প্রধান মেনু খুলুন

মুসলিম সাহিত্য-সমাজ মুসলিম সাহিত্য-সমাজের দশম ৰাৰ্ষিক অধিবেশনে আমাকে আপনার সভাপতি নির্বাচন করেছেন। যদিও এর মাম দিয়েছেন মুসলিম সাহিত্য-সমাজ, তথাপি এই নিৰ্ব্বাচনের মধ্যে একটি পরম ঔদার্ঘ্য আছে। আমি হিন্দু অথবা মুসলমান সমাজের অন্তর্গত, আমি বহুদেবতাবাদী অথবা একেশ্বরবাদী এ প্রশ্ন আপনার করেননি। শুধু ভেবেছেন—আমি বাঙ্গালী, বঙ্গ-সাহিত্যের সেবায় প্রাচীন হয়েছি। অতএব, সাহিত্যিক দরবারে আমারও একটি স্থান আছে। সেই স্থানটি অকুণ্ঠচিত্তে আমাকে দিয়েছেন। আমিও আনন্দে সঙ্কতজ্ঞ মনে সেই দান গ্রহণ করেছি। ভাবি সকল বিষয়েই আজ যদি এমনি হতে পারত ! যে গুণী, যে মহৎ, যে বড়—সে হিন্দু হোক, মুসলমান হোক, ক্রীশ্চান হোক, স্পশু অস্পশু যা-ই হোক, স্বচ্ছন্দে সবিনয়ে র্তার যোগ্য আসন তাকে দিতে পারতাম । সংশয় দ্বিধা কোথাও কণ্টক রোপণ করতে পারতো না। কিন্তু যাক সে কথা। আমি পূৰ্ব্বে একটি পত্রে বলেছিলাম, সাহিত্যের তত্ত্ববিচার অনেক হয়ে গেছে। অনেক মনীষী, অনেক রসিক, অনেক অধিকারী বহুবার এর সীমানা এবং স্বরূপ নির্দেশ করে দিয়েছেন, সে আলোচনা আর প্রবর্তন করার আমার রুচি নেই। আমি বলি, সাহিত্য-সম্মিলন প্রবন্ধপাঠের জন্য নয়, সুতীক্ষু সমালোচনায় কাউকে ধরাশায়ী করার জন্য নয়, কে কত অক্ষম উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করার জন্য নয়, যে যা লিখেছে তার চেয়ে ভাল কেন লেখেনি, এ কৈফিয়ং আদায়ের জন্ত নয়, এ শুধু সাহিত্যিক সাহিত্যিকে মিলনক্ষেত্র। এর আয়োজন একের সঙ্গে অপরের ভাববিনিময় ও সম্যক পরিচয়ের জন্ত । আমার মনে পড়ে, বয়স যখন অল্প ছিল, এ ব্রতে যখন নূতন ব্ৰতী, তখন আমন্ত্রণ পেয়েও কত সাহিত্য-সভায় দ্বিধায় সঙ্কোচে উপস্থিত হতে পারিনি, নিশ্চিত জানতাম সভাপতির স্বদীর্ঘ অভিভাষণের একটা অংশ আমার জন্য নিদিষ্ট আছেই। কখনও নাম দিয়ে, কখনও না দিয়ে। বক্তব্য অতি সরল । আমার লেখায় দেশ দুনীতিতে পরিপূর্ণ হয়ে এলো এবং সনাতন হিন্দুসমাজ জাহান্নামে গেল বলে। যাবার আশঙ্কা ছিল, অসহিষ্ণু হয়ে যদি নজির দিয়ে আমি তার জবাব দিতাম। কিন্তু সে অপকৰ্ম্ম কোনদিন করিনি-ভাবতাম, আমার সাহিত্য-রচনা যদি সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, একদিন না একদিন লোকে বুঝবেই। যাই হোক যে দুঃখ নিজে ভোগ করেছি, সে আর পংকে দিতে চাইনে כ\ }ס\ eهسپه শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তবে অকপটে বলতে পারি, অামার অভিভাষণ শুনে সাহিত্যিক বিজ্ঞতা আপনাদের এক তিলও বাড়বে না এবং বাড়বেই না যখন জানি, তখন কতকগুলো বাহুল্য কথার অবতারণা করি কেন ? এইখানেই শেষ করলেই ত হ’ত । হ’তনা তা নয়, তবে নিজেই না কি কথাটা একদিন তুলেছিলাম, তাই তারই স্বত্র ধরে এই সম্মিলনে আরও গোটাকয়েক কথা বলবার লোভ হয় । t একদিন আমার কলকাতার বাড়িতে কাজী মোতাহার সাহেব এসে উপস্থিত। সাহিত্য-আলোচনা করতে তিনি যাননি, গিয়েছিলেন দাবা খেলতে,—এ দোষ আমাদের উভয়েরই আছে—অসুস্থ ছিলাম, খেলা হ’ল না, হ’ল বৰ্ত্তমান সাহিত্যপ্রসঙ্গে, দুটো আলোচনা । তারই মোটামুটি ভাবটা আমি কল্যাণীয়া জাহান আরার বার্ষিক পত্র ‘বর্ষবাণী'তে চিঠির আকারে লিখে পাঠাই । এবং সেইটি ‘অবাঞ্ছিত ব্যবধান’ শিরোনামায় বুলবুল মাসিকপত্রের সম্পাদক শ্রদ্ধাস্পদ মুহম্মদ হবিবুল্লাহ সাহেব উদ্ধত করেছেন তার আষাঢ়ের কাগজে। দেখলাম, তার একটা জবাব দিয়েছেন ঐযুক্ত লীলাময় রায়, আর একটা দিয়েছেন ওয়াজেদ আলী সাহেব । লীলাময়ের লেখার মধ্যে ক্ষোভ আছে, ক্রোধ আছে, নৈরাপ্ত আছে। আমি বলেছিলাম, সাহিত্য-সাধন যদি সত্য হয়, সেই সত্যের মধ্য দিয়েই ঐক্য একদিন আসবেই। কারণ, সাহিত্য-সেবকেরা পরস্পরের পরমাত্মীয়। হিন্দু হোক, মুসলমান হোক, ক্রীশ্চান হোক, তবু পর নয়—আপনার জন । লীলাময় বলেছেন, “প্রতিকার যদি থাকে, তবে তা সাহিত্যে নয় ত—স্বাজাত্যে” । স্বাঞ্জাত্য শব্দটায় তিনি কি বলতে চেয়েছেন বুঝলাম না। ফলেছেন “ঐক্য জিনিসটা organic ; হাড়ের সঙ্গে মাংস জুড়লে যেমন মানুষ হয় না, তেমনি হিন্দুর সঙ্গে মুসলমান জুড়লে বাঙালী হয় না, ভারতীয় হয় না।” পরে বলেছেন, “হিন্দু-মুসলমানে আপোষ ছাড়া আর কিছু করবার নেই? স্বতরাং ব্যবধান থেকে যাবে, জাতীয়তাও হবে না, আত্মীয়তাও না।” এসব উক্তি ক্ষোভের প্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু বলি, এদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক, পণ্ডিত ও চিন্তাশীল ব্যক্তিরাও আজ যদি এই কথা বলতে থাকেন ত নৈরাশ্যে যে সমস্ত দিক কালো হয়ে উঠবে। এ কি এরা ভাবেন না ? মনের তিক্ততা দিয়ে কোন মীমাংসাও হয় না, মিলনও ঘটে না । আবার এমনি হতাশা প্রকাশ পেয়েছে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর প্রবন্ধে। তিনি বলেছেন, “আজ যারা নূতন করে আমাদের দুই প্রতিবেশী সমাজের সম্বন্ধে বিচার করবেন, এ নিয়ে যে আশ্চৰ্য্য সমস্তার স্বষ্টি হয়েছে তার বন্ধন কেটে কল্যাণের অভিসারী হবেন, দীর্ঘ র্তাদের পথ, কঠিন তাদের সাধনা ।" আমি এই কথাটাই মানতে চাইনে। জোর করে প্রশ্ন করতে & 8 بيت ه মুসলিম সাহিত্য-সমাজ চাই, কেন তাদের পথ দীর্ঘ হবে ? কিসের জন্ত সাধনা তাদের মুকঠিন হয়ে উঠবে ? কেন একটি সহজ সুন্দর পথে এই সমস্তার সমাধান আমরা খুজে পাব না ? ওয়াজেদ আলী সাহেব পরে বলেছেন, "যাদের মনে রইলো প্রবল বিরুদ্ধতা, অন্তরে রইলো গভীর অপ্রেম, চিত্তে রইলো দীর্ঘ ব্যবধান, তাদেরকে টেনে পাশাপাশি দাড় করানো হ’ল । তাতে শিষ্টাচারের তাগিদে হাতের সাথে হাত মিললো, তাদের দৃষ্টি-বিনিময় হল না ; একজনের অন্তর রইলো আর একজনের অন্তর থেকে শত যোজন দূরে।” এর হেতু দেখাতে গিয়ে বলেছেন, “অচেনা মুসলিম এলো বিজয়ীর বেশে, অধিকার করলে রাজার আসন। আমুগত্য, রাজসম্মান সে পায়নি এমন নয় ; কিন্তু ভারতবর্ষকে স্বদেশ স্বীকার করেও দেশমনের মিতালি তার ভাগ্যে হয়নি, এদের অপরিচয়ের ষে ব্যবধান সেটি অবাঞ্ছিত হলেও কোনদিন ঘোচেনি।” কিন্তু এই কি সমস্ত সত্য ? সত্য হলে এই অবাঞ্ছিত ব্যবধান ঘুচিয়ে মিতালী করতে ক’টা দিন লাগে ? মনে হয় লীলাময় অনেক ব্যথার মধ্যে দিয়েই লিখেছেন, “যারা বিদেশ থেকে এসেছেন ও আজও তা মনে রেখেছেন, ধারা জলের উপর তেলের মত থাকবেন বলে স্থির করেছেন আবহমান কাল, দেশের অতীত সম্বন্ধে র্যাদের অমুসন্ধিৎসা ও বর্তমান সম্বন্ধে ধাদের বেদনা-বোধ নেই, রাষ্ট্রের ভিতরে আর একটা রাষ্ট্র-রচনাই র্যাদের স্বপ্ন ; আমরা তাদের কে, যে গায়ে পড়ে তাদের অপ্রিয় সত্য শোনাতে যাবো” ? oএ-কথার এ অর্থ নয় যে, ব্যবধান আমরা ভালবাসি, মিতালী চাইনে, পরস্পরের আলোচনা-সমালোচনা পরিহার করাই আমাদের বিধেয় । এ উক্তির তাৎপর্য্য যে কি, সমস্ত সাহিত্য-রসিক বিদগ্ধ মুসলিম সমাজকেই আমি দিতে বলি। কলহবিবাদ, তর্ক-বিতর্ক, বাদ-বিতগু করে নয় । কোথার ভ্রম, কোথায় অস্কায়, কোনখানে অবিচার লুকিয়ে আছে, সেই অকল্যাণকে সুস্থ সবল চিত্ত দিয়ে আবিষ্কার করে দিতে বলি, এবং বলি উভয় পক্ষকেই সবিনয়ে সশ্রদ্ধায় তাকে স্বীকার করে নিতে। তখন পরস্পরের স্নেহ, প্রেম, ক্ষম আমরা পাবোই পাবো । 獻 ওয়াজেদ আলী সাহেব একটি চমৎকার ভরসার কথা বলেছেন, সেটি হিন্দুমুসলমান সকলেরই মনে রাখা উচিত। বলেছেন, “মুসলিম সাহিত্য-সেবক আরবীফারসী শব্দ বাংলা ভাষার অঙ্গে জুড়তে চাইছেন, এতে আপত্তি অতি তুচ্ছ কথা, কেন-ন শুধু কলম চালিয়ে ওটি হতে পারে না ; তার জন্তে চাই প্রচুর সাহিত্যিক শক্তি, চাই স্থষ্টিশীল প্রতিভা। এ দুটি যেখানে নেই সেখানে ভাষা-ভূষণ পরতে গিয়ে অতি সহজেই সং সাজতে পারে ।” r 響登臺 শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰন্থ পারেই ত। কিন্তু এ জ্ঞান আছে কার ? যিনি যথার্থ সাহিত্য-রসিক, তার। ভাষাকে যিনি ভালবাসেন, অকপটে সাহিত্যের সেবা করেন, তার । তাকে ত আমার ভয় নেই। আমার ভয় শুধু তাদের র্যাদের সাহিত্য-সেবা না করেও সাহিত্যের মুরব্বি হয়ে বসেছেন। প্রিয় না হলেও একটা দৃষ্টান্ত দিই। মহেশ’ নামে আমার লেখা একটা ছোট গল্প আছে, সেটি সাহিত্যপ্রিয় বহু লোকেরই প্রশংসা পেয়েছিল। একদিন শুনতে পেলাম গল্পটি Matric-এর পাঠ্য-পুস্তকে স্থান পেয়েছে ; আবার একদিন কানে এলো সেটি না কি স্থানভ্রষ্ট হয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের কোন যোগ নেই, ভাবলাম এমনিই হয়ত নিয়ম। কিছুদিন থাকে, আবার যায়। কিন্তু বহুদিন পরে এক সাহিত্যিক বন্ধুর মুখে কথায় কথায় তার আসল কারণ শুনতে পেলাম। আমার গল্পটিতে না-কি গো-হত্যা আছে। অহো ! হিন্দু বালকের বুকে যে শূল বিদ্ধ হবে । বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বহু টাকা মাইনের কৰ্ত্তা-মশায় এ অনাচার সইবেন কি করে ? তাই মহেশের স্থানে শুভাগমন করেছেন তার স্বরচিত গল্প 'প্রেমের ঠাকুর’ । আমার ‘মহেশ’ গল্পটা হয়ত কেউ কেউ পড়ে থাকবেন, আবার অনেকেই হয়ত পড়েননি। তাই শুধু বিষয়-বস্তুটা সংক্ষেপে বলি। একটি হিন্দুপ্রধান জমিদার-শাসিত ক্ষুদ্র গ্রামে গরীব চাষা গফুরের বাড়ি। বেচারীর থাকার মধ্যে বহুজীর্ণ বহুছিদ্রযুক্ত একখানি খড়ের ঘর, বছর-দশেকের মেয়ে আমিন, আর একটি ষাড় । গফুর ভালবেসে তার নাম দিয়েছিল মহেশ । বাকী খাজনার দায়ে ছোট গায়ের ততোধিকছোট জমিদার যখন তার ক্ষেতের ধান-খড় আটক করলে, তখন সে কেঁদে বললে হজুৰ! আমার ধান তুমি নাও, বাপ-বটিতে ভিক্ষে করে খাবে, কিন্তু খড় ক’টি দাও,-নইলে এ-দুদিনে মহেশকে আমার বাচাবো কি করে ? কিন্তু রোদন তার অরণ্যে রোদন হ’ল—কেউ দয়া করলে না । তার পরে শুরু হ’ল তার কত রকমের দুঃখ, কত রকমের উৎপীড়ন । মেয়ে জলের জন্তে বাইরে গেলে সেই জীর্ণ কুটীরের খড় ছিড়ে নিয়ে লুকিয়ে মহেশকে খাওয়াতে, মিছে করে বলতো, মা আমিন, আজ আমার জর হয়েছে, আমার ভাত ক’টি তুই মহেশকে দে। সারাদিন নিজে অভূক্ত থাকতো। ক্ষুধার জালায় মহেশ অত্যাচার করলে এই দশ বছরের মেয়েটার কাছেও তার ভয় ও কুষ্ঠার অবধি থাকতো না। লোকে বলতো গরুটাকে তুই খাওয়াতে পারিসনে গফুর, ওকে বেচে দে। গফুর চোখের জল ফেলে আস্তে আস্তে তার পিঠে হাত বুলিয়ে বলতে, মহেশ তুই আমার ব্যাট,—আমাকে তুই সাত বন প্রতিপালন করেছিল। খেতে না পেয়ে তুই কত রোগ হয়ে গেছিল,—তোকে ৰুি আজ আমি পরের হাতে দিতে পারি বাবা! এমনি করে দিন যখন জার কাটতে চায় না তখন একদিন অকস্মাং এক বিষম কাও ঘটলো । সে গ্রামে জলও g鬱喙 মুসলিম সাহিত্য-সমাজ স্বলভ নয়। শুকনো পুকুরের নীচে গৰ্ত্ত কেটে সামান্ত একটুখানি পানীয় জল বহু দুঃখে মেলে। আমিনা দরিদ্র মুসলমানের মেয়ে, ছোয়া-চুইর ভয়ে পুকুরের পাড়ে দূরে দাড়িয়ে প্রতিবেশী মেয়েদের কাছে চেয়ে-চিন্তে অনেক দুঃখে বিলম্বে তার কলসীটি পূর্ণ করে বাড়ি ফিরে এলো। এখন ক্ষুধাৰ্ত্ত তৃষ্ণাৰ্ত্ত মহেশ তাকে ফেলে দিয়ে কলসী ভৈঙ্গে ফেলে এক নিশ্বাসে মাটি থেকে জল শুষে খেতে লাগলো। মেয়ে কেঁদে উঠলো। জরগ্রস্ত, পিপাসায় শুষ্ককণ্ঠ গফুর ঘর থেকে বেরিয়ে এলো—এ দৃশ্য তার সইলো না । হি তাহিত জ্ঞানশূন্ত হয়ে যা স্বমুখে পেলে—একখণ্ড কাঠ দিয়ে সবলে মহেশের মাথায় মেরে বসলো। অনশনে মৃতকল্প গরুট বার-দুই হাত-পা ছুড়ে প্রাণত্যাগ করলে । প্রতিবাসীরা এসে বললে, হিন্দুর গায়ে গোহত্যা ! জমিদার পাঠিয়েছেন তর্করত্বের কাছে প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা নিতে । এবার তোর ঘরদোর না বেচতে হয় । গফুর দুই হাটুর ওপর মুখ রেখে নিঃশব্দে বসে রইলো। মহেশের শোকে, অমুশোচনায় তার বুকের ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছিলো। অনেক রাতে গফুর মেয়েকে তুলে বললে, চল আমরা যাই । মেয়ে দাওয়ায় ঘুমিয়ে পড়েছিল, চোখ মুছে বলল, কোথায় বাবা ? গফুর বললে পুলবেড়ের চটকলে কাজ করতে । আমিন আশ্চৰ্য্য হয়ে চেয়ে রইলে। ইতিপূৰ্ব্বে অনেক দুঃখেও তার বাবা চটকলে কাজ করতে রাজি হয়নি। বাবা বলতো, ওখানে ধৰ্ম্ম থাকে না, মেয়েদের আক্র-ইজত থাকে না—ওখানে কখন নয় । কিন্তু হঠাৎ এ কি কথা ! গফুর বললে, দেরি করিসূনে মা, চল । অনেক পথ হাটতে হবে। আমিনা জল থাবার পাত্র এবং বাবার ভাত খাবার পিতলের বাসনটি সঙ্গে নিতেছিল, কিন্তু বাবা বারণ করে বললে, ওসব থাকু মা, ওতে আমার মহেশের প্রাচিত্তির হবে। তার পরে গল্পের উপসংহারে বইয়ে এইরূপ আছে—“অন্ধকার গভীর নিশীথে সে মেয়ের হাত ধরিয়া বাহির হইল। এ-গ্রামে আত্মীয় কেহ তাঙ্গার ছিল না ; কাহাকেও বলিবার কিছু নাই। আঙ্গিনা পার হইয়া পথের ধারে সেই বাবল-তলায় আসিয়৷ সে থমকিয়া দাড়াইয়া হু-হু করিয়া কাদিয়া উঠিল। নক্ষত্রখচিত কালো আকাশে মুখ তুলিয়া বলিল, আল্লাহ আমাকে যত খুশি সাজা দিয়ে, কিন্তু মহেশ আমার তেই নিয়ে মরেছে। তার চরে খাবার এতটুকু জমি কেউ রাখেনি। যে তোমার দেওয়া মাঠের ঘাস, তোমার দেওয়া তেষ্টার জল তাকে খেতে দেয়নি, তার কম্বর ভূমি কখনো যেন মাফ করে না ।" এই হ'ল গোহতা | এই পড়ে হিন্দুর ছেলের বুকে শেল বিধবে । তার চেয়ে । পদুক প্রেমের ঠাকুর’! তাতে ইহলোকে না হোক তাদের পরলোকে সদগতি হবে। 哆靴* শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ এই কাস্তিমান স্থপরিপুষ্ট প্রেমের ঠাকুরটিকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে, মুসলমান সম্পাদিত কাগজে এই গল্পটির যে কড়া আলোচনা বেরিয়েছিল তার কি কোন হেতু নেই ? একেবারে মিথ্যা অমূলক ? তাই আমার চেয়েও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিটিকে সসম্মানে নিবেদন করে রাখি যে, খুব বড় হলেও মনের মধ্যে একটুখানি বিনয় থাকা ভাল। ভাবা উচিত, তার রচিত গল্পের সঙ্গে বাংলার ছাত্র-ছাত্রীদের পরিচয় না ঘটলেও বিশেষ কোন লোকসান ছিল না । Text Book থেকে পয়সা পাইনে—ও ব্যবসা আমায় নয়—সুতরাং ক্ষতিবৃদ্ধিও নেই—তবু ক্লেশ বোধ হয়। নিজের জন্ত নয়,--আকারণে। শুধু সাম্বন এই যে, অযোগ্যের হাতে ভার পড়লে এমনি দুর্দশাই ঘটে । যে ব্যক্তি কোনদিন সাহিত্য-সাধন করেনি সে কি করে বুঝবে কার মানে কি ! শুনেছি না-কি আমার ‘রামের স্বমতি', গল্পের খানিকট দিয়েছেন। অত্যন্ত দয়া,—বোধ করি আশা এর থেকে রামেদের মুমতি হবে । কিন্তু মুস্কিল এই যে, দেশে রহিমরাও আছে। আর শুধু বিদ্যালয়ই নয়, মহেশের ভাগ্যে অন্য দুর্ঘটনাও ঘটেছে। তার বিস্তারিত বিবরণ দিতে চাইনে, কিন্তু নি:সংশয়ে জানি, এক হিন্দু জমিদার রক্তচক্ষু হয়ে শাসিয়ে বলেছিলেন, ডিষ্টি ক্ট বোর্ডের সাহায্যে ছাপা মাসিক বা সাপ্তাহিকে এ-ধরণের গল্প যেন আর ছাপা না হয় । এতে জমিদারের বিরুদ্ধে প্রজা ক্ষেপিয়ে দেওয়া হয় । অর্থাৎ দেশের সর্বনাশ হয় । যাক নিজের কথা । উপরি-উক্ত হিন্দু মুরুব্বির মত আবার মুসলমান মুরুবিও আছে। শুনেছি, র্তারা না কি আদেশ করেন ইতিহাস ফরমায়েশ মত লিখতে। ইসলাম-ধৰ্ম্মী কোন ব্যক্তি কোথাও অন্যায় অবিচার করেছেন এর লেশমাত্রও যেন কোন পড়ার বইয়ে না থাকে। এখানেও সানা এই ষে, এদের কেউ কখনো কোনকালে সাহিত্য-সেবা করেননি। করলে এমন কথা মুখে আনতে পারতেন না। সত্যিকার সাহিত্যিকদের হাতে যদি এই ভার পড়ে, আমার বিশ্বাস, না-হিন্দু না মুসলিম কোন পক্ষ থেকেই বিন্দুমাত্র অভিযোগ শোনা যাবে না। ভাষার প্রতি, সাহিত্যের প্রতি সত্যিকার দরদ তাদের সত্য পথেই পরিচালিত করবে । ওয়াজেদ আলী সাহেব এক স্থানে বলেছেন, "মুসলিমের এই নবক্ষুৰ্ত্ত আত্মপ্রকাশ, ইসলামী কৃষ্টির এই বলিষ্ঠ জাগরণ সাহিত্যক্ষেত্রে শরৎচন্দ্রের মত শক্তিমান প্রতিভার মনোযোগ আকর্ষণ করলো, হয়ত দেশের অনাগত কল্যাণের এ এক শুভ ইঙ্গিত । কিন্তু তবু কেন মন সন্দেহ-অবিশ্বাসে দ্বিধা-জিজ্ঞাসায় ছলে ওঠে ? “বুলবুলে প্রকাশিত তার পত্ৰখানিতে যেন চোখে পড়ে, মুসলিমের প্রতি র্তার সহানুভূতির অভাব, ভাল दानाद्र अछाष ५षः ८भा?ामूी ५क$1 चचमू/eिब्र जडाष ।” votiv মুসলিম সাহিত্য-সমাজ আমার জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছে করে, মুসলিমের এই নব ফুৰ্ত্ত আত্মপ্রকাশ', ইসলামী কুষ্টির এই ‘বলিষ্ঠ জাগরণ, যারা নবীন, উদার বাংলা ভাষাকে ধারা অকুষ্ঠিত মনে মাতৃভাষা বলে স্বীকার করেন তাদের—ন, ধারা পুরাতনপন্থী র্তাদের ? অামার অভিমত এই ষে, যারা প্রাচীনপন্থী, ধারা পিছনে ছাড়া স্বমুখে চাইতে জানেন না, তাদের জাগরণ কি মুসলিম কি হিন্দু সকল সমাজেরই বিম্নস্বরূপ। হিন্দুদের সম্বন্ধে এ-কথা আমি বহুবার বহুস্থানে লিখেছি, মুসলিম-সমাজের সম্বন্ধেও অসংশয়ে বলতে পারি, এ জাগরণ হয় যদি নবীনের—আহুক সে শ্রাবণের পূর্ণিমা জোয়ারের মত সমস্ত ভাসিয়ে দিয়ে, তবু তাকে আমি দু-হাত তুলে সম্বৰ্দ্ধনা করে নেবো। জানবো, এদের হাতে সমস্তই হবে শুভ এবং স্বন্দর,—এদের হাতে হিন্দু-মুসলিম কারও ভয় নেই—এদের হাতে আমরা দু’জনেই হবে নিরাপদ । আমার আশঙ্কা শুধু প্রাচীনপন্থীদের সম্বন্ধে । তিনি পরে বলেছেন, "শরৎচন্দ্রের মত সাহিত্যিকদের সম্প্রদায়, জাতি এক ছাড়া দুই নয় । এ-কথা সহজেই আমাদের স্বীকৃতি দাবী করতে পারে। কিন্তু আরও একটি সহজ কথার দিকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করি। সেটি এই যে, সাহিত্য মানুষের মনের স্বষ্টি, এবং মামুষের মনকে তৈরী করে তার ধৰ্ম্ম, তার সমাজ, তার পরিবেশ, তার কৃষ্টি । এদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা কি সামান্য ব্যাপার ? এবং সাধারণতঃ সেটি কি সম্পূর্ণরূপে সম্ভব ?” এই কথাগুলি শুধু আংশিক সত্য—সম্পূর্ণ সত্য নয়। কারণ, এইটুকু মোটামুটি জেনে রাখা দরকার যে, মানুষ যখন সাহিত্যরচনায় নিবিষ্টচিত্ত সে ঠিক হিন্দুও নয়, মুসলমানও নয়। তখন সে তার সৰ্ব্বজনপরিচিত,“আমি’টাকে বহু দূরে অতিক্রম করে যায়, নইলে তার সাহিত্য-সাধনা ব্যর্থ হয় । এই জন্যেই যেখানে কিছুই এক নয়, বাহত কিছুই মেলে না, সেখানেও ম্যাক্সিম গর্কির মত সাহিত্য-সেবকেরা আমাদের বুকের মধ্যে অনেকখানি আত্মীয়ের আসন জুড়ে বসে থাকেন । এই কথাটি আমি সকল সাহিত্যিককেই মনে রাখতে বলি । কে কোথায় তার অসতর্ক মূহূৰ্ত্তে কি কথা বলেছে, সেইটিই তার জীবনের পরম সত্য নয়। কেবল তাই দিয়েই বিচার করা চলে না। এবং এই জন্যই ওয়াজেদ আলী সাহেব তার প্রবন্ধে আমার সম্বন্ধে যে-সব কঠিন উক্তি করেছেন আমি তার জবাব দিতে বসবো না। রাগ যখন পড়বে, তখন আপনিই মনে হবে আমি সত্যি কথাই বলেছিলাম। ওয়াজেদ আলী সাহেব সবচেয়ে মৰ্ম্মাপ্তিক কথা বলেছেন এইখানে, "বস্তুতঃ, দুইটি বিষম অনাত্মীয় কৃষ্টির সংঘর্ষের ফলে এই বিক্ষোভ । এর জন্ত আক্ষেপ বৃথা । হিন্দু মুসলিমকে বোঝে না, এজন্তে দুঃখের বিলাপ জাজ চারিদিকে ধ্বনিত হচ্ছে । কিন্তু এমন হতে পারে যে, তার ভারতীয় ধর্ণ, সমাজ ও সংস্কৃতি জায় মনকে করেছে অপরিসর, দৃষ্টিকে করেছে °蟾神 শরৎ-সাহিত,-সংগ্ৰহ আচ্ছন্ন। আপনার পরিধিকে অতিক্রম করে গতি তার নিশ্চল । আপনার আভিজাতোর গৰ্ব্বে যে চিরবিলীন, পরাজয়ের প্রাচীন অভিমান যার আজও দুর্জয়’ বিন-যুদ্ধে স্বচ্যগ্র-পরিমিত স্থান দান করতেও যার আপত্তি অন্তহীন, তার বুদ্ধিকে মুক্ত বলা কঠিন। অথচ, মুক্তি যার নেই সেই চলে না, চলতে পারে না, সে জড় । এই আত্মকেন্দ্রীপর বিমুখ জড়বুদ্ধির পরিবেশ এ দেশের মুসলিমকে নিজ বাসভূমে পরবাসী করে রেখেছে, ভারতের মাটির রসে রসায়িত হয়েও তার মন যেন ভিজছে না ।" এই যে বলেছেন দুইটি বিষম অনাত্মীয় কৃষ্টির ফলে এই বিক্ষোভ, এর জন্ত আক্ষেপ বৃথা। আমরা উভয়ে উভয়ের প্রতিবেশী, আমাদের আকাশ ৰাতাস মাটি জল এক ! মাতৃভাষা এক বলেই স্বীকার করি । তবু সংঘর্ষ এত বড় কঠোর যে, তার জন্যে আক্ষেপ পর্য্যস্ত করা বৃথা—এই মনোভাবই যদি সমস্ত হিন্দু-মুসলমানের সত্য হয় ত এই কথাই বলবো যে, এর চেয়ে বড় দুৰ্গতি মামুষের আর ঘটতে পারে না। রবীন্দ্রনাথের বুদ্ধিও কি জড়বুদ্ধি ? মন তার মুক্ত হয়নি । এ যদি সত্য তবে ওয়াজেদ আলী সাহেবের এ ভাষা এল কোথা থেকে ? সহজ, সুন্দর ও অবলীলায় আপন মনোভাব প্রকাশ করার শক্তি তাকে কে দিলে ? এ-যুগে এমন লেখক, এমন সাহিত্য-সেবক কে আছে যে, প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে রবীন্দ্রনাথের কাছে ঋণী নয় ? সাহিত্য ধৰ্ম্ম-পুস্তকও নয়, নীতিশিক্ষার বইও নয়, অথচ, আপন বিশাল পরিধির মধ্যে আপন মধুৰ্য্যে সে সব-কিছুকেই আপন করে রেখেছে। তাই সাহিত্য কি, রসবস্তু কি, আজও কেউ তার সত্য নির্দেশ পেলে না । কত তর্ক, কত মতভুেদ । এই অবাঞ্ছিত ব্যবধান সম্বন্ধে মীজানুর রহমান সাহেব জ্যৈষ্ঠের “বুলবুল” মাসিকপত্রে র্তার প্রবন্ধের এক স্থানে অকরুণ হয়ে বলেছেন, “শরৎবাৰু তার রাশীকৃত উপন্যাসের ভিতরে স্থানে স্থানে মুসলমান-সমাজের ষে সব ছবি এঁকেছেন তা মুসলমান-সমাজের খুব উচুদরের লোকের নয়।” কিন্তু জিজ্ঞাসা করি উচ্চ-নীচু স্তরের পাত্র-পাত্রীর উপরেই কি উপন্যাসের উচ্চতা-নীচতা, ভাল-মন্দ নির্ভর করে ? এ যদি তার অভিমত হয়, তবে আমার সঙ্গে তার মতের ঐক্য হবে না। না হোক, কিন্তু উপসংহারে যে বলেছেন, “হিন্দু-সমাজের বিবিধ গলদ ও সমস্ত নিয়ে শরৎচন্দ্র যেসকল গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন এবং প্রতিকারের উদ্বেপ্তে তাহার সমাজকে যে চাবুক কশেছেন, সদিচ্ছাপ্রণোদিত এমনধারা নিৰ্ম্মম কশাঘাতও মুসলিম-সমাজ অম্লান বদনে গ্রহণ করবে তা জোর করে বলতে পারি। বাজলার কথাসাহিত্য-সম্রাটকে একবার পরীক্ষা করে দেখতে অনুরোধ করি।" সেদিন জগন্নাথ-হলে আমার অভিনন্দের প্রতিভাষণে এ-কথায় উত্তর দিয়েছি। DDDD DBSBBBB tg BDD DD DDD DDDDS gBBD BB BBB woë মুসলিম সাহিত্য-সমাজ নেবার পূৰ্ব্বে আমি দেখে যাবে। সে যাই হোক, মাহুষে শুধু ইচ্ছা প্রকাশ করতেই পারে, কিন্তু তার পরিপূর্ণতার ভার থাকে আর একজনের পরে, যিনি বাক্য ও মনের অগোচর। সেদিন খেতে বসে His Exc ile :cy আমাকে এই প্রশ্ন করেছিলেন । আমি উত্তর দিয়াছিলাম আমার সঙ্কল্প কাজে পরিণত করতে- চাই উভয় সমাজের আশীৰ্ব্বাদ, ঠিক সমাজ নয়,--চাই উভয় সমাজের সাহিত্য-সেবকদের আশীৰ্ব্বাদ । যে ভাষার যে সাহিত্যের এতকাল সেবা করেছি, তার পরে অকারণ অনাচার অামার সয় না। আমার একাস্ত মনের বিশ্বাস, আমার মত সাহিত্যের যথার্থ সাধন র্যারা করেছেন, তারা হিন্দু-মুসলিম যাই হোন, কারোও এ অনাচার সইবে না। সৌন্দৰ্য্য ও মাধুর্য্যের জন্য পরিবর্তন যদি কিছু কিছু প্রয়োজন হয়—এমন ত কতবার হয়েছে—সে কাজ ধীরে ধীরে এরাই করবেন। আর কেউ নয় । সে হিন্দুয়ানির কল্যাণেও নয়, মুসলমানির কল্যাণেও নয়,—শুধু মাতৃভাষা ও সাহিত্যের কল্যাণে । এই আমার মোট আবেদন । কোথায় কোন লেখায় মুসলিম-সমাজের প্রতি অবিচার করেছি,—করিনি বলেই আমার ধারণা—তার চুল-চরা বাদ-প্রতিবাদ প্রতিকারের পথ নয়, সে কলহবিবাদের নতুন রাস্ত তৈরী করা। বুলবুল কাগজখানির নানাস্থান থেকে আমি উদ্ধৃতি করেছি প্রয়োজনবোধে । এই পত্রিকার অবিচ্ছিন্ন উন্নতি কামনা করি, কারণ যতটুকু পড়েছি তাতে সাহিত্যের উন্নতি এদের কাম্য, আমারও তাই। হয়ত কোথাও একটু কটুক্তি করে থাকবেন কিন্তু সে মনে করে রাখবার বস্তু নয়, ভুলে যাবার জিনিস । কিন্তু আর নয় । বলবার বিষয় এখনও অনেক ছিল, কিন্তু আপনাদের ধৈৰ্য্যের প্রতি সত্যিই অত্যাচার করেছি। সেজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি। এ অভিভাষণে পাণ্ডিত্য নেই, কারুকার্য্য নেই, বলার কথাগুলো কেবল সোজা করে বলে গেছি, ষেন তাৎপৰ্য্য বুঝতে কারও ক্লেশ বোধ না হয় । শোনার পরে কেউ না বলেন— যেমন অতুলনীয় শব্দসম্পদ, তেমনি কারুকার্য্য—কিন্তু ঠিক কি যে বলা হ’ল ভাল বোঝা গেল না । বাঙ্গল সাহিত্যের সেবা করে মুসলমানদের মধ্যে যারা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, র্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা আমার অপরিসীম, তবু তাদের নামোল্লেখ করতে আমি বিরত রইলাম । পরিশেষে কৃতজ্ঞতা-নিবেদনের একটা রীতি আছে। যেমন আছে আরম্ভ করার সময় বিনয় প্রকাশের প্রথ । প্রথমটা করিনি। কারণ, সাহিত্যসভায় সভাপতির কাজ এত বেশি করতে হয়েছে যে, এই ষাট বছর বয়সে নিজেকে অনুপযুক্ত, বেকুফ ইত্যাদি যত প্রকারের বিনয়সূচক বিশ্লেষণ অাছে নিজের নামের সঙ্গে সংযোগ لاقية من به سب শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ করে দিলে ঠিক শোভন হবে মনে হ’ল না। কিন্তু কৃতজ্ঞতা-প্রকাশের বেলায় তা নয়। সমস্ত বিদগ্ধ মুসলিম-সমাজের কাছে আজ আমি অকপটে কৃতজ্ঞতা নিবেদন করছি। আপনারা আমার সালাম গ্রহণ করুন । বলার দোষে যদি কাউকে বেদন দিয়ে থাকি সে আমার ভাষার ক্রটি, আমার অস্তরের অপরাধ নয়। —ঢাকা, ১৫ ই শ্রাবণ, ১৩৪৩ । t –‘বিচিত্রা, ভাদ্র, ১৩৪৩ । মুসলমাল সাহুিভ্য লাটসাহেব বললেন, মুসলমানদের নিয়ে গল্প লিখবে। এ-কাজ যদি করতে পার তা হলে অত্যন্ত ভাল হয়। সাহিত্য নিয়ে আমি কোনদিন ছেলেখেলা করিনি । —অন্য ব্যাপারে হয়ত কথা রাখতে পারি। ১৯১৬ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে আসি ; স্বৰ্গীয় পাঁচকড়ি বাড়,য্যের সঙ্গে দেখা, বললেন, তুই নাকি লিখিস । আমায় দিস ত দু-একখানা বই। আমি বললাম, ও কিছুই নয়। তিনি বললেন, স্বাখ তোকে যদি কেউ আক্রমণ করে তা হলে আমায় বলে দিবি । ভার্থ কাগজ চালাতে গিয়ে যাদের গালাগালি দেওয়া উচিত নয়, তাদেরও গালাগালি দিতে হয়েছে। তুই ত আমার কাছে পড়েছিল—যা নিজের জীবনে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে সত্যি হয়ে উঠবে-অবপ্তি কল্পনা থাকবে, তাই হবে সাহিত্যবস্তু । নিজের আয়কে অতিক্রম করে ব্যয় করতে যেয়ে না ! আমি বললাম, আশীৰ্ব্বাদ করুন । তিনি বলিলেন, আশীৰ্ব্বাদ নয়, এই আমার আদেশ । লোকে বলতে পারে পাঁচকড়ি বাড়,য্যে লোক ভাল ছিলেন। কিন্তু তিনি এমন ঘুমালোচনা করেছিলেন যা হয়ত তার ইচ্ছে ছিল না । ঐ দুটো কথা—কখনো আয়কে অতিক্রম করে চ’লে না, আর নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখবে। সাহিত্য সত্যও নয়, পুলিশ রিপোর্টও নয়। প্রথম যখন লোকে বলেছে, ঐ সব অস্বাভাবিক, হর না,—৩৫৩৬ বছর বয়সে প্রথম 'চরিত্রহীন’সমালোচনা দেখে বুঝলাম প্রত্যেক পাঠক আমার চেয়ে বুদ্ধিমান। আর আমি ওটা কতবার দেখেছি, আর তোমরা একবার পড়েই সমালোচনা করলে । আমায় যে লোকে ভালবাসল তার প্রধান কারণই হচ্ছে এই, লোকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আমার কথাগুলো মেলে। মাস্থ্য সত্যি ছোট নয় । এদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেশবার দরুন অনেক কথা জানতে পেরেছিলাম, যেটা বাইরে থেকে জানা যায়ু না । এক সময়ে মুসলমান-সমাজ পিছিয়ে পড়েছিল, গভর্ণমেন্টই একরকম দাবিয়ে দিয়েছিল। Communal Award নিয়ে আলোচনা করবার জন্য ডাকা হয়েছিল । qw sqosto oftwa, Why are you afraid of this Muhamadan people f Without Hindu's help they can't go on, they have to take it. এখন ওর গভর্ণমেন্টের সাহায্যে নিজেদের কথাটা যুঝেছে। ఢీ's শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আমার বিশ্বাস, সাহিত্যের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার গর্কি প্রভৃতিকে ভাল লাগে— তাদের সঙ্গে আমাদের কোন মিল নাই, তবু তাদের appreciate করি। মুসলিম সাহিত্য-সমাজ আমি নিজে একটা গড়ব । এ-ছাড়া আমাদের সত্যি পথ নেই— আমি মুসলমানদের ঐ কথাটা অনেকবার বলেছি। মুসলমান ছেলেরা আমার কাছে একখানা বই রাখলে, উপরে লেখা—“খালক বঙ্কিমের গ্রন্থাবলী ।” বললাম, অপমান করবার জন্তেই কি এসেছ ? একজন মৃত ব্যক্তিকে অপমান করা ঠিক নয়। বঙ্কিমবাবু অনেক জায়গায় অকারণ মুসলমানদের আক্রমণ করেছেন। তখন ওরা ছিল অত্যন্ত নিজীব। কিন্তু সমস্ত action-এরই reaction আছে। বঙ্কিম-দুহিতা’ বলে একখানা বই—অনেক নোংরা কথা তাতে আছে, এগুলো হতে বাধ্য। জাহানারা একদিন বললে, একটা লেখা দিতে হবে । আমার 'বর্ষবাণী’ বেরুচ্ছে । তার আগে এখানের কাজী মোতাহার হোসেন বললেন, আপনার কি আমাদের একঘরে করে রেখে দেবেন ? রবীন্দ্রনাথ বললেন, আমার উপরে এদের অনেকগুলি চিঠি এসেছে । আমায় চিঠি দিয়েছে ঔরঙ্গজেব সম্বন্ধে কি কতকগুলি তুলে দিতে হবে । রবীন্দ্রনাথ ভয়ানক ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন, ও-সবের ভেতর আর আমি যেতে চাই না । ভোলানাথ যখন মারা গেল তার অপরাধটা কি ? আক্রাম খার ছেলেই কাগজ চালায় । তাদের spirit-এর একটা দৃষ্টান্ত দিই । নরেন দেবের কাছে লেখা চলে গেছে, বলে, “বাংলা থোড়া বহুং সমঝতে হেঁ, বে লনে নেই সাকৃতে ।” আমাদের আশঙ্কা ওরা প্রথমে বাংলাটাকে নষ্ট করবে । ওরা যখন বাংলাকে মাতৃভাষা বলে স্বীকার করে না ।*—বাতায়ন, ১৯ ভাদ্র, ১৩৪৩ ।

  • ১৯৩৬ সনের ৩১শে জুলাই তারিখে ঢাকা রূপলাল হাউসে শাস্তি’ পত্রিকার পক্ষ হইতে অমুষ্ঠিত সম্মিলনে প্রদত্ত বক্তৃতা । ===ੱਕੇ।

গত ফাঙ্কনের ( ১৩১৯ ) সাহিত্যে’ শ্ৰীযুক্ত ঋতেন্দ্রবাবুর 'কানকাটা ঐতিহাসিক তথ্য নির্ণীত হইয়াছে। তথ্যটি সত্য কিংবা অসত্য আলোচিত হইবার পূৰ্ব্বে একটা সন্দেহ স্বতঃই মনে উঠে, ঠাকুরমশাই প্রবন্ধটি হাসাইবার অভিপ্রায়ে লেখেন নাই ত ? কেন না, ইহা সত্যসত্যই সত্য আবিষ্কারের চেষ্টা এবং যথার্থই সত্য, তাহা মনে করিলেও দুঃখ হয় । তবে যদি হাসাইবার অভিপ্রায়ে লিখিয়া থাকেন, তাহ হইলে প্রবন্ধটি নিশ্চয়ই সার্থক হইয়াছে। কিন্তু, আর কোন উদ্দেশু থাকিলে বোধ করি ব্যর্থ হইয়াছে এবং হওয়াই মঙ্গল যাহা হউক, উক্ত প্রবন্ধে ঠাকুরমশাই বলিয়াছেন, “কানকাটা, কন্দকাটা, বা উড়িষ্যার থোন জাতিরা বাইবেল-কথিত কানানাইট জাতি ভিন্ন আর কিছুই নয়।” এই ‘কিছুই নয়’টি প্রমাণ করিবার জন্ম তিনি এই উভয় জাতির মধ্যে অনেক সাদৃত লক্ষ্য করিয়াছেন এবং তিতত্ব আবিষ্কার করিয়াছেন। তামার এক আত্মীয় সেদিন বলিতেছিল, আজকাল বাঙ্গলাদেশে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বর লেখক সবাই । কেবল ঝগড়া করিতে চায়— সুমের আঁতুড়-ঘর পশ্চিমমুখো, কিংবা পুৰ্ব্বমুখো ছিল । কথাটা তাহার নিতান্ত মিথ্যা নয় দেখিতেছি । কিন্তু জাতিতত্ত্ব জিনিসটি শুধু যদি খেলনার জিনিস হইত, কিংবা সখ করিয়া খান-দুই এ-ও-তা বই নাড়াচাড়া করিলেই ইহাতে ব্যুৎপত্তি জন্মিত, তাহা হইলে আমার এ প্রতিবাদের আবশ্বকতা ছিল না। কিন্তু তাহা নহে। সত্য-উদঘাটন —চুটুকি গল্প লেখা নহে। অতএব, জাতিতত্ত্ববিং বলিয়া প্রবন্ধ লিখিয়া খ্যাতি অর্জন করিবার পূৰ্ব্বে কিছু সলিড পরিশ্রমের আবশ্বক। সুতরাং, যে দুর্ভাগার অনেকদিন ধরিয়া গায়ের অনেক রক্ত জল করিয়া নীরস বইগুলি ঘাটিয়া মরিয়াছে, এ ভার তাহাদের উপর দিয়া নিশ্চিন্ত-মনে সরস কবিতা এবং রসাল সাহিত্যিক প্রবন্ধে বা গল্পে মনোনিবেশ করাই বুদ্ধির কাজ। খান দুই বই প্রাসা ভাসা রকম দেখিয়ালইয়া এবং গোটা দুই সাদৃশু উপরে উপরে মিলাইয়া দিয়া একটা অভিনব সত্য প্রচার করিতে পারা সাহসের পরিচয় সন্দেহ নাই; কিন্তু এ-সাহসে কাজ হয় না, শুধু অকাজ বাড়ে। যেমন, র্তাহার দেখা-দেখি আমার অকাজ বাড়িয়া গিয়াছে এবং যে হতভাগ্যেরা এগুলো পড়িবে, তাহাদের ত কথাই নাই। অবশু, পুরুষমাছুষের সাহস Vi:: শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ থাকা ভাল, কিন্তু একটু কম থাকাও আবার ভাল। বী হউক, কথাটা এই – ঠাকুরমশাই উড়িষ্কার (কলিঙ্গ ) খোদ এবং বাইবেলের কানানাইটের মধ্যে গুটি পাঁচ-ছয় মিল দেখিয়াই উভয়কেই সহোদর ভাই বলিয়া স্থির করিয়াছেন, কিন্তু গরমিলের ধার দিয়াও যান নাই। অবশ্য গরমিল দেখিতে যাইবার অসুবিধা আছে বটে, এবং এই অসুবিধা ভোগ না করিয়াও যা হউক একটা কিছু লেখা যায় সত্য, কিন্তু তাহাকে সত্য আবিষ্কার বলে না। যাহা বলে যাহা পিকউইক পেপারের আরম্ভটা । তা ছাড়া, শুধু সাদৃশ্য দেখিয়াই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যে কত বিপজ্জনক তাহার একটা সামান্ত দৃষ্টান্ত দিতেছি। এই সেদিন চন্দ্রগ্রহণ উপলক্ষে বাড়ির ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা থালায় জল লইয়ু ই করিয়া বসিয়াছিল। গ্রহণ লাগিলে তাহারা দেখিবে । হঠাৎ শাশুড়ী ঠাকরুণ বলিলেন, “ই বেীমা, কালীচরণ যে পাজি দেখে বলে গেল, সাতটার পূৰ্ব্বেই গেরণ লাগবে, সাতটা ত বেজে গেল, কৈ একবার ভাল করে পাজিট দেখ দেখি গা ।” দেখিলাম, পাজিতে লেখা আছে, দর্শনাভাব’ ! বলিলাম, “গেরণ হয়ত লাগবে, কিন্তু দেখা যাবে না।” ঠাকরুণ বিশ্বাস করিলেন না, বলিলেন, “সে কি কথা বোমা ? কালী যে বেশ করে দেখে বলে গেল, দশানা ভাব দেখা যাবে, আর তুমি বলছ একেবারেই দেখা যাবে না ? এ কি হয় ? দশানা না হউক আটান, আটানা না হউক চার আনাও ত দেখতে পাওয়া চাই।” কালীচরণকে ডাকানো হইলে আমি আড়ালে থাকিয়া বলিলাম, “সরকারমশায়, পাজিতে দর্শানাভাব লেখা আছে—গেরণ ত দেখতে পাওয়া যাবে না।” কালীচরণ হাসিয়া বলিল, “বেীমা, কৰ্ত্তা স্বর্গে গেছেন—তিনি বলতেন, গায়ের মধ্যে পাজি দেখতে যদি কেউ থাকে ত সে কালী। ঐ যার নাম দর্শনাভাব, তারই নাম দশানাভাব ! শুদ্ধ করে লিখতে গেলে ঐ রকম লিখতে হয় ! এ বড় শক্ত বিস্তে বেীমা, পাজি দেখে দেওয়া যে সে লোকের কাজ নয়।” আমি অবাক হইয়া গিয়া 'রেফের’ উল্লেখ করিয়া বলিলাম, “শ’য়ের মাথায় ঐ খোচাটার মত তবে কি রয়েচে ? ‘আ’কারটা এদিকে না থেকে ওদিকে কেন ?” কিন্তু আমার কোন কথাই খাটিল না। কালীচরণ সাদৃশ্য দেখিতে পাইয়াছে—সে হটিল না। বরং আরো হাসিয়া বলিল, “বেীমা, ওগুলো শুধু দেখবার বাহার। ছাপাড়েরা মনে করেছে, ঐগুলো দিলে বেশ দেখতে হবে । শোননি, লোকে কথায় বলে—যেন ছাপাড়ের বিস্তে । ওগুলো কিছুই নয়।” এই বলিয়া সে দর্শনাভাব’কে দশানা ভাবে স্বপ্রতিষ্ঠিত করিয়া জয়োল্লাসে হাদিতে হাসিতে বাহির হইয় গেল। তবু, সে বা ড়র গোমস্তা—ব্যাকরণ পড়ে নাই। সে-রাত্রে যদি সে ঠাকুরমশায়ের যত ‘য়-গ-ভ-গল্পোরভেদঃ শুনাইরা मिटङ नाब्रिङ, उांश श्रण आभांद्र बांद्र भूथ cमथाश्वाद्र *थ पाकिउ न । बाइ হউক, এ-সব ঘরের কথা,--না বলিলেও চলিত এবং কালীচরণ শুনিলে হয়ত দুঃখ père, কানকাটা করিযে, কিন্তু সামান্ত ‘রেফ’টাকে তুচ্ছ করিয়া, দর্শনাভাব’টাও যে দশানাভাবে দাড়ায়, এমন কি, সাদৃশ্যের জোরে এবং 'র-ল-ড'য়ের সাহায্যে এশিয়া মাইনরের কানানাইটও কলিঙ্গের কানকাটায় ষোল আনা রূপান্তরিত হয়, এই তুচ্ছ কথাটাই আজ ঠাকুরমশায়কে সবিনয়ে নিবেদন করিবার বাসনা করিয়াছি। এখন কোন পাঠক যদি ধরিয়া বসে দশানাটা বুঝি, ষোল আনাটা কি ? তাহা এই । উক্ত প্রবন্ধে ঠাকুরমশায় শুরুতেই বলিতেছেন—“পাঠক শুনিয়া বিস্মিত হইবেন যে, এই কাননাইটদিগের সহিত [উড়িষ্যার] কানকাটার ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে” (দশানা-ভাব )। পরেই বলিতেছেন—“কানানাইটরা ইম্রেল-প্রবাসী কানকাট ছাড়া আর কিছুই নয়” ( ষোল আন ভাব ) । পাঠকেরা যে রীতিমত বিশ্মিত হইবে, তাহা তিনি ঠিক ধরিয়াছেন। এমন কি, চন্দ্রগ্রহণের রাত্রের অপেক্ষাও। যাহা হোক, এই ষোল আনার স্বপক্ষে ঠাকুরমশায় বলিতেছেন—“ইহাদিগের উভয়ের দেবতা, উভয়ের আচার-প্রথার মধ্যে আশ্চৰ্য্য সাদৃশ্য। উভয় জাতির আচার-প্রথা, উহাদিগের দেবদেবী ইত্যাদি সকল বিষয় আলোচনা করিলে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, কানানাইট ও কানকাটা উহারা উভয়ে একজাতীয় জীব । *প্রথমে উহাদের দেবতা ও নরবলিদান-প্রথা বিষয়ে যে কিরূপ ঐক্য, তাহাই দেখাইতেছি । ভারতের কানকাটা বা কন্ধকাটারা যদিও নানা দেবদেবীর উপাসনা করে বটে, কিন্তু তাহাদের সর্বপ্রধান দেবতা—ভূমির উর্বরা শক্তির দেবতা বা ভূ-দেবী “তারী বা তাড়ী’ । ভূমির উর্বরাশক্তি এই দেবীর উপরেই নির্ভর করে বলিয়াই তাহাদের বিশ্বাস । এই দেবীর পস্তোষের জন্যই বিশেষ কৰ্ম্মে তাহারা নরবলি বা শিশুবলি দিতে প্রবৃত্ত হয়।” এই উভয় জাতির দেবতা যে একই দেবতা, তাহা দেখাইবার জন্য ঋতেন্দ্রবাবু বলিয়াছেন, “কানানাইটদিগেরও প্রধান দেবতা উর্বর শক্তির দেবী । Their chief deity Astarte, the goddess of fertility.” “oform of stor ol of (Tari ) e Fratafsɛft:fy që Ishtar (àrz ) qi Astarte ( sifisië) উহার একই শব্দের বিভিন্নরূপ মাত্র, কেবল দেশভেদ উচ্চারণভেদ ঘটিয়া সামান্ত বৈলক্ষশ্য উৎপাদন করিয়াছে। যেমন সংস্কৃত 'তার' বা তারকা' শব্দে পূর্বের 's' যুক্ত হইয়া star হইতে দেখা যায়, সেইরূপ এই তারা’ শবের পূৰ্ব্বে 's' বা as যুক্ত হইয়া ishtar বা Astarte-রূপে পরিণত হইয়াছে। উচ্চারণকালে 'ট’য়ে ড'য়ে বিশেষ প্রভেদ নাই।’ ইত্যাদি, ইত্যাদি যেহেতু 'র-ল-ড লয়োরভেদঃ ' প্রথমে এই দেীটির আলোচনা প্রয়োজন । ঐক্য যাহা থাকিবার তাহা ত উনিই একরকম দেখাইয়াছেন, অনৈক্য কোথায়, তাহাই বলা আবশ্যক । ঋতেন্ত্রবাবু যেই দেখিতে পাইলেন উর্বর শক্তি অমনি দুইটাকে এক করিয়া ফেলিলেন । কিন্তু উর্বরা শক্তি মানে কি জমির উৰ্ব্বর শক্তি ? নারীর সন্তান

    • अंब्र६-मांश्छिा-ज९aश्

প্রসব করিবার শক্তিকে কি বলে ? উহার কথাটা ঐ পর্য্যপ্ত সত্য যে, উভয় জাতিই উর্বর শক্তির পূজা করিত, কিন্তু কানানাইটরা যে উর্বর শক্তির পূজা কম্বিত তাহা জমির ময়, নারীর । কারণ, যে চিহ্ন ( symbol) দ্বারা মাসটার্ট দেবীটিকে প্রকাশ করা হইত, এবং যে কারণে দেবীর মন্দিরে 'temple prostitution' disfire fon, or cog “the licentious worship of the devotees of Astarte in her temple in Tyre and Sidon rendered the names of these cities synonymous with all that was wicked” stol ভূমির উর্বর শক্তি হইতেই পারে না। পুরাতন ধৰ্ম্ম-সম্বন্ধীয় ইতিহাসের ষে কোন একটা খুলিয়া দেখিলেই পাওয়া যায়, Astarte কে Venus দেবীর সহিত তুলনা won zestts I west-Astarte the Syrian Venus Stat E-crit নয় । আরো একটা কথা, এই খোন্দদিগের তাড়ী দেবীর মত কানানাইটদের আসটার্ট সৰ্ব্বশ্রেষ্ঠ দেবতা ছিলেন না। ইনি বাল' দেবতার পত্নীরূপেই পূজা পাইতেন। দেশে যতগুলি বালিম ছিলেন, ততগুলিই বিভিন্ন আসটার্ট ছিলেন। এমন কি, এই দেবীটিকে কোন কোন স্থানে শম্বাল পর্য্যন্ত বলা হইয়াছে। ‘শেম্বাল’ অর্থে বালদেবতার ছায়া । ইনি পরে অনেকগুলি নামে অভিহিত হইয়াছিলেন । ( 2, Kings 28, 13 ) । বাইবেলে অভ্যান্টারথ বলা হইয়াছে। wrota Tszzo isoto of HTCŞā “The Astarte given to Hellas under the alias of Aphrodite came back again as Aphrodite to Astarte's old Sanctuaries” fss Ēsta Hfzstof RTR fişøs ‘witz-in’ সুতরাং "তাড়ী’র সহিত যদি কাহারো সম্বন্ধ থাকা উচিত ত এই আশেরার, আসটাটের নয়। আমার ব্যাকরণে তেমন বোধশোধ নাই, থাকিলেও যে এই ‘জ্ঞাশেরী’ শব্দটাকে "র-ল-ড'য়ের জোরে তাড়ী’ করিয়া তুলিতে পারিতাম, সে ভরসা ত জোর করিয়া পাঠককে দিতে পারিলাম না । তারপরে নরবলির কথা । পৃথিবীর যে সমস্ত প্রাচীন জাতি ভূ-দেবীর পূজা করিত এবং প্রসন্ন করিতে নরবলি দিত, তাহাদের মধ্যে না পাই কোথাও আসটার্ট দেবীকে, না পাই র্তাহার ভক্ত কানানাইটদিগকে। পাইলেও ত মনে হয় না, তাহা এমন কিছু প্রমাণ করিত যে, খোন্দ এবং কানানাইট একই ধর্শ্বের আইন-কাল্গুন মানিয়া sfintfĘn i yfirst-strafiątą wtf?at sffststal (Indians of Guayaquil) জমিতে , বীজ বপন করিবার দিনে নরবলি দিত। প্রাচীন মেক্সিকোর অধিবাসীরা Conceiving the maize as a personal being who went through the whole course of life between seed time and harvest, sacrificed new-born babies when the maize was sown, older Motor कांमश्का? children when it had sprouted and so on till it was fully ripe when they sacrificed old men." otrofāzi şfix Estat "fr fs sfērs প্রতি বৎসর নরবলি দিত। দক্ষিণ-আফ্রিকার প্রাচীন কঙ্গোর রাণী "used to sacrifice a man and woman in March ; they were killed with spades and hoes." forfã estatoto *A* *so “It was the custom annually to impale a young gill alive soon after the spring equinox in order to secure good crops. A similar sacrifice is still annually offered at Benin." contal effects sin on for ww. নরবলি দিত। আমাদের ভারতবর্যের গোড়েরাও এক সময়ে ভূমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করিতে ব্রাহ্মণশিশু চুরি করিয়া আনিয়া ভূ-দেবীর সম্মুখে বিষাক্ত তীর দিয়া বিদ্ধ করিয়া হত্যা করিত। অস্ট্রেলিয়ার অসভ্য অধিবাসীরাও একটি কন্যাকে জীবন্ত পুতিয়া ফেলিয়া ভূ-দেবীকে প্রসন্ন করিত এবং সেই গোরের উপর সমস্ত গ্রামের শস্তবীজ চুপড়িতে করিয়া রাখিয়া যাইত। তাহারা বিশ্বাস করিত, মেয়েটি দেবতা হইয়া ঐ সমস্ত বীজের মধ্যে প্রবেশ করিবে এবং শস্য ভাল হইবে । otēla fore “sacrificed red-haired man to satisfy corn-god.” সাইবেরিয়াতেও এইরকম বলির প্রথা ছিল । ইহার কেহ আমেরিকায়, কেহ আফ্রিকার, কেহ এশিয়ার, কেহ অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা । একই রকমের ভূ-দেবী পুঞ্জ। ঐক্য দেখিয়া মনে হয়, ইহারা সকলেই এক একবার কানকাটার দৈশে আসিয়া শিখিয়া গিয়াছিল। কিন্তু কবে কেমন করিয়া আসিয়াছিল, সে কথা ইতিহাসে লেখে না, অতএব বলিতে পারিলাম না । ঠাকুরমশায় Encyclopaedia Britannica হইতে উন্ধ,ত করিয়া বলিয়াছেন, “কানানাইটের দেশে numerous jars with the skeletons of Infants of God formit5, we cannot doubt that the sacrificing of children was practised on a large scale among the Cananites.” (a for oil of safetal fors of fit কটাহের মধ্যে আশের দেবীকে নিবেদিত করিত ; কিন্তু তিনি কোথায় পাইলেন-খোমোরাও শিশু বলি দিয়া ভূ-দেবীকে নিবেদন করিত ? তাহারাও শিশু হত্যা করিত সত্য, কিন্তু সে হত্যা দেবতার নৈবেণ্ডের জন্য নয়। অনেকটা দারিদ্র্যের ভয়ে, অনেকটা ভূত-প্রেতের দৃষ্টি লাগিয়াছে এই কুসংস্কারে। হত্যা করা মানেই বলি দেওয়া নয়। তবে, কানানাইটদের কটাইের (jars ) সঙ্গে-এইটুকু মাত্র ঐক্য আছে যে, কম্বকাটারাও বড় বড় জালা জলপূৰ্ণ করিয়া তাহাতে শিশুটিকে ডুবাইর মারিত ! কারণ, আর কোনরূপে হত্য করা তাহারা বিধিসঙ্গত মনে ক্ষরিত মা ! কথাটা কোথায় vÉNe? a۹سته अंद्र६-मांहेिडा-जरअंई পড়িয়াছি মনে করিতে পারিতেছি না, কিন্তু কোথায়ু ধেন পড়িয়াছি, কে একজন এক বৃদ্ধ খোলকে প্রশ্ন করিয়াছিল, “বাপু, তোমরা এমন যন্ত্রণ দিয়া বধ কর কেন, আর কোন সহজ উপায় অবলম্বন কর না কেন ?” সে জবাব দিয়েছিল, "এ-ছাড়া আর কোন উপায়ে মারা ভয়ঙ্কর পাপমু'। কটাহের ঐক্য এই যা। সে দশ জানাই হউক আর ষোল আনাই হউক।” ঋতেন্ত্রবাবু বাইবেলের উক্তি উদ্ধত করিয়া বলিয়াছেন, "শিশুঘাতক কানানাইটরা যে সকলকে কিরূপ বিপন্ন করিয়া তুলিয়াছিল" ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু কলিঙ্গের খোদের কবে কাহাকে এমন করিয়া বিপন্ন করিয়া তুলিয়াছিল, এবং কোন দিন কাহার ছেলেমেয়ে চুরি করিয়া আনিয়া দেবতার পূজা দিয়াছিল, তাহা আমার জানা নাই। তাহারা যাহাকে ভূ-দেবীর কাছে বলি দিত তাহাকে ‘মিরিয়া’ বলিত, এবং এই মিরিয়া, তা সে নর নারী যেই হউক, যৌবনপ্রাপ্ত না হইলে কিছুতেই দেবতাকে উৎসর্গ করা হইত না। তাহারা কানানাইটদের মত ছেলে চুরি করিয়া আনিয়া ষে বলি দিত না, তাহার একটা চড় প্রমান এই যে, তাহারা মরণাপন্ন ‘মিরিয়ার' কর্ণমূলে এই কথা উচ্চৈঃস্বরে আবৃত্তি করিতে থাকিত, “তোমাকে দাম দিয়া কিনিয়াছি—আমাদের কোন পাপ নাই—কোন পাপ নাই—আমরা নির্দোষ ।" কিন্তু, কানানাইটদের সম্বন্ধে এরূপ কিছু আবৃত্তি করিবার নিয়ম ছিল কি ? ছিল না । ঋতেন্ত্রবাবু নিজেও প্রবন্ধের এক স্থলে ম্যাকফাসন সাহেবের উক্তি উদ্ধত করিয়া দেখিয়াছেন, খোমোরা আর যাহাই হউক, চোর-ডাকাত ছিল না । তা ছাড়া, কামানাইটদের দেবমন্দিরে শিশুর পঞ্জর দেখিতে পাওয়াটা ঠাকুরমশায়ের স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় মা বরং বিপক্ষে দেয়। তিনি লিথিয়াছেন, কানামাইটদের দেবমন্দিরাদি খনন করিতে করিতে পুরাতত্ত্বানুসন্ধানীরা এমন বৃহদাকার পাত্র আবিষ্কার করিয়াছেন, যাহার মধ্য হইতে শিশুর সমস্ত পঞ্চর প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে। এ-সকলই দেবোদেশে শিশু-বলিদানের নিদর্শন বলিয়৷ পণ্ডিতেরা স্বীকার করেন ।” আমিও করি। কিন্তু, তিনি একটু নিরীক্ষণ করিয়া দেখিলেই দেখিতে পাইতেন, ইহাদের বলির শিশুগুলি ভূমির উর্বর শক্তি বৃদ্ধিকল্পে ভূ-দেবীকে উৎসর্গ করা হইলে তাহাদের সমগ্র অস্থিপঞ্জর পাওয়া ত ঢের দূরের কথা, এক টুকরা হাড়ও মিলিত না। কারণ, পূর্বেই দেখিয়াছি, যাহারাই ভূ-দেবীর প্রীত্যৰ্থে নরবলী দিয়াছে, তাহারাই মৃতদেহটাকে কোন-না কোন রকমে ভূমির সঙ্গে মিশাইয়া দিয়াছে। প্রত্নতত্ত্বাস্থসন্ধানীর জন্ত কটাহে করিয়া তুলিয়া রাখিয়া যায় নাই। উড়িষ্যার কন্দকাটারাও রাখে নাই। তাহারা মৃতদেহটাকে খণ্ড খণ্ড করিয়া গ্রামের সকলে মিলিয়া ভাগ করিয়া যে যাহার নিজের ক্ষেতে পুতিত এমন কি, অবশিষ্ট নাড়িজুড়ি হাড়গোড়গুলোকেও ছাড়িত না । বন্ধ \©ፃ• কানকাটা করিয়া জলে গুলিয়া জমিতে ছিটাইয়া তাহার উর্কর শক্তি বৃদ্ধি করিয়া তবে ক্ষম্ভ হইত। এত দূর ত দেবীমাহাষ্মে এবং তাহার পূজার নৈবেস্তে কাটিল। ইহাতে ঐক্য অনৈক্য যাহা আছে, তাহ বিচার করিবার ভার পাঠকের উপরে। ঋতেন্দ্রবাবু এইবার দ্বিতীয় ঐক্যের অবতারণা করিয়াছেন। বলিতেছেন—"যে যেখানে থাকে, তাহার সেই আবাসস্থানের তুল্য প্রিয় আর কি হইতে পারে ? তালগাছ কানকাটাদের আবাসবৃক্ষ ; এই কারণে তালগাছ ত উহাদের প্রিয় হইবেই। আবার এই তালগাছপ্রিয়তা কানানাইটদের মধ্যেও বড় অল্প লক্ষিত হয় না । কানানাইটরাও বড় তালগাছভক্ত জাতি। তালজাতীয় বৃক্ষ উহাদের এতই প্রিয় যে, কানানাইটদের অন্য তম শাখার নাম ফিনীলিয়। ( শব্দের উৎপত্তি তালজাতীয় গাছের নাম হইতে আসিয়াছে। ফিনীসিয় শব্দের উৎপত্তি "ফাইনিক’ শব্দ হইতে, *R of “To co-"phoenike signify the land of palms)”—ofte ‘ফইনল’ অর্থাৎ লাল রং ( scarlet ) হইতেও ফিনীসিয়া হওয়া অসম্ভব নয়। যা হউক, ঋতেন্দ্রবাবুর এ যুক্তিটা ঠিক বোঝা গেল না। কারণ, দেশের তাল গাছটিকে ভালবাসার মধ্যে লওয়াতে আশ্চৰ্য্য হইবার বিষয় ত কিছুই দেখিতে পাই না । কনাকাটাদের দেশে বিস্তর তালগাছ। তাহারা তালের কড়ি-বরগা করে, পাতার ঘর ছায়, চাটাই বুনিয়া শয্যা রচনা করে। বাইবেলের কানানাইটরাও পাম ( palm ) বড় ভালবাসে। কারণ, পাম’ তাহদের দেশের একটি অতি উপকারী বৃক্ষ এবং দেশে কাছে ৪ বিস্তর। কিন্তু ইহাতে কি প্রমাণ করে ? আমাদের হুগলি জেলায় আমগাছ, তা ফলও ভাল, কাঠও ভাল, অাছেও অনেক । আমরা আমগাছ ভালবাসি । বৰ্দ্ধমান জেলায় কাঠালগাছ বিস্তর । তারা ওটা খায়ও বেশী, গাছটাকেও স্নেহ করে-ইহাতে আশ্চৰ্য্য হইবার কি আছে ? কিন্তু ঋতেন্ত্রবাবু বলিতেছেন, “কারণ কি ? উভয়েরই জাতিগত একতা ও উভয়ের এক আদিম বাসভূমিই উহার কারণ।” কিন্তু কেন ? দেশের উপকারী গাছকে ভালবাসাই ত সঙ্গত এবং স্বাভাবিক। বরং উনি যদি দেখাইতে পারিতেন, কোন একটা বৃক্ষকে ভালবাসিবার ঠিক হেতু দেখিতে পাওয়া যাইতেছে না, অথচ উভয় জাতিই ভালবাসিয়াছে, তাহ হইলে একটা কথা হইতে পারিত। যেমন, শেওড়া গাছ। যদি দেখান যাইত, ঠাকুরবাড়ির ( জগন্নাথ ) লোকেও গাছটাকে শ্রদ্ধা করে এবং উড়িষ্কার কানকাটারাও করে, অথচ কেন করে বলা যায় না, তাহা হইলে নিশ্চয়ই উহাদের একজাতীয়তা সন্দেহ হইতে পারিত, কিন্তু এস্থলে কৈ, কিছুই ত চোখে ঠেকে না। আরো একটা কথা। কলিঙ্গ দেশের কানকাটার 'পাম’ তালগাছ, কিন্তু বাইবেলের কানানাইটদের দেশের পাম’ খেজুরগাছ। দুটোকেই সাহেবরা পাম' বলে, কিন্তু বাস্তবিক তাহার কি এক ? ফলের চেহারাতেও একটু প্রভেদ আছে, ওজনেও একটু কম-বেশী আছে। גיכ\ **९-जांहेिड-ज९ॐई তাল যতটা খেজুর ফলটার চেয়ে একটু বড়। একসঙ্গে রাখিলে মিশিয়া যায় মা, তাহা বোধ করি ঋতেন্দ্রবাবুও অস্বীকার করিবেন না। ভোজন করিতেও একরকম মনে হয় না। অতএব গাছ দুটোকে সাহেবরা যা ইচ্ছা বলুক, এক নয় । একটা তাল একটা খেজুর । ঋতেন্ত্রবাবুর চতুর্থ ঐক্য। বলিতেছেন, “এইবারে পাঠকগণ আর একটি বিষয়ে কলিঙ্গবাসী কানকাটা ও কানানাইটদিগের মধ্যে একতা লক্ষ্য করুন। সেটি উহাদের উভয়ের জাতিগত রক্তবর্ণপ্রিয়তা । তাহারা কি পুরুষ, কি রমণী, সকলেই ঘোর লাল রঙের কাপড় পরিতে পারিলে অন্ত কাপড় চায় না । বিশেষতঃ গঞ্জাম, বিশাখাপত্তন প্রভৃতি তাল কলিঙ্গ বা কানকাটার দেশের লোকেরা কাপড়ের পাকা লাগ বেগুনি রং করিতে সিদ্ধহস্ত । কানকাটারাও ঠিক কলিঙ্গবাসীদের স্তায় বড় লাল রংয়ের প্রিয় ! কানানাইটদের অন্যতম শাখা ফিনীসিয়ের কাপড়ের ঘোর লাল রং করিবার জন্য এতটা প্রসিদ্ধ হইয়া উঠিয়াছিল যে, অনেকে অনুমান করেন ‘ফইনল’ শষ হইতে তাহাদের ফিনীসিয়া নামের উৎপত্তি হইয়াছে।” ঘোরতর একত আছে, তাহা অস্বীকার করিতে পারিলাম না । কিন্তু দুই-একটা নিবেদনও আছে। প্রথম, এই যে, ফিনীসিয়র যে লাল রঙের কাপড় তৈরী করিত, তাহ ঘরে পুরিয়া রাখিত না, দেশে-বিদেশে বিক্রয় করি ত যাহার দাম দিয়া কিনি ত, তাহারাও লাল রংটাও পছন্দ করিত, এ অনুমান বোধ করি খুব অসঙ্গত নয়। বস্তুতঃ তখনকার লোকের লাল রংটার এত অধিক আদর করিত যে, ফিনীসিয়দের ঐশ্চৰ্য্য মুখ্যতঃ লাল ংয়ের কারবারেই। তাহার, যে সমস্ত জাতি বলিদান দিয়া ঠাকুর পূজা করিত ঠাকুরকে রক্ত পান করাইত, তাহারা সকলেই লাল রং ব্যবহার করিতে ভালবাসিত । কেন বাসিত, কেন দেব-দেবীকে লাল রংয়ের কাপড় পরাইত, কেন লাল ফুল, লাল জবা, লাল চমান দিয়া সন্তোষ করিতে চাহিত, সে আলোচনা করিতে গেলে অনেক কথা বলিতে হয় । এ প্রবন্ধে তাহার স্থান নাই, আবখকও নাই। স্বন্ধ এই স্কুল কথাটা বলিয়াই ক্ষান্ত হইতে চাই ষে, কেবল এই দুটো জাতিই ঘোর লাল রং ভালবাসিত না, সে সময়ে জগতের বার অান লোকেই ভালবাসিত । তার পরে রং তৈরীর কথা । বিদ্যাটা খুব সম্ভব ফিনীলিয়েরাও কানকাটার কাছে শিখে নাই, কানকাটারাও ফিনীসিয়ের কাছে শিখে নাই । কানকাটার অর্থাৎ কলিজবাসী খোমোর, গাছের রস এবং তৃণমূল দিয়া রং তৈরী করিত, কিন্তু ফিনীলিয়ের মুরে মাছের ("Murex-purple shell-fish ) মাংস সিদ্ধ করিয়া রং করিত। সুতরাং, विद्याझे ५कख श्रéन कब्र श्ब्र थाकिरण ७कद्रकय इ७ब्राहे नखद झिल ।। ७-शाइ? কানকাটার দেশের সমূত্রেও প্রাপ্য নয়। আর লাল রং ভালবাসাবাসিটা কি ५क9 ठूणनाइ यस श्रउ भाटद्र ? फेडद्र चाउिग्र :छांशश्राद्र नाथूथ् इिन कि मl, ५ \b१३ কানকাটা সব কোন কথাই উঠিল না। কথা উঠিল উভয়েই লাল রং ভালবাসিত। এ-রক্ষম ঐক্য আরো আছে। উভয় জাতিই চোখ বুজিয়া ঘুমাইতে ভালবাসিত, হাতে কিছু না থাকিলে হাত ফুলাইয়া চলিতে পছন্দ করিত,—এ-সব ঐক্যের অবতারণাই বা না করিলেন ক্লেন ? - ঠাকুরমশায়ের পঞ্চম ঐক্য-নামে । এটি সবচেয়ে চমৎকার । বলিতেছেন, কানানাইট-বংশীয় যে লোকটা ইম্রেলরাজ ডেভিডের শরীররক্ষী ছিল, তাহার নাম ছিল উড়িয়া ( Uriah ) এবং এই উড়িয়া নামটি কাকতালীয়বৎ হয় নাই। কেন না, কানানাইটেরা যে কলিঙ্গ বা উড়-দেশীয় লোক, সেকালে সকলেরই জানা ছিল । সেই কারণেই যেমন নেপালী বা ভূটিয়া ভৃত্য থাকিলে তাহার নিজ নামের পরিবর্তে নেপালী বা ভূটিয়া নামেই পরিচিত হয়, এ-ক্ষেত্রেও সেইরূপ হইয়াছে। উডু হইতে উড়িয়ার উৎপত্তি। ইশ্ৰেলী ভাষায় কি দেশের নামে, কি মমুন্যের নামে ইয়া’ অস্ত৷ শব্যের প্রচলন বড় অধিক । যথা—জোলিয়া, জেড়েকিয়া, হেজেকিয়া, সিরিয়া, ইত্যাদি ।” এই কারণেই উড়" শব্দের উপর ইয়া’ অন্ত শব্দ লাগাইয়া ইম্রেলী ভাষায় উড়িয়া হইয়াছে। অামার ও ছেলেবেলায় ডেভিড় কপারফিল্ডের উড়িয়া হিপকে উড়ে মনে হইত। ভাবিতাম, লোকটা বিলেত গেল কিরূপে ? এখন দেখিতেছি কিরূপে গিয়াছিল! আরও ভাবিতেছি, স্কানডেনেভিয়া, ঘটেভিয়া, সাইবিরিয়া প্রভৃতিও সম্ভবত: এমনি করিয়াই হইয়াছে। কারণ, এগুলোও একটা শর কি-না দারুণ সন্দেহ। বরং ইশ্ৰেলী ইয়া’ প্রত্যয়ে নিম্পন্ন হওয়াই সঙ্গত এবং স্বাভাবিক। অতএব, উড়িয়া" যে একটা শব্দ নয়, "উড়°ইয়া” তাহাও যেমন নি:সংশয়ে অবধারিত হইল, সেকালে সকলেই যে জানিত কানানাইটরা উত্ত্বদেশীয়, তাহাও তেমনি অবিসংবাদে স্থিরীকৃত হইল। বেশ । তবে, একটা তুচ্ছ কথা এই যে, ঐ উড়িয়া লোকটা ছাড়া আরও বিস্তুর উড়িয়া কাৰানাইট তথায় ছিল। ইশ্ৰেলদের সঙ্গে অনেক দিন অনেক রকমেই তাহাদের জালাপ । লড়ায়েও বটে, বিয়া-সাদিতেও বটে। আনন্দেও বটে, নিরানদেও ঘটে। খাইবেল এন্থে নাম করা হইয়াছেও অনেকবার, কিন্তু এমনি আশ্চৰ্য্য যে, তাহাদের কোম স্বদেশীয়কেই আর উড়িয়া বলিয়া আর করিতে শুনিলাম না। বোধ কৰি ইঞ্জেলরাজ ডেভিডের নিষেধ ছিল। বলা যায় না—হইতেও পারে। বড় ঐক্যের অবতারণা করিয়া ঠাকুরমশায় বলিতেছেন, "রাজা ডেভিড যে উডু-সপ্তান কানানাইটকে তাহার শরীররক্ষক প্রহরী পদে নিযুক্ত করিয়াছিলেন, তাহ সম্ভবতঃ তাহাদের জাতিগত গুণ দেখিয়া । বর্তমান কালে সে কানালাইট জাতির অস্তিত্ব লুপ্ত হইয়াছে বটে, কিন্তু সেই একই গোষ্টির কলকাটা এখনও ভারতের কমিদ খা अकृशान विन्नमान। यहे कषकान्नैोइ भारौद्रिक शतृ ग#न गषिनरे तूवा पात्र \}^\o