সোনার তরী/প্রত্যাখ্যান

প্রত্যাখ্যান।

অমন দীন-নয়নে তুমি
চেয়াে না!
অমন সুধা-করুণ সুরে
গেয়াে না!
সকাল বেলা সকল কাজে
আসিতে যেতে পথের মাঝে
আমারি এই আঙিনা দিয়ে
যেয়াে না!
অমন দীন-নয়নে তুমি
চেয়াে না!

মনের কথা রেখেছি মনে
যতনে;
ফিরিছ মিছে মাগিয়া সেই
রতনে!
তুচ্ছ অতি, কিছু সে নয়
দু চারি ফোঁটা অশ্রুময়
একটি শুধু শশাণিত-রাঙা
বেদনা!
অমন দীন-নয়নে তুমি
চেয়াে না!

কাহার আশে দুয়ারে কর
হানিছ?
না জানি তুমি কি মােরে মনে
মানিছ?
রয়েছি হেথা লুকাতে লাজ,
নাহিক মাের রাণীর সাজ,
পরিয়া আছি জীর্ণচীর
রাসনা।
অমন দীন-নয়নে তুমি
চেয়ে না!

কি ধন তুমি এনেছ ভরি’
দু’হাতে?
অমন করি’ যেয়াে না ফেলি'
ধূলাতে!
এ ঋণ যদি শুধিতে চাই,
কি আছে হেন, কোথায় পাই,
জনম তরে বিকাতে হবে
আপনা!
অমন দীন-নয়নে তুমি
চেয়াে না!

ভেবেছি মনে ঘরের কোণে
রহিব।

গােপন দুখ আপন বুকে
বহিব!
কিসের লাগি করিব আশা,
বলিতে চাহি, নাহিক ভাষা,
রয়েছে সাধ, না জানি তার
সাধনা!
অমন দীন-নয়নে তুমি
চেয়াে না!

যে সুর তুমি ভরেছ তব
বাঁশিতে
উহার সাথে আমি কি পারি
গাহিতে?
গাহিতে গেলে ভাঙ্গিয়া গান
উছলি উঠে সকল প্রাণ,
না মানে রোধ অতি অবােধ
রোদনা!
অমন দীন-নয়নে তুমি
চেয়াে না!

এসেছ তুমি গলায় মালা
ধরিয়া,
নবীন বেশ, শােভন ভূষা
পরিয়া।

হেথায় কোথা কনক থালা,
কোথায় ফুল, কোথায় মালা,
বাসর-সেবা করিবে কেবা,
রচনা?
অমন দীন-নয়নে তুমি
চেয়াে না!

ভুলিয়া পথ এসেছ সখা
এ ঘরে!
অন্ধকারে মালা-বাদল
কে করে!
সন্ধ্যা হতে কঠিন ভুঁয়ে
একাকী আমি রয়েছি শুয়ে,
নিয়ে দীপ জীবন-নিশি
যাপনা।
অমন দীন-নয়নে আর
চেয়াে না!


২৭ আষাঢ়, ১৩০০।