প্রধান মেনু খুলুন

লুৰ-সঙ্ঘ কল্যাণীয় 'বেণু’র কিশোর-কিশোরী পাঠকগণ,—উত্তরবঙ্গের রংপুর সহর থেকে তোমাদের এখানি লিখছি। তোমরা জান বোধ হয় বাঙলাদেশে যুব-সমিতি নাম দিয়ে এক সঙ্ঘের স্বাক্ট হয়েছে। হয়ত, আজও তোমরা এর সভ্যশ্রেণীভুক্ত নয়, কিন্তু একদিন এই সমিতি তোমাদের হাতে এসেই পড়বে। তোমরাই এর উত্তরাধিকারী। তাই, এ-সম্বন্ধে দুটো কথা তোমাদের জানিয়ে রাখতে চাই। সমিতির বাধিক সম্মিলনী কাল শেষ হয়ে গেছে । আমি বুড়োমানুষ, তবুও ছেলে-মেয়েরা আমাকেই এই সম্মিলনীর নেতৃত্ব করবার জন্ত আমন্ত্রণ করে এনেছে । তারা আমার বয়সের খেয়াল করেনি। কারণ বোধ করি এই যে, কেমন করে যেন তারা বুঝতে পেরেছে, আমি তাদের চিনি । তাদের আশা ও আকাজক্ষার কথাগুলোর সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। আমি তাদের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে আনন্দের সঙ্গে ছুটে এসেছিলাম শুধু এই কথাটাই জানাতে যে, তাদের হাতেই দেশের সমস্ত ভাল-মন্দ নির্ভর করে, এই সত্যটা যেন তারা সকল অস্তর দিয়ে উপলব্ধি করে । অথচ, এই পরম সত্যটাকে বোঝবার পথে তাদের কতই না বাধা । কত আবরণই না তৈরী হয়েছে তাদের দৃষ্টি থেকে একে ঢেকে রাখবার জন্যে । আর তোমরা, যাদের বয়স আরও কম, তাদের বাধার ত আর অন্ত নেই। বাধা যারা দেয়, তারা বলে, সকল সত্য সকলের জানবার অধিকার নেই। এই যুক্তিটা এমনি জটিল যে, না বলে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়াও যায় না, ই বলে সম্পূর্ণ মেনে নেওয়াও যায় না আর এইখানেই তাদের জোর। কিন্তু এমন করে এ বস্তুর মীমাংসা হয় না । হয়ও নি । সৰ্ব্বদেশে, সৰ্ব্বকালে প্রশ্নের পর প্রশ্ন এসেছে;— অধিকারভেদের তর্ক উঠেছে, শেষে বয়স ছেড়ে মানুষের ছোট-বড়, উচু-নীচু অবস্থার দোহাই দিয়ে মানুষকে মানুষ জ্ঞানের দাবী থেকেও বঞ্চিত করে রেখেছে। তোমরাও এমনি তোমাদের জন্মভূমি সম্বন্ধে অনেক তথ্য অনেক জ্ঞান থেকেই বঞ্চিত হয়ে আছ । সত্য সংবাদ পেলে পাছে তোমাদের মন বিক্ষিপ্ত হয়, পাছে তোমাদের ইস্কুল-কলেজের পড়ায়, পাছে তোমাদের একৃজামিনে পাশের পরম বস্তুতে আঘাত লাগে, এই আশঙ্কায় মিধ্যে দিয়েও তোমাদের দৃষ্টি রোধ করা হয়, এ খবর হয়ত তোমরা জানতেও পারে না । e81 শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ যুব-সমিতির সম্মিলনে এই কথাটাই আমি সকলের চেয়ে বেশী করে বলতে চেয়েছিলাম । বলতে চেয়েছিলাম, তোমাদেব পরাধীন দেশটিকে বিদ্বেণীর শাসন থেকে যুক্তি দেবার অভিপ্রায়েই তোমাদের সত্তৰ গঠন । ইস্কুল কলেজের ছাত্রদের পাঠ্যাবস্থাতেও দেশের কাজে যোগ দেবার—স্বাধীনতা-পরাধীনতার বিষয় চিত্ত৷ করবার অধিকার আছে। এবং এই অধিকারের কথাটাও মুক্তকণ্ঠে ঘোষণা করবার অধিকার আছে । * বয়স কখনও দেশের ডাক থেকে কাউকে আটকে রাখতে পারে না, তোমাদের মত কিশোরবয়স্কদেরও না । একজামিনে পাশ করা দরকার,–এ তার চেয়েও বড় দরকার। ছেলেবেলায় এই সত্যচিন্তা থেকে আপনাকে পৃথক করে রাখলে যে ভাঙ্গার স্বাক্ট হয়, একদিন বয়স বাড়লেও ত আর তা জোড়া লাগতে চায় না । এই বয়সের শেখাটাই সবচেয়ে বF শিক্ষা। একেবারে রক্তের সঙ্গে মিশে যায় । নিজেও ত দেখি, ছেলেবেলায় মায়ের কোলে ৰসে একদিন ষা শিখেছিলাম, আজ এই বৃদ্ধ বয়সেও তা তেমনি অক্ষুন্ন আছে। সে শিক্ষার আর ক্ষয় নাই। তোমরা নিজের বেলাতেও ঠিক তাই মনে ক’রে । ভেবো না যে, আজি অবহেলায় যেদিকে দৃষ্ট দিলে না, আর একদিন বড় হয়ে তোমরা ইচ্ছামতই দেখতে পাবে। হয়ত পাবে না, হয়ত সহস্ৰ চেষ্টা সত্বেও সে দুল্লভ বস্ত চিরদিনই চোখের অন্তরালে রয়ে ষাবে । ষে শিক্ষা পরম শ্রেয়, তাকে এই কিশোর বয়সেই শিরার রক্তের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে গ্রহণ করতে হয়, তবেই যথার্থ করে পাওয়া যায় কালকের এই যুব-সমিতির যুবকেরা কংগ্রেসের ধরণ-ধারণ ছেলেবেলাতেই গ্রহণ করেছিল বলে সে রীতি-নীতি আর ত্যাগ করতে পারেনি। এটা ভয়ের কথা । রংপুর, ১৭ই ੋ5ਧ ! ‘’

  • ১৩৩৬ বঙ্গা, বৈশাখ সংখ্যা (৩য় বর্ষ, ১ম সংখ্যা ) ৰেণু মাসিক-পত্রে প্রকাশিত ।

ҹogy