লিপিকা/প্রথম চিঠি


প্রথম চিঠি বধুর সঙ্গে তার প্রথম মিলন, আর তার পরেই এই প্রথম এসেচে প্রবাসে। চলে যখন আসে তখন বধুর লুকিয়ে কান্নাটি ঘরের আয়নার মধ্যে দিয়ে চকিতে ওর চোখে পড়ল । মন বললে, “ফিরি, দুটো কথা বলে’ আসি।” কিন্তু সেটুকু সময় ছিল না। সে দূরে আসবে বলে একজনের দুটি চোখ বয়ে জল পড়ে, তার জীবনে এমন সে আর কখনো দেখে নি । পথে চলবার সময় তার কাছে পড়ন্ত রোদরে এই পৃথিবী প্রেমের ব্যথায় ভরা হয়ে দেখা দিল । সেই অসীম ব্যথার ভাণ্ডারে তার মত একটি মানুষেরও নিমন্ত্রণ আছে এই কথা মনে করে বিস্ময়ে তার বুক ভরে উঠল। f 3 !, প্রথম চিঠি 〉○〉 যেখানে সে কাজ করতে এসেচে সে পাহাড় । সেখানে দেবদারুর ছায়া বেয়ে বাকী পথ নীরব মিনতির মত পাহাড়কে জড়িয়ে ধরে, আর ছোট ছোট ঝরণা কা’কে যেন আড়ালে আড়ালে খুজে বেড়ায়, লুকিয়ে চুরিয়ে। আয়নার মধ্যে যে ছবিটি দেখে এসেছিল আজ প্রকৃতির মধ্যে প্রবাসী সেই ছবিরই আভাস দেখে, নববধূর গোপন ব্যাকুলতার ছবি। আজ দেশ থেকে তার স্ত্রীর প্রথম চিঠি এল । লিখেচে, “তুমি কবে ফিরে আসবে ? এসো, এসো, শীঘ্র এসো। তোমার দুটি পায়ে পড়ি।” । এই আসা-যাওয়ার সংসারে তারও চলে’ যাওয়া আর তারও ফিরে আসার যে এত দাম ছিল একথা কে জানত ? সেই छूर्छि আতুর চোখের চাউনির সামনে সে নিজেকে দাড় করিয়ে দেখলে, আর তার মন বিস্ময়ে ভরে উঠল। ভোর বেলায় উঠে’ চিঠিখানি নিয়ে দেবদারুর ছায়ায় সেই বাক পথে সে বেড়াতে বেরল। চিঠির পরশ তার হাতে লাগে, আর কানে যেন সে শুনতে ysు লিসিঞ্চা পায়, “তোমাকে মা দেখতে পেয়ে আমার জগতের ইদমদ্ভ উজাকাশ কাল্পায় ভেসে গেল।” মৰ্মে মঙ্গে ভাবতে লাগল, “এত কান্নার মূল্য কি আমার মধ্যে আছে ?” や এমন সময় স্বৰ্য্য উঠা পুৰ্ব্বদিকের নীল পাহাড়ের শিখরে । দেবদারুর শিশির-ভেজা পাতার ঝালরের ভিতর দিয়ে আলো ঝিলমিল করে উঠল। হঠাৎ চারটি বিদেশিনী মেয়ে দুই কুকুর সঙ্গে নিয়ে রাস্তার বাকের মুখে তার সামনে এসে পড়ল। কি জানি কি ছিল তার মুখে, কিম্বা তার সাজে, কিম্বা তার চালচলনে,—বড় মেয়ে ফুটি কৌতুকে খুধু একটুখানি বাকিয়ে চলে গেল। ছোট মেয়ে ছুটি হাসি চাপার চেষ্টা করলে, চাপতে পারলে না ; ফুজনে দুজনকে ঠেলাঠেলি করে খিলখিল করে হেসে ছুটে গেল । কঠিন কৌতুকের হাসিতে ঝরনাগুলিরও সুর ফিরে গেল। তার হাততালি দিয়ে উঠল । প্রবাসী মাথা হেঁট করে চলে আর ভাবে--“আমার দেখার মূল্য কি ওই স্থাসি গ’ H  সেদিন রাস্তায় চলা তার আর হ’ল না। বাসায় ফিরে গেল; এক্‌লা ঘরে বসে’ চিঠিখানি খুলে পড়লে, “তুমি কবে ফিরে আস্‌বে? এসো, এসো, শীঘ্র এসো, তোমার দুটি পায়ে পড়ি!”