিতে একটা পা ঠুকিয়া বলিল, ভাত দিবি, না দিবিনে, তা বল! গঙ্গামণি সক্রোধে মুখ তুলিয়া তর্জন করিয়া কহিলেন, তোর জন্তে ভাত রোধে ৰসে আছি—তাই দেব ! বলি তোর, সংমা অাবাগী ভাত দিতে পারলে না যে এখানে এসেছিল হাঙ্গামা করতে ? গয়ারাম চেঁচাইর বলিল, সে আবাণীর কথা জানিনে। তুই দিবি কি না বল ? না দিবি ত চললুম আমি তোর হাড়ি-কুঁড়ি ভেঙে দিতে। বলিয়া সে গোলার নীচে চ্যালকাঠের গাদ হইতে একটা কাঠ তুলিয়া সবেগে রন্ধনশালার অভিমুখে চলিল । জ্যাঠাইম সভরে চীংকার করিয়া উঠিলেন, গয়া ! হারামজাদ দস্তি ! বাড়াবাড়ি করিসনে বলচি ! ছ'দিন হয়নি আমি নতুন ধাড়ি-কুঁড়ি কেড়েচি, একটা-কিছু ভাঙলে তোর জ্যাঠাকে দিয়ে তোর একখানা পা যদি না ভাঙাই ত তখন বলিস ই . গৱারাম রান্নাঘরের শিকলটায় হাত দিয়াছিল, হঠাৎ একটা স্তন কথা মনে পড়ায় সে অপেক্ষাকৃত শাস্তভাবে ফিরিয়া আসিয়া বলিল, আচ্ছা ভাত না দিল না দিবি । আমি চাইলে । নদীর ধারে বটতলায় বামুনদের মেয়ের সব ধামা ধাম চি ড়েমুড়কি নিয়ে পূজো করচে, যে চাইচে দিচ্ছেদেখে এলুম। আমি চললুম তেনাদের কাছে। গঙ্গামণির তৎক্ষণাং মনে পড়িয়া গেল, আজ অরণ্যষষ্ঠী, এবং একমুহূর্তেই তাহার মেজাজ কড়ি হইতে কোমলে নামিয়া আসিল । তথাপি মুখের জোর রাখিস্থ কছিলেন। তাই যা না। কেমন খেতে পাস দেখি ? "१ 总娜》 الإجاسسسه ه لا শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ দেখিল তখন, বলিয়া গয়া একখানা ছেড়া গামছা টানিয়া লইয়া কোমরে জড়াইয়া প্রস্থানের উদ্যোগ করিতেই গঙ্গামণি উত্তেজিত হইয়া বলিলেন, আজ ষষ্ঠীর দিনে পয়েন্ত্র ঘরে চেয়ে খেলে তোর কি দুৰ্গতি করি, তা দেখিস হতভাগা ! গয়া জবাব দিল না। রান্নাঘরে ঢুকিয় এক-খামচ তেল লইয়া মাথায় ঘষিতে ঘষিতে বাহির হইয়া যায় দেখিয়া জ্যাঠাইমা উঠানে নামিয়া আসিয়া ভয় দেখাইয়া কহিলেন, দস্তি কোথাকার! ঠাকুর-দেবতার সঙ্গে গোয়ারতুমি ! ডুব দিয়ে ফিরে না এলে ভাল হবে না বলে দিচ্চি । আজ আমি রেগে রয়েচি । কিন্তু গয়ারাম ভৱ পাইবার ছেলে নয়। সে শুধু দাত বাহির করিয়া জ্যাঠাইমাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ প্রদর্শন করিয়া চুটিয়া চুলিয়া গেল। গঙ্গামণি তাহার পিছনে পিছনে রাস্তা পর্য্যস্ত আসিয়া টেচাইতে লাগিলেন, আঞ্জ ষষ্ঠীর দিন কার ছেলে ভাত খায় যে, তুই ভাত খেতে চাল ? পাটালি-গুড়ের সন্দেশ দিয়ে, চাপা কলা দিয়ে, দুধ দই দিয়ে ফলার করা চলে না যে, তুই ষাবি পরের ঘরে চেয়ে খেতে ? কৈবর্তের ঘরে তুমি এমনি নবাব জন্মেচ ? গয়া কিছু দূরে ফিরিয়া দাড়াইয়া বলিল, তবে তুই দিলিনি কেন পোড়ারমুখি ? কেন বললি, নেই ? গঙ্গামণি গালে হাত দিয়া অবাক হইয়া বলিলেন, শোন কথা ছেলের । কখন আবার বললুম তোকে, কিছু নেই ? কোথায় চান, কোথায় কি, দশুির মত ঢুকেই বলে, দে ভাত ! ভাত কি আজ খেতে আছে যে দেব ! আমি বলি, সবই ত মজুত, ডুবট দিয়ে এলেই— গয়া বলিল, ফলার তোর পচুক । রোজ রোজ আবাগীরা ঝগড়া করে রান্নাঘরের শেকল টেনে দিয়ে পা ছড়িয়ে বসে থাকবে, আর রোজ আমি তিনপোর বেলায় ভাতে-ভাত খাব ? না আমি তোদের কারুর কাছে খেতে চাইনে, বলিয়া সে হন হন করিয়া চলিয়া যায় দেখিয়া গঙ্গামণি সেইখানে দাড়াইয়া কাদ-কাঙ্গ গলায় চেচাইতে লাগিলেন, আজ ষষ্ঠীর দিনে কারে কাছে চেয়ে খেয়ে অমঙ্গল করিসনে গয়া-লক্ষ্মী বাপ আমার— ন হয় চারটে পয়সা দেবো রে, শোন— - গয়ারাম ক্ৰক্ষেপও করিল না, দ্রুতবেগে প্রস্থান করিল । বলিতে বলিতে গেল, চাইনে আমি ফলায়, চাইনে আমি পয়সা । তোর ফলারে আমি—ইত্যাদি ইত্যাদি । সে দৃষ্টির অন্তরালে চলিয়া গেলে গঙ্গামণি বাড়ি ফিরিয়া রাগে, দুঃখে, অভিমানে নিজীবের মত দাওয়ার উপর বসিয়া পড়িলেন এবং গয়ার কুব্যবহারে মৰ্ম্মাহত হইয়া তাহার বিমাতার মাথা খাইতে লাগিলেন। ॐ 8रै भांधलांबू झळन কিন্তু নদীর পথে চলিতে চলিতে গয়ার জ্যাঠাইমার কথাগুলা কানে বাজিতে লাগিল। একে উত্তম জাহারের প্রতি স্বভাবতঃই তাহার একটু অধিক লোভ ছিল। পাটালি-গুড়ের সন্দেশ, দধি, দুগু, চাপাকলা—তাহার উপর চার পয়সা দক্ষিণা—মনটা তাহার দ্রুত নরম হইয়া আসিতে লাগিল । স্নান সারিয়া গয়ারাম প্রচও ক্ষুধা লইয়া ফিরিয়া আসিল। উঠানে দাড়াইয়া ডাক দিল, ফলারের সব শীগগির নিয়ে আয় জ্যাঠাইমা—আমার বডড ক্ষিদে পেয়েচে । কিন্তু পাটালি-সন্দেশ কম দিবি ত আজ তোকেই খেয়ে ফেলব। গঙ্গামণি সেইমাত্র গরুর কাজ করিতে গোয়ালে ঢুকিয়াছিলেন। গয়ার ডাক শুনিয়া মনে মনে প্রমাদ গনিলেন। ঘরে দুধ দই চিড়া গুড় ছিল বটে, কিন্তু চাপকলাও ছিল না, পাটালি-গুড়ের সন্দেশও ছিল না। তখন গয়াকে আটকাইবার জন্য ষা মুখে আসিয়াছিল তাই বলিয়া লোভ দেখাইয়াছিলেন। তিনি সেইখান হইতে সাড়া দিয়া কহিলেন, তুই ততক্ষণ ভিজে কাপড় ছাড় বাবা, আমি পুকুর থেকে হাত ধুয়ে আসছি। শীগগির আয়, বলিয়া হুকুম চালাইয়া গয়া কাপড় ছাড়িয়া নিজেই একটা অসম পাতিয়া ঘটিতে জল গড়াইয়া প্রস্তুত হইয়া বসিল । গঙ্গামণি তাড়াতাড়ি হাত ধুইয়া আসিয়া তাহার প্রসন্ন মেজাজ দেখিয়া খুশি হইয়া বলিলেন, এই ত আমার লক্ষ্মী ছেলে। কথায় কথায় কি রাগ করতে আছে বাবা ! বলিয়া তিনি ভাড়ার হইতে আহারের সমস্ত আয়োজন আনিয়া সম্মুখে উপস্থিত করিলেন । গধারাম চক্ষের পলকে উপকরণগুলি দেখিয়া লইয়া তীক্ষু-কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিল, চাপাকলা কই ? গঙ্গামণি ইতস্ততঃ করিয়া কহিলেন, ঢাকা দিতে মনে নেই বাবা, সব কটা ইদুরে খেয়ে গেছে। একটা বেড়াল না পুষলে আর নয় দেখচি । গয়া হাসিয়া বলিল, কলা কখন ইছরে খায় ? তোর ছিল না তাই কেন বল না ? গঙ্গামণি অবাক হইয়া কহিলেন, সে কি কথা রে । কলা ইদুরে খায় না ? গয়া চিড়-দই মাখিতে মাখিতে বলিল, আচ্ছ খায়, খায় ; কলা আমার দরকার নেই, পাটালি-গুড়ের সন্দেশ নিয়ে আয় । কম আনিসনি যেন । জ্যাঠাইমা পুনরায় ভাড়ারে চুকিয় মিছামিছি কিছুক্ষণ হাড়ি-কুঁড়ি নাড়িয়া সভয়ে বলিয়া উঠিলেন, যাঃ–এও ইম্বন্ধে খেয়ে গেছে বাবা, একফোটা নেই, কখন মন-ভুলাস্তে স্থাড়ির মুখ খুলে রেখেচি Res শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তাহার কথা শেষ না হইতেই গয়া চোখ পাকাইয়া চেঁচাইয়। উঠিল, পাটালি-গুড় কখম ইম্বরে থায় রাক্ষসী—আমার সঙ্গে চালাকি ? তোর যদি কিছু নেই, তবে কেন জামাকে ডাকলি । জ্যাঠাইমা বাহিরে জাসিয়া বলিলেন, সত্যি বলচি গয়া— গয়া লাফাইয়া উঠিয়া কহিল, তৰু বলচ সত্যি, যা—আমি তোর কিছু খেতে চাইনে, বলিয়া সে পা দিয়া টান মারিয়া সমস্ত আয়োজন উঠানে ছড়াইয়া ফেলিয়া দিয়া বলিল, আচ্ছা, আমি দেখাচ্ছি মজা, বলিয়া সে সেই চ্যালা-কাঠটা হাতে তুলিয়া ভাড়ারের দিকে ছুটিল। গঙ্গামণি ই ই করিয়া ছটিয়া গিয়া পড়িলেন, কিন্তু চক্ষের নিমিষে ক্রুদ্ধ গয়ারাম ছাড়ি-কুঁড়ি ভাঙ্গিয়া জিনিস-পত্র ছড়াইয়া একাকার করিয়া দিল। বাধা দিতে গিয়া তিনি হাতের উপর সামান্ত একটু আঘাত পাইলেন। ঠিক এমনি সময়ে শিৰু জমিদার-বাট হইতে ফিরিয়া আসিল । হাঙ্গামা শুনিয়া চীংকার-শব্দের কারণ জিজ্ঞাসা করিতেই গঙ্গামণি স্বামীর সাড়া পাইয়া কাদিয়া উঠিলেন এবং গয়ারাম হাতের কাঠটা ফেলিয়। দিয়া উৰ্দ্ধশ্বাসে দৌড় মারিল । শিৰু ক্রুদ্ধস্বরে প্রশ্ন করিল, ব্যাপার কি ? গঙ্গামণি কাদিয়া কহিল, গয়া আমার সর্বস্ব ভেঙ্গে দিয়ে হাতে আমার এক ঘা বসিয়ে দিয়ে পালিয়েছে—এই দেখ ফুলে উঠেচে । বলিয়া সে স্বামীকে হাতটা দেখাইল । শিবুর পশ্চাতে তাহার ছোট-সম্বন্ধী ছিল । হ’সিয়ার এবং লেখাপড়া জানে বলিয়া জমিদার-বাটতে যাইবার সময় শিৰু তাহাকে ও-পাড়া হইতে ডাকিয়া লইয়া গিয়াছিল। সে কহিল, সামন্তমশাই, এ সমস্ত ঐ ছোট-সামন্তর কারসাজি । ছেলেকে দিয়ে সে-ই এ-কাজ করিয়েচে । কি বল দিদি, এই নয় ? গঙ্গামণির তখন অস্তর জলিতেছিল, সে তৎক্ষণাৎ ঘাড় নাড়িয়া কহিল, ঠিক তাই । ওই মুখপোড়াই ছোড়াকে শিখিয়ে দিয়ে আমাকে মার খাইয়েচে । এর কি করবে তোমরা কর, নইলে আমি গলায় দড়ি দিয়ে মল্পব । এত বেল পৰ্য্যন্ত শিৰুর নাওয়া-খাওয়া নাই, জমিদারের কাছেও স্ববিচার হয় নাই, তাহাতে বাড়িতে পা দিতে না দিতে এই কাও, তাহার আর হিতাহিত জ্ঞান রহিল না। সে প্রচণ্ড একটা শপথ করিয়া বলিয়া উঠিল, এই আমি চললুম থানার দারোগার কাছে। এর বিহিত না করতে পারি ত আমি বিন্দু সামন্তর ছেলে নই। তাহার শালা লেখাপড়া-জানা লোক, বিশেষতঃ তাহার গয়ার উপর আগে হইতেই আক্রোশ ছিল । সে কহিল, আইন-মতে এর নাম অনধিকার-প্রবেশ । লাঠি নিয়ে ,酸梯● भांश्वजांद्र शृण বাড়ি চড়াও হওয়া, জিনিসপত্র ভাঙা, মেঘেমামুষের গাৱে হাত তোলা—এর শাস্তিছ'মাস জেল। সামস্তমশাই, তুমি কোমর বেঁধে দাড়াও দেখি, আমি কেমন না বাপবেটাকে একসঙ্গে জেলে পুরতে পারি। শিবু আর দ্বিরুক্তি করিল না, সম্বন্ধীর হাত ধরিয়া থানার দারোগার উদ্দেশে প্রস্থান করিল। গঙ্গামণির সকলের চেয়ে বেশী রাগ পড়িয়াছিল দেবর ও ছোটবন্ধুর উপর। লে এই লইয়া একটা হুলস্থল করিবার উদ্বেপ্তে কবাটে শিকল তুলিয়া দিয়া সেই চ্যালাকাঠ হাতে করিয়া সোজা শঙ্কুর উঠানে জাসিয়া দাড়াইল। উচ্চকণ্ঠে কহিল, কেমন গে। ছোটকৰ্ত্তা, ছেলেকে দিয়ে আমাকে মার খাওয়াৰে । এখন বাপ-বেটায় একসঙ্গে ফাটকে যাও । শন্তু সেইমাত্র তাহার এ-পক্ষের ছেলেটাকে লইয়া ফলার শেষ করিয়া দাড়াইয়াছে, বড়ভাজের মূৰ্ত্তি এবং তাহার হাতের চাল-কাঠটা দেখিয়া হতবুদ্ধি হইয়া গেল। কহিল, হয়েচে কি ? আমি ত কিছুই জানিনে । - গঙ্গামণি মুখ বিকৃত করিয়া জবাব দিল, আর স্থাক সাজতে হবে না। দারোগ আলচে, তার কাছে গিয়ে ব’লে, কিছুই জান কি না ? ছাটবে। ঘর হইতে বাহির হইয়া একটি খুটি ঠেস দিয়া নিঃশব্দে দাড়াইল। শঙ্কু মনে মনে ভয় পাইয়া কাছে আসিয়া গঙ্গামণির হাত চাপিয়া ধরিয়া কহিল, মাইরি বলচি বড়বৌঠান, আমরা কিছুই জানিনে। কথাটা যে সত্য, বড়বে তাহা নিজেও জানিত, কিন্তু তখন উদারতার সময় নয়। সে শস্তুর মুখের উপরেই ষোল-আনা দোষ চাপাইয়া, সত্য-মিথ্যায় জড়াইয়া গয়ারামের কীৰ্ত্তি বিবৃত করিল। এই ছেলেটাকে যাহারা জানে, তাহাদের পক্ষে ঘটনাটা অবিশ্বাস করা শক্ত । স্বল্পভাষিণী ছোটবোঁ এতক্ষণে মুখ খুলিল স্বামীকে কহিল, ক্যামন, যা বলেছিন্থ তাই হ’লো কি না— কতদিন বলি, ওগো, দস্তি ছোড়াটাকে আর ঘরে ঢুকতে দিয়োনি ; তোমার ছোট ছেলেটাকে না-হক মেরে মেরে কোনদিন খুন করে ফেলবে। তা গেরাহিই হয় না—এখন কথা খাটল ত ? শঙ্কু অম্বন করিা গঙ্গামণিকে কহিল, আমার দিব্যি বড়বৌঠান, দাদা সত্যি নাকি খানায় গেছে ? তাহার করুণ কণ্ঠস্বরে কতকটা নরম হইবা বড়বে জোৱ দিয়া বলিল, তোমার দিব্যি ঠাকুরপো গেছে, সঙ্গে আমাদের পাচুও গেছে। २86 শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ শন্তু অত্যন্ত ভীত হইয়া উঠিল। ছোটবে স্বামীকে লক্ষ্য করিয়া বলিতে লাগিল, নিত্যি বলি দিদি, কোথায় যে নদীর ওপর সরকারি পুল হচ্ছে, কত লোক খাটতে যাচ্ছে, সেথায় নিয়ে গিয়ে ওরে কাজে লাগিয়ে দাও। তার চাবুক মারবে আর কাজ করাবে-পালাবার জোঁ-টি নেই—দু’দিনে সোজা হয়ে যাবে। তা না, ইস্কুলে দিয়েচি পড়ুক ! ছেলে যেন ওঁর উকিল-মোক্তার হবে। শম্ভু কাতর হইয়া বলিল, আরে সাধে কি দিইনি সেখানে! সবাই কি ঘরে ফিরতে পায়, অৰ্দ্ধেক লোক মাটি চাপা পড়ে কোথায় তলিয়ে যায় তার তল্লাসই মেলে न1 ।। - ছোটবে বলিল, তবে বাপ-ব্যাটাতে মিলে ফাটকে খাট গে যাও। বড়বে চুপ করিয়া রহিল। শম্ভু তাহার হাতটা ধরিয়া বলিল, আমি কালই ছোড়াকে নিয়ে গিয়ে পাচলার পুলের কাজে লাগিয়ে দেব বৌঠান, দাদাকে ঠাণ্ড কর । আর এমন হবে না । তাহার স্ত্রী কহিল, ঝগড়-বর্ণটি ত শুধু ঐ ড্যাকুরার জন্তে । তোমাকেও ত কতবার বলিচি দিদি, ওরে ঘরে- দোরে ঢুকতে দিয়ে না—আস্কার দিয়ে না। আমি বলিনে তাই, নইলে ও-মাসে তোমাদের মৰ্ত্তমান কলার কাদিটে রাত্তিরে কে কেটে নিয়েছিল ? সে ত ঐ দস্তি। যেমন কুকুর তেমন মুগুর না হলে কি চলে ? পুলের কাজে পাঠিয়ে দাও, পাড়া জুডুক । শম্ভু মাতৃদিব্য করিল যে, কাল যেমন করিয়া হোক ছোড়াকে গ্রাম-ছাড়া করিয়া তবে সে জল-গ্ৰহণ করিবে । গঙ্গামণি এ-কথাতেও কোন কথা কহিল না, হাতের কাঠটা ফেলিয়া দিয়া নিঃশব্দে বাড়ি ফিরিয়া গেল । স্বামী, ভাই এখনও অভূক্ত। অপরাহ্নবেলায় সে বিষণ্ণ-মুখে রান্নাঘরের দোরে বসিয়া তাহদের খাবার আয়োজন করিতেছিল, গয়ারাম উকি-ঝুকি মারিয়া নিঃশব্দপদে প্রবেশ করিল । বাটীতে আর কেহ নাই দেখিয়া সে সাহসে ভর করিয়া একেবারে পিছনে আসিয়া ডাক দিল, জ্যাঠাইমা ! জ্যাঠাইমা চমকিয় উঠলেন, কিন্তু কথা কহিলেন না। গম্বারাম অদূরে ক্লাস্তভাবে ধপাস করিয়া বসিয়া পড়িয়া কহিল, আচ্ছ যা আছে তাই দে, আমার বডড ক্ষিধে পেয়েচে । ఇస్రి মামলার ফল খাবার কথায় গঙ্গামণির শাস্ত ক্ৰোধ মুহূর্বে প্রজ্জ্বলিত হইয়া উঠিল। তিনি তাহাৰ মুখের প্রতি না চাহিয়াই সক্রোধে বলিয়া উঠলেন, বেহাৱা ! পোড়ারমুখো! আবার আমার কাছে এসের্চিস ক্ষিণে বলে । দূৰ হ এখান থেকে। গয়া কহিল, দূর হব তোর কথায় ? জ্যাঠাইমা ধমক দিয়া কহিলেন, হারামজাদ, নচ্ছার! আমি জাবার দেব খেতে । গয়া বলিল, তুই দিবিনি ত কে দেবে ? কেন তুই ইদুরের দোষ দিয়ে মিছে কথা বললি ? কেন ভাল করে বললিনি, বাবা, এই দিয়ে খা, আজ আর কিছু নেই। তা হলে ত আমার রাগ হয় না । দে না খেতে শীগগির রাক্ষুসী, আমার পেট যে জলে গেল ! জ্যাঠাইমা ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া মনে মনে একটু নরম হইয়া বলিলেন, পেট জলে থাকে তোর সংমার কাছে যা । বিমাতার নামে গয়া চক্ষের পলকে আগুন হইয়া উঠিল। . বলিল, সে আবাণীর না-কি আমি আর মুখ দেখব ? শুধু ঘরে আমার ছিপটা আনতে গেছি বলে, দূর | দূৰ । এইবার জেলের ভাত খে গে যা। আমি বললুম, তোদের ভাত আমি খেতে আসিনি —মামি জ্যাঠাইমার কাছে যাচ্ছি। পোড়ারমূখী কম শয়তান ! ঐ গিয়ে লাগিয়েচে বলেই ত বাব৷ তোর হাত থেকে বঁাশ-পা ৩ কেড়ে নিয়েচে । বলিয়া সে সজোরে মাটিতে একটা পা ঠুকিয়া কহিল, তুই রাক্ষুদী নিজে পাতা আনতে গিয়ে অপমান হলি ? কেন আমায়ু বললিনি ? ঐ বঁাশঝাড় সমস্ত আমি যদি না আগুন দিয়ে পোড়াই ত আমার নাম গয়া নয়, তা দেখিল ! আবাণী আমাকে বললে কি জানিস জ্যাঠাইমা ? বললে, তোর জ্যাঠাইম থানায় খবর পাঠিয়েচে, দারোগ এসে বেঁধে নিয়ে তোকে জেল দেবে। গুনলি কথা হতভাগীর ? গঙ্গামণি কহিলেন, তোর জ্যাঠামশাই পাচুকে সঙ্গে নিয়ে গেছেই ত থানায়। জুই আমার গায়ে হাত তুলিস্—এতবড় তোর স্পৰ্দ্ধা ! পাচুমামাকে গয়া একেবারে দেখিতে পারিত না। সে আবার যোগ দিয়াছে শুনিয়া জলিয়া উঠিয়া বলিল, কেন তুই রাগের সময় জামায় আটকাতে গেলি ? গঙ্গামণি বলিলেন, তাই আমাকে মারবি ? এখন যা, ফাটকে বাধা থাক গে বা । शश्च वृकाकूई cमथाश्व बणिण, श्ः-छूई आयाप्क शप्लेक मिपि ? न न, नित्य একবার মজা দেখ না। আপনি কেঁদে কেঁদে মরে যাবি-জামার কি হবে । গঙ্গামণি কহিলেন, আমার বয়ে গেছে কাদতে। যাঁ, আমার স্বমুখ থেকে ধ বলচি, শহুৰ বালাই কোথাকার । ❖ $ ዊ শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ

  • গয়া টেচাইৱা কহিল, তুই আগে খেতে দে না, তবে ত যাব। কখন সাত সকালে ছুটি মুড়ি খেয়েচি বল ত ? ক্ষিদে পায় না আমার ?

গঙ্গামণি কি একটা বলিতে যাইতেছিলেন, এমন সময় শিবু পাচুকে লইয়া থানা হইতে ফিরিয়া আসিল এবং গয়ার প্রতি চোখ পড়িবামাত্রই বারুদের মত জলিয়া উঠিয়া চীংকার করিল, হারামজাদ পাজী, আবার আমার বাড়ি ঢুকেচে ! বেরো, বেরো বলচি ৷ পাচু, ধরত শুয়োরকে। * বিছাৰেগে গয়ারাম দরজা দিয়া দৌড় মারিল । চেচাইয়া বলিয়া গেল—পেচেশালার একটা ঠ্যাং না ভেঙ্গে দিই ত আমার নামই গয়ারাম নয় । চক্ষের পলকে এই কাণ্ড ঘটিয়া গেল। গঙ্গামণি একটা কথা কহিবারও অবকাশ পাইল না । 3.” ক্রুদ্ধ শিৰু স্ত্রীকে বলিল, তোর আস্কার পেয়েই ও এমন হচ্চে। আর যদি কখন হারামজাদাকে বাড়ি ঢুকতে দিস ত তোর অতি বড় দিব্যি রইল। পাচু বলিল, দিদি, তোমাদের কি, আমারই সৰ্ব্বনাশ। কখন রাত-ভিতে লুকিয়ে আমার ঠ্যাঙেই ও ঠ্যাঙ মারবে দেখfচ । শিবু কহিল, কাল সকালেই যদি না পুলিশ-পেয়াদ দিয়ে ওর হাতে দড়ি পরাই ত জামার-ইত্যাদি ইত্যাদি । গঙ্গামণি কাঠ হইয়া বসিয়া রহিল—একটা কথাও তাহার মুখ দিয়া বাহির হইল না। ভীতু পাঁচকড়ি সে-রত্রে আর বাড়ি গেল না। এইখানে শুইয়া রহিল। পরদিন বেলা দশটার সময় ক্রোশ-দুই দুরের পথ হইতে দারোগ উপযুক্ত দক্ষিণাদি গ্রহণ করিয়া পান্ধী চড়িয়া কনেস্টবল ও চৌকিদারাদি সমভিব্যাহারে সরঞ্জমিনে তদন্ত করিতে উপস্থিত হইলেন। অনধিকার-প্রবেশ, জিনিস-পত্র তছ রুপ চ্যালাকাঠের দ্বারা স্ত্রীলোকের অঙ্গে প্রহার—ইত্যাদি বড় বড় ধারার অভিযোগ-সমস্ত গ্রামে একটা হুলস্থল পড়িয়া গেল । প্রধান আসামী গয়ারাম—তাহাকে কৌশলে ধরিয়া জানিয়া হাজির করিতেই সে কনেস্টবল চৌকিদার প্রভৃতি দেখিয়া ভয়ে কাদিয়া ফেলিয়া বলিল, আমাকে কেউ দেখতে পারে না বলে আমাকে ফাটকে দিতে চায় । দারোগ বুড়ামানুষ। তিনি আসামীর বয়স এবং কান্না দেখিয়া'দয়াপ্রচিত্তে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাকে কেউ ভালবাসে না গয়ারাম ? Ն ՅԵ भों★लांबू कडण গয়া কহিল, আমাকে শুধু আমার জ্যাঠাইমা ভালবাসে, আর কেউ না। দারোগ প্রশ্ন করিল, তবে জ্যাঠাইমাকে মেয়েচ কেন ? গয়া বলিল, ন, মারিনি । কবাটের আড়ালে গঙ্গামণি দাড়াইয়াছিলেন, সেইদিকে চাহিয়া কহিল, তোকে আমি কখন মেরেচি জ্যাঠাইমা ? পাচু নিকটে বসিয়াছিল, সে একটু কটাক্ষে চাহিয়া কহিল, দিদি, হুজুর জিজ্ঞেসা করচেন, সত্যি কথা বল। ও কাল দুপুরবেলা বাড়ি চড়াও হয়ে—কাঠের বাড়ি তোমাকে মারেনি ? ধৰ্ম্মাবতারের কাছে যেন মিথ্যা কথা ব’লে না । গঙ্গামণি অফুটে যাহা কহিলেন, পাচু তাহাই পরিস্ফুট করিয়া বলিল, ই হুজুর, আমার দিদি বলচেন, ও মেরেচে। গয়া অগ্নিমূৰ্ত্তি হইয়া চেচাইয়া উঠিল, আখ, পেচে, তোর আমি না পা ভাঙি ত— রাগে কথাটা তার সম্পূর্ণ হইতে পাইল না—কাদিয়া ফেলিল । পাচু উত্তেজিত হইয়া বলিয়া উঠিল, দেখলেন হুজুর । দেখলেন ! হজুরের স্বমুখেই বলচে পা ভেঙে দেবে—আড়ালে ও খুন করতে পারে। ওকে বাধবার হুকুম হোক। দারোগা শুধু একটু হাসিলেন। গয়া চোখ মুছিতে মুছিতে বলিল, আমার মা নেই তাই ! নইলে—এবারেও, কথাটা তাহার শেষ হইতে পারিল না । যে মাকে তাহার মনেও নাই, মনে করিবার কখনও প্রয়োজনও হয় নাই, আজ বিপদের দিনে অকস্মাৎ তাহাকেই ডাকিয় সে ঝরঝর করিয়া কাদিতে লাগিল । দ্বিতীয় আসামী শঙ্কুর বিরুদ্ধে কোন কথাই প্রমাণ হইল না। দায়োগাবাবু আদালতে নালিশ করিবার হুকুম দিয়া রিপোর্ট লিখিয়া লইয়া চলিয়া গেলেন। পাচু মামলা চালানোর, তাহার যথারীতি তদ্বিরাদির দায়িত্ব গ্রহণ করিল এবং তাহার ভগিনীর প্রতি গুরুতর অত্যাচারের জন্ত গয়ার যে কঠিন শাস্তি হইবে, এই কথা চতুদিকে বলিয়া বেড়াইতে লাগিল । কিন্তু গয়া সম্পূর্ণ নিরুদেশ। পাড়া-প্রতিবেশীর শিবুর এই আচরণের নিন্দ করিতে লাগিল। শিবু তাহাদের সহিত লড়াই করিয়া বেড়াইতে লাগিল, শিবুর স্ত্রী একেবারে চুপচাপ । সেদিন গয়ার দূর-সম্পর্কের এক মাসী খবর শুনিয়া শিবুর বাড়ি বহিয় তাহার স্ত্রীকে যা ইচ্ছা তাই বলিয়া গালি-গালাঙ্গ করিয়া গেল, কিন্তু গঙ্গামণি একেবারে নির্বাক ङ्हेब ब्रश्णि । - শিৰু পাশের বাড়ির লোকের কাছে এ-কথা শুনিয়া রাগ করিয়া স্ত্রীকে কহিল, তুই চুপ করে রইলি ? একটা কথাও বললিনে ? 令g> 》●哥一姆及 শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ শিবুর স্ত্রী কহিল, না । শিবু বলিল, আমি বাড়ি থাকলে মাগীকে কাটা-পেটা করে ছেড়ে দিতুম। তাহার স্ত্রী কহিল, তা হলে আজ থেকে বাড়িতেই বসে থেকে, আর কোথাও বেরিও না । বলিয়া নিজের কাজে চলিয়া গেল । সেদিন দুপুরবেল শিৰু বাড়ি ছিল না। শঙ্কু মাসিয়া বঁাশঝাড় হইতে গোটাকয়েক বঁাশ কাটিয়া লইয়া গেল। শব্দ শুনিয়া শিবুর স্ত্রী বাহিরে আলিয়া স্বচক্ষে সমস্ত দেখিল । কিন্তু বাধা দেওয়া দূরে থাকুক আজ সে কাছেও ঘোঁধিল না, নিঃশবে ঘরে ফিরিয়া গেল। দিন-দুই পরে সংবাদ শুনিয়া শিবু লাফাইতে লাগিল। স্ত্রীকে আসিয়া কহিল, তুই কি কানের মাথা খেয়েচিস ? ঘরের পাশ থেকে সে বঁাশ কেটে নিয়ে গেল, আর তুই টের পেলি না ? তাহার স্ত্রী বলিল, কেন টের পাব না, আমি চোখেই ত সব দেখিচি । শিবু কুদ্ধ হইয়া কহিল, তবু আমাকে তুই জানালিনে ? গঙ্গামণি বলিল, জানাব আবার কি ? বঁাশঝাড় কি তোমার একার } ঠাকরপোর তাতে ভাগ নেই ? শিবু বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হইয়া শুধু কহিল, তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে ? সেদিন সন্ধ্যার পর পাচু সদর লইতে ফিরিয়া আসিয়া শাস্তভাবে ধপ করিয়া বসিয়া পড়িল । শিবু গরুর জন্য খড় কুচাইতেছিল, অন্ধকারে তাহার মুখের চোখের চাপ হাসি লক্ষ্য করিল না—সভয়ে জিজ্ঞাসা করিল, কি হ’লে ? পাচু গাম্ভীর্য্যের সহিত একটু হাস্ত করিয়া কহিল,পাচু থাকলে যা হয় তাই । ওয়ারেন্ট বের করে তবে আসচি। এখন কোথায় আছে জানতে পারলেই হয়। শিবুর একপ্রকার ভয়ানক জিদ চড়িয়া গিয়াছিল। সে কহিল, যত খরচ হোক ছোড়াকে ধরাই চাই । তাকে জেলে পুরে তবে আমার অন্য কাজ । তার পরে উভয়ের নানা পরামর্শ চলিতে লাগিল। কিন্তু রাত্রি এগারোটা বাজিয়া গেল, ভিতর হইতে আহারের আহবান আসে না দেখিয়া শিবু আশ্চৰ্য্য হইয়া রান্নাঘরে গিয়া দেখিল ঘর অন্ধকার । শোবার ঘরে ঢুকিয়া দেখিল, স্ত্রী মেঝের উপর মান্থর পাতিয়া শুইয়া আছে। ক্রুদ্ধ এবং আশ্চৰ্য্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, খাবার হয়ে গেছে ত আমাদের ডাকিসনি কেন ? গঙ্গামণি ধীরে-সুস্থে পাশ ফিরিয়া বলিল, কে রাধলে যে খাবার হয়ে গেছে ? ኟ¢ • भांभव्tद्र शङ শিবু তর্জন করিয়া প্রশ্ন করিল, র"াধিসনি এখনো ? গঙ্গামণি কহিল, না। আমার শরীর ভাল নেই, আজ আমি পারব না। নিদারুণ ক্ষুধায় শিবুর নাড়ী জলিতেছিল, সে আর সহিতে পারিল না। শাস্থিত স্ত্রীর পিঠের উপর একটা লাথি মারিয়া বলিল, আজকাল রোজ অসুখ, রোজ পারব না ! পারবিনে ত বেরে। আমার বাড়ি থেকে । গঙ্গামণি কথাও কহিল মা, উঠিয়াও বসিল না। যেমন শুইয়াছিল, তেমনি পড়িয়া রহিল । সে রাত্রে শালা-ভগিনীপতি কাহারও খাওয়া হইল না । সকালবেলা দেখা গেল গঙ্গামণি বাটতে নাই। এদিক-ওদিক কিছুক্ষণ খোজখুঞ্জির পর পাচু কহিল, দিদি নিশ্চয়ই আমাদের বাড়ি চলে গেছে। স্ত্রীর এই প্রকার আকস্মিক পরিবর্তনের হেতু শিবু মনে মনে বুঝিয়াছিল বলিয়া তাহার বিরক্তিও যেন উত্তরোত্তর বাড়িয়াছিল, নালিশ-মোকদ্দমার প্রতি ঝোকও তেমনি খাটাে হইয়া আসিতেছিল। সে শুধু বলিল, চুলোর যাক, আমার খোজবার দরকার নেই। বিকেলবেলা খবর পাওয়া গেল, গঙ্গামণি বাপের বাড়ি যায় নাই। পাচু ভরসা দিয়া কহিল, তা হলে নিশ্চয় পিসীমার বাড়ি চলে গেছে । 翰 তাহাদের এক বড়লোক পিসী ক্রোশ পাচ-ছয় দূরে একটা গ্রামে বাস করিতেন। পূজা-পৰ্ব্ব উপলক্ষে তিনি মাঝে মাঝে গঙ্গামণিকে লইয়া যাইতেন। শিবু স্ত্রীকে অত্যন্ত ভালবাসিত। সে মুখে বলিল, বটে, যেখানে খুশি যাক গে ! মরুক গে । কিন্তু ভিতরে ভিতরে অমৃতপ্ত এবং উইকষ্ঠিত হইয়া উঠিল । তবুও রাগের উপর দিন পাচ-ছয় কাটিয়া গেল। এদিকে কাজ-কৰ্ম্ম লইয়া, গরু-বাছুর লইয়া সংসার তাহার একপ্রকার অচল হইয়া উঠিল। একটাদিনও আর কাটে না এমনি হইল। সাতদিনের দিন সে আপনি গেল না বটে, কিন্তু নিজের পৌরুষ বিসর্জন দিয়া পিণীর বাড়িতে গরুর গাড়ি পাঠাইয়া দিল । পরদিন শূন্ত গাড়ি ফিরিয়া আসিয়া সংবাদ দিল সেখানে কেহ নাই। শিবু মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িল । সারাদিন স্নানাহার নাই, মড়ার মত একটা তক্তাপোষের উপর পড়িয়াছিল, পাচু অত্যন্ত উত্তেজিতভাবে ঘরে ঢুকিয়া কহিল, সামস্তমশাই, সন্ধান পাওয়া গেছে। শিবু ধড় মড় করিয়া উঠিয়া বসিয়া কহিল, কোথায় ? কে খবর দিলে । অস্থখবিমুখ কিছু হয়নি ত ? গাড়ি নিয়ে চল না এখুনি দু’জনে যাই । পাচু বলিল, দিদির কথা নয়— গয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। &t S শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ শিবু আবার গুইয়া পড়িল, কোন কথা কহিল না। তখন পাচু বহুপ্রকারে বুঝাইতে লাগিল যে, এ স্থযোগ কোনও মতে হাতছাড়া করা উচিত নয় । দিদি ত একদিন আসবেই, কিন্তু তখন আর এ-ব্যাটাকে বাগে পাওয়া যাবে না । শিবু উদাসকণ্ঠে বলিল, এখন থাক গে পাচু! আগে সে ফিরে আস্থক, তার পরে- * পাচু বাধা দিয়া কহিল, তারপরে কি আর হবে সামস্তমশাই, বরঞ্চ, দিদি ফিরে আসতে না আসতে কাজটা শেষ করা চাই । সে এসে পড়লে হয়ত আর হবেই না। শিবু রাজি হইল। কিন্তু আপনার খালিঘরের দিকে চাহিয়া পরের উপর প্রতিশোধ লইবার জোর আর সে কোনমতে নিজের মধ্যে খুজিয়া পাইতেছিল না। এখন পাচুর জোর ধার করিয়াই তাহার কাজ চলিতেছিল। পরদিন রাত্রি থাকিতেই তাহারা আদালতের পেয়াদা প্রভৃতি লইয়া বাহির হইয়া পড়িল। পথে পাচু জানাইল, বহু দুঃখে খবর পাওয়া গেছে, শস্তু তাহাকে পাচলার সরকারী পুলের কাজে নাম ভাড়াইয়া ভৰ্ত্তি করিয়া দিয়াছে—সেইখানেই তাহাকে গ্রেপ্তার করিতে হইবে। শিবু বরাবরই চুপ করিয়াই ছিল, তখনও চুপ করিয়া রহিল। তাহারা গ্রামে যখন প্রবেশ করিল তখন বেলা দ্বিপ্রহর । গ্রামের একপ্রাস্তে প্রকাও মাঠ, লোকজন, লোহা-লক্কড়, কল-কারখানায় পরিপূর্ব-সৰ্ব্বত্রই ছোট ছোট ঘর বাধিয়া জন-মজুরের বাস করিতেছে। অনেক জিজ্ঞাসাবাদের পর একজন কহিল, যে ছেলেটি সাহেবের বাংলা লেখাপড়ার কাজ করচে, সে ত ? তার ঘর ঐ ষে, বলিয়া একখানা ক্ষুদ্র কুটার দেখাইয়া দিল, তাহারা গুড়ি মারিয়া পা টিপিয়া অনেক কষ্ট্রে তাহার পাশে আসিয়া দাড়াইল। ভিতরে গয়ারামের গলা শুনিতে পাওয়া গেল। পাচু পুলকে উল্লসিত হইয়া পেয়াদ এবং শিবুকে লইয়া বীরপে অকস্মাৎ কুটারের উন্মুক্ত দ্বার রোধ করিয়া দাড়াইবামাত্রই তাহার সমস্ত মুখ বিস্ময়ে, ক্ষোভে নিরাশায় কালো হইয়া গেল। তাহার দিদি ভাত বাড়িয়া দিয়া একটা হাতপাখা লইয়া বাতাস করিতেছে এবং গয়ারাম ভোজনে বসিয়াছে। শিবুকে দেখিতে পাইয়া গঙ্গামণি মাথায় আঁচল তুলিয়া দিয়া শুধু কহিল, তোমরা একটু জিরিয়ে নিয়ে নদী থেকে নেয়ে এসো গে, আমি ততক্ষণ আর এক হাড়ি ভাত छक्लिद्ब्र मिट्टे । ३€ ¥