খেয়া/শেষ খেয়া

শেষ খেয়া

দিনের শেষে ঘুমের দেশে ঘোমটাপরা ওই ছায়া
ভুলালে। রে ভুলালো মোর প্রাণ।
ও পারেতে সোনার কূলে আঁধার মূলে কোন মায়া
গেয়ে গেল কাজ-ভাঙানো গান।
নামিয়ে মুখ চুকিয়ে মৃখ যাবার মুখে যায় যারা
ফেরার পথে ফিরেও নাহি চায়,
তাদের পানে ভাটার টানে যা ব রে আজ ঘর-ছাড়া—
সন্ধ্যা আসে, দিন যে চলে যায়।
ওরে আয়,
আমায় নিয়ে যাবি কে রে
দিনশেষের শেষ খেয়ায়।
সাবের বেল। ভাটার স্রোতে ও পার হতে এক-টানা
একটি ছটি যায় যে তরী ভেসে
কেমন করে চিনব, ওরে, ওদের মাঝে কোন্থানা
আমার ঘাটে ছিল অ্যামার দেশে।

অস্তাচলে তীরের তলে ঘন গাছের কোল ঘে’ যে
ছায়ায় যেন ছায়ার মতো যায়
ডাকলে আমি ক্ষণেক থামি হেথায় পাড়ি ধরবে সে।
এমন নেয়ে আাছে রে কোন নায়!
ওরে আয়
আমায় নিয়ে যাবি কে রে
দিনশেষের শেষ খেয়ায়।


ঘরেই যার যাবার তারা কখন গেছে ঘর-পানে,
পারে যারা যাবার গেছে পারে।
ঘরেও নহে, পারেও নছে, যে জন আছে মাঝখানে
সন্ধ্যাবেলা কে ডেকে নেয় তারে।
ফুলের বার নাইক আরফসল যার ফলল না,
চোখের জল ফেলতে হাসি পায়
দিনের আলে। যার ফুরালো, সঁাজের আলো জ্বলল না,
সেই বসেছে ঘাটের কিনারায়।
ওরে আায়,
আমায় নিয়ে যাবি কে রে
বেলাশেষের শেষ খেয়ায়।

আষাঢ় ১৩১২