ক্ষণিকা/জন্মান্তর

জন্মান্তর

আমি ছেড়েই দিতে রাজি আছি
সুসভ্যতার আলোেক,
আমি চাই না হতে নববঙ্গে
নবযুগের চালক।
আমি নাই-বা গেলেম বিলাত,
নাই-বা পেলেম রাজার খিলাত,
যদি পরজন্মে পাই রে হতে
ব্রজের রাখাল-বালক-
তবে নিবিয়ে দেব নিজের ঘরে
সুসভ্যতার আলােক॥

যারা নিত্য কেবল ধেনু চরায়
বংশীবটের তলে,
যারা গুঞ্জা ফুলের মালা গেঁথে
পরে পরায় গলে,
যারা বৃন্দাবনের বনে
সদাই শ্যামের বাঁশি শোনে,
যারা যমুনাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে
শীতল কালাে জলে-
যারা নিত্য কেবল ধেনু চরায়
বংশীবটের তলে॥

ওরে বিহান হল, জাগাে রে ভাই-
ডাকে পরস্পরে।
ওরে ওই-যে দধি-মন্থ-ধ্বনি
উঠল ঘরে ঘরে।
হেরো মাঠের পথে ধেনু
চলে উড়িয়ে গােখুর-রেণু,
হেরো আঙিনাতে ব্ৰজের বন্ধু
দুগ্ধ দোহন করে।
ওরে বিহান হল, জাগাে রে ভাই-
ডাকে পরস্পরে।

ওরে শাঙন-মেঘের ছায়া পড়ে
তমাল-মূলে,
ওরে এপার ওপার আঁধার হল
কালিন্দীরই কূলে।
ঘাটে গােপাঙ্গনা ডরে
কাঁপে খেয়াতরীর ’পরে,
হেরাে কুঞ্জবনে নাচে ময়ুর
কলাপখানি তুলে।
ওরে শাঙন-মেঘের ছায়া পড়ে
কালাে তমাল-মূলে॥

মোরা নবনবীন ফাগুন-রাতে
নীলনদীর তীরে
কোথা যাব চলি অশােক-বনে,
শিখিপুচ্ছ শিরে।
যবে দোলার ফুলরশি
দিবে নীপশাখায় কষি,
যবে দখিন-বায়ে বাঁশির ধ্বনি
উঠবে আকাশ ঘিরে,
মোরা রাখাল মিলে করব মেলা
নীলনদীর তীরে॥

আমি হব না, ভাই, নববঙ্গে
নবযুগের চালক,
আমি জ্বালাব না আঁধার দেশে
সুসভ্যতার আলােক-
যদি ননি-ছানার গাঁয়ে
কোথাও অশােক-নীপের ছায়ে
আমি কোনাে জন্মে পারি হতে
ব্রজের গােপবালক
তবে চাই না হতে নববঙ্গে
নবযুগের চালক॥