নামহারা এই নদীর পারে
ছিলে তুমি বনের ধারে——
বলে নি কেউ আমাকে।
শুধু কেবল ফুলের বাসে,
মনে হ’ত, খবর আসে—
উঠত হিয়া চমকে।
শুধু যেদিন দখিন-হাওয়ায়
বিরহ-গান মনকে গাওয়ায়
পরান-উনমাদনি,
পাতায় পাতায় কাঁপন ধরে,
দিগন্তরে ছাড়িয়ে পড়ে
বনান্তরের কাঁদনি,
সেদিন আমার লাগে মনে——
আছ যেন কাছের কোণে
একটুখানি আড়ালে,
জানি যেন সকল জানি,
ছুঁতে পারি বসনখানি
একটুকু হাত বাড়ালে॥

এ কী গভীর, এ কী মধুর,
এ কী হাসি পরান-বঁধুর,
এ কী নীরব চাহনি,
এ কী ঘন গহন মায়া,
এ কী স্নিগ্ধ শ্যামল ছায়া
নয়ন-অবগাহনি।
লক্ষ তারের বিশ্ববীণা
এই নীরবে হয়ে লীনা
নিতেছে সুর কুড়ায়ে।
সপ্তলােকের আলোেক-ধারা
এই ছায়াতে হল হারা,
গেল গাে তাপ জুড়ায়ে।
সকল রাজার রতন-সজ্জা।
লুকিয়ে গেল পেয়ে লজ্জা
বিনা-সাজের কী বেশে।
আমার চির-জীবনেরে
লও গো তুমি লও গাে কেড়ে
একটি নিবিড় নিমেষে॥

১৯ চৈত্র ১৩১৮ শিলাইদহ