১২

এই দুয়ারটি খােলা।
আমার খেলা খেলবে ব’লে
আপনি হেথায় আস চলে
ওগো আপন-ভােলা।
ফুলের মালা দোলে গলে,
পুলক লাগে চরণতলে
কাঁচা নবীন ঘাসে।
এস আমার আপন ঘরে,
বস আমার আসন-’পরে
লহ আমায় পাশে।
এমনিতরাে লীলার বেশে
যখন তুমি দাঁড়াও এসে,
দাও আমারে দোলা —
ওঠে হাসি, নয়ন-বারি,
তােমায় তখন চিনতে নারি
ওগাে আপন-ভােলা॥


কত রাতে, কত প্রাতে,
কত গভীর বরষাতে,
কত বসন্তে,

তােমায় আমায় সকৌতুকে
কেটেছে দিন দুঃখে সুখে
কত আনন্দে।
আমার পরশ পাবে বলে।
আমায় তুমি নিলে কোলে
কেউ তাে জানে না তা।
রইল আকাশ অবাক মানি,
করল কেবল কানাকানি
বনের লতাপাতা।
মােদের দোঁহার সেই কাহিনী
ধরেছে আছ কোন্ রাগিণী
ফুলের সুগন্ধে।
সেই মিলনের চাওয়া-পাওয়া
গেয়ে বেড়ায় দখিন-হাওয়া
কত বসন্তে॥


মাঝে মাঝে ক্ষণে ক্ষণে
যেন তােমায় হল মনে
ধরা পড়েছ।
মন বলেছে, “তুমি কে গাে,
চেনা মানুষ চিনি নে গাে,
কী বেশ ধরেছ।”

রােজ দেখেছি দিনের কাজে
পথের মাঝে ঘরের মাঝে
করছ যাওয়া-আসা;
হঠাৎ কবে এক নিমেষে
তােমার মুখের সামনে এসে
পাই নে খুঁজে ভাষা।
সেদিন দেখি, পাখির গানে
কী যে বলে কেউ না জানে-
কী গুণ করেছ।
চেনা মুখের ঘােমটা-আড়ে
অচেনা সেই উঁকি মারে,
ধরা পড়েছ॥

২২ চৈত্র ১৩১৮

শিলাইদহ