প্রধান মেনু খুলুন


ঠাকুরমা দ্রুততালে ছড়া যেত প ' ড়ে —
ভাবখানা মনে আছে — “ বউ আসে চতুর্দোলা চ ' ড়ে
                          আম কাঁঠালের ছায়ে ,
         গলায় মোতির মালা , সোনার চরণচক্র পায়ে । ”
  
                          বালকের প্রাণে
          প্রথম সে নারীমন্ত্র আগমনীগানে
ছন্দের লাগাল দোল আধোজাগা কল্পনার শিহরদোলায় ,
          আঁধার-আলোর দ্বন্দ্বে যে প্রদোষে মনেরে ভোলায় ,
                 সত্য-অসত্যের মাঝে লোপ করি সীমা
                           দেখা দেয় ছায়ার প্রতিমা ।
          ছড়া-বাঁধা চতুর্দোলা চলেছিল যে-গলি বাহিয়া
                           চিহ্নিত করেছে মোর হিয়া
           গভীর নাড়ীর পথে অদৃশ্য রেখায় এঁকেবেঁকে ।
                           তারি প্রান্ত থেকে
অশ্রুত সানাই বাজে অনিশ্চিত প্রত্যাশার সুরে
                           দুর্গম চিন্তার দূরে দূরে ।
           সেদিন সে কল্পলোকে বেহারাগুলোর পদক্ষেপে
                           বক্ষ উঠেছিল কেঁপে কেঁপে ,
           পলে পলে ছন্দে ছন্দে আসে তারা আসে না তবুও ,
                           পথ শেষ হবে না কভুও ।
  
সেকাল মিলাল । তার পরে , বধূ-আগমনগাথা
           গেয়েছে মর্মরচ্ছন্দে অশোকের কচি রাঙা পাতা ;
     বেজেছে বর্ষণঘন শ্রাবণের বিনিদ্র নিশীথে ;
                     মধ্যাহ্নে করুণ রাগিণীতে
                                 বিদেশী পান্থের শ্রান্ত সুরে ।
                     অতিদূর মায়াময়ী বধূর নূপুরে
            তন্দ্রার প্রত্যন্তদেশে জাগায়েছে ধ্বনি
                                      মৃদু রণরণি ।
 ঘুম ভেঙে উঠেছিনু জেগে ,
                                  পূর্বাকাশে রক্ত মেঘে
                                      দিয়েছিল দেখা
             অনাগত চরণের অলক্তের রেখা ।
                      কানে কানে ডেকেছিল মোরে
             অপরিচিতার কণ্ঠ স্নিগ্ধ নাম ধ ' রে —
                               সচকিতে
                      দেখে তবু পাই নি দেখিতে ।
                      অকস্মাৎ একদিন কাহার পরশ
          রহস্যের তীব্রতায় দেহে মনে জাগাল হরষ ;
                      তাহারে শুধায়েছিনু অভিভূত মুহূর্তেই ,
                               “ তুমিই কি সেই ,
                     আঁধারের কোন্‌ ঘাট হতে
                                  এসেছ আলোতে! ”
            উত্তরে সে হেনেছিল চকিত বিদ্যুৎ ;
ইঙ্গিতে জানায়েছিল , “ আমি তারি দূত ,
            সে রয়েছে সব প্রত্যক্ষের পিছে ,
                     নিত্যকাল সে শুধু আসিছে ।
     নক্ষত্রলিপির পত্রে তোমার নামের কাছে
                     যার নাম লেখা রহিয়াছে
     অনাদি অজ্ঞাত যুগে সে চড়েছে তার চতুর্দোলা ,
                      ফিরিছে সে চির-পথভোলা
                             জ্যোতিষ্কের আলোছায়ে ,
     গলায় মোতির মালা , সোনার চরণচক্র পায়ে । ”