প্রধান মেনু খুলুন

পট যে-সহরে অভিরাম দেবদেবীর পট আঁাকে, সেখানে কারো কাছে তার পূর্ব পরিচয় নেই। সবাই জানে, সে বিদেশী, পট আঁকা তার চিরদিনের ব্যবসা । সে মনে ভাবে, ধনী ছিলেম, ধন গিয়েচে, হয়েচে ভালো। দিন-রাত দেবতার রূপ ভাবি, দেবতার প্রসাদে খাই, আর ঘরে ঘরে দেবতার প্রতিষ্ঠা করি। আমার এই মান কে কাড়তে পারে ? এমন সময় দেশের রাজমন্ত্রী মারা গেল। বিদেশ থেকে নতুন এক মন্ত্রীকে রাজা আদর করে আনলে । সেদিন তাই নিয়ে সহরে খুব ধুম। কেবল অভিরামের তুলি সেদিন চলল না । নতুন রাজমন্ত্রী, এই ত সেই কুড়িয়ে-পাওয়া ছেলে, যাকে অভিরামের বাপ মানুষ করে নিজের ছেলের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছিল’। সেই বিশ্বাস হল সিধকাঠি, তাই দিয়ে বুড়োর সর্বস্ব সে হরণ করলে। সেই এল দেশের রাজমন্ত্রী হয়ে । { পট So Y যে-ঘরে অভিরাম পট আঁকে সেই তার ঠাকুর ঘর ; সেখানে গিয়ে হাতজোড় করে বললে, “এই জন্তেই কি এতকাল রেখায় রেখায় রঙে রঙে তোমাকে স্মরণ করে এলেম ? এতদিনে বর দিলে কি এই অপমান ? २ এমন সময় রথের মেলা বসল। সেদিন নানা দেশের নানা লোক তার পট কিনতে এল, সেই ভিড়ের মধ্যে এল একটি ছেলে, তার আগে পিছে লোক-লস্কর । সে একটি পট বেছে নিয়ে বললে, “আমি কিনব।” অভিরাম তার নফরকে জিজ্ঞাসা করলে,“ছেলেটি কে ?” সে বললে “আমাদের রাজমন্ত্রীর একমাত্র ছেলে।” অভিরাম তার পটের উপর কাপড় চাপা দিয়ে বললে, “বেচব না।” শুনে ছেলের আবদার আরো বেড়ে উঠল। বাড়িতে এসে সে খায় না, মুখ ভার করে থাকে। অভিরামকে মন্ত্রী থলিভরা মোহর পাঠিয়ে দিলে, মোহরভরা থলি মন্ত্রীর কাছে ফিরে এল। মন্ত্রী মনে মনে বললে, “এত বড় স্পৰ্দ্ধ৷ ” অভিরামের উপর যতই উৎপাত হতে লাগল, ততই সে মনে মনে বললে, “এই আমার জিৎ।” yలో: লিঙ্কিা \S) প্রতিদিন প্রথম সকালেই অভিরাম তার ইষ্ট দেবঙার একখানি করে ছবি আঁকে। এই তার পূজা, জার কোনো পুজা সে জানে না । একদিন দেখলে, ছবি তার মনের মত হয় না। কি যেন বদল হয়ে গেচে । কিছুতে তার ভাল লাগে না । তাকে যেন মনে মনে মারে । দিনে দিনে সেই সূক্ষ্ম বদল স্থল হয়ে উঠতে লাগল। একদিন হঠাৎ চমকে উঠে বললে, “বুঝতে পেরেছি।” জাজ সে স্পষ্ট দেখলে, দিনে দিনে তার দেৰতার মুখ মন্ত্রীক্ষ মুখের মত হয়ে উঠচে । তুলি মাটিতে ফেঙ্গে দিয়ে বললে, “মন্ত্রীরই জিৎ হল ।” সেই দিনই পট নিয়ে গিয়ে মন্ত্রীকে অভিরাম বললে, “এই নাও সেই পট, তোমার ছেলেকে দিয়ে।”

  • মন্ত্রী বললে, “কত দাম ?”

অভিরাম বললে, “আমার দেবতার ধ্যান তুমি কেড়ে নিয়েছিলে, এই পষ্ট দিয়ে সেই ধ্যাম ফিরে নেব।” মন্ত্রী কিছুই ফুৰতে পাৰূলে না । ജ്ജത്ത নতুন পুতুল > এই গুণী কেবল পুতুল তৈরি করত ; সে পুতুল রাজবাড়ির মেয়েদের খেলার জন্তে । বছরে বছরে রাজবাড়ির আঙিনায় পুতুলের মেল। বসে। সেই মেলায় সকল কারিগরই এই গুণীকে প্রধান মান দিয়ে এসেচে । যখন তার বয়স হল প্রায় চার কুড়ি, এমন সময় মেলায় এক নতুন কারিগর এল । তার নাম কিষণলাল, বয়স তার নবীন, নতুন তার কায়দা । যে-পুতুল সে গড়ে তার কিছু গড়ে কিছু গড়ে না, কিছু রং দেয় কিছু বাকি রাখে। মনে হয় পুতুলগুলো ষেন ফুরোয় নি, যেন কোনোকালে ফুরিয়ে যাবে না । নবীনের দল বললে, “লোকটী সাহস দেখিয়েচে ।” প্রবীণের দল বললে, “একে বলে সাহস ? এ ত সপদ্ধ।”