৭৪

 গােরা কহিল, ‘না। প্রায়শ্চিত্ত কাল না। আজই আমার প্রায়শ্চিত্ত আরম্ভ হয়েছে। কালকের চেয়ে ঢের বড়াে আগুন আজ জ্বলেছে। আমার নবজীবনের আরম্ভে খুব একটা বড়াে আহুতি আমাকে দিতে হবে বলেই বিধাতা আমার মনে এতবড়ো একটা প্রবল বাসনাকে জাগিয়ে তুলেছেন। নইলে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটল কেন! আমি ছিলুম কোন্ ক্ষেত্রে! এদের সঙ্গে আমার মেলবার কোনাে লৌকিক সম্ভাবনা ছিল না। আর, এমন বিরুদ্ধ ভাবের মিলনও পৃথিবীতে সচরাচর ঘটে না। আবার সেই মিলনে আমার মতো উদাসীন লােকের চিত্তেও যে এতবড়ো দুর্জয় একটা বাসনা জাগতে পারে সে কথা কেউ কল্পনাও করতে পারত না। ঠিক আজই আমার এই বাসনার প্রয়ােজন ছিল। আজ পর্যন্ত আমি দেশকে যা দিয়ে এসেছি তা অতি সহজেই দিয়েছি, এমন দান কিছু করতে হয় নি যাতে আমাকে কষ্টবােধ করতে হয়েছে। আমি ভেবেই পেতুম না, লােকে দেশের জন্যে কোনো জিনিস ত্যাগ করতে কিছুমাত্র কৃপণতা বােধ করে কেন। কিন্তু বড়াে যজ্ঞ এমন সহজ দান চায় না। দুঃখই চাই। নাড়ী ছেদন করে তবে আমার নবজীবন জন্মগ্রহণ করবে। কাল প্রাতে জনসমাজের কাছে আমার লৌকিক প্রায়শ্চিত্ত হবে। ঠিক তার পূর্বরাত্রেই আমার জীবনবিধাতা

এসে আমার দ্বারে আঘাত করেছেন। অন্তরের মধ্যে আমার অন্তরতম প্রায়শ্চিত্ত না হলে কাল আমি শুদ্ধি গ্রহণ করব কেমন করে? যে দান আমার পক্ষে সকলের চেয়ে কঠিন দান, সেই দান আমার দেবতাকে আজ সম্পূর্ণ উৎসর্গ করে দিয়ে তবেই আমি সম্পূর্ণ পবিত্ররূপে নিঃস্ব হতে পারব, তবেই আমি ব্রাহ্মণ হব।’

 গােরা হরিমােহিনীর সম্মুখে আসিতেই তিনি বলিয়া উঠিলেন, “বাবা, একবার তুমি আমার সঙ্গে চলো। তুমি গেলে, তুমি মুখের একটি কথা বললেই সব হয়ে যাবে।”

 গােরা কহিল, “আমি কেন যাব। তাঁর সঙ্গে আমার কী যােগ? কিছুই না।”

 হরিমােহিনী কহিলেন, “সে যে তােমাকে দেবতার মতাে ভক্তি করে, তােমাকে গুরু বলে মানে।”

 গােরার হৃৎপিণ্ডের এক দিক হইতে আর-এক দিকে বিদ্যুত্তপ্ত বজ্রসূচী বিঁধিয়া গেল।

 গােরা কহিল, “আমার যাবার প্রয়ােজন দেখি নে। তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হবার আর-কোনাে সম্ভাবনা নেই।”

 হরিমােহিনী খুশি হইয়া কহিলেন, “সে তাে বটেই। অতবড়ো মেয়ের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হওয়াটা তাে ভালাে নয়। কিন্তু বাবা, আজকের আমার এই কাজটি না করে দিয়ে তাে তুমি ছাড়া পাবে না। তার পরে আর কখনো যদি তােমাকে ডাকি তখন বােলাে।”

 গােরা বার বার করিয়া মাথা নাড়িল। আর না, কিছুতে না। শেষ হইয়া গেছে। তাহার বিধাতাকে নিবেদন করা হইয়া গেছে। তাহার শুচিতায় এখন সে আর-কোনাে চিহ্ন ফেলিতে পারিবে না। সে দেখা করিতে যাইবে না।

 হরিমােহিনী যখন গােরার ভাবে বুঝিলেন তাহাকে টলানাে সম্ভব হইবে তখন তিনি কহিলেন, “নিতান্তই যদি না যেতে পার তবে এক কাজ

করো বাবা। একটা চিঠি তাকে লিখে দাও।”

 গােরা মাথা নাড়িল। সে হইতেই পারে না। চিঠিপত্র নয়।

 হরিমােহিনী কহিলেন, “আচ্ছা, তুমি আমাকেই দু লাইন লিখে দাও। তুমি সব শাস্ত্রই জান, আমি তােমার বিধান নিতে এসেছি।”

 গােরা জিজ্ঞাসা করিল, “কিসের বিধান?”

 হরিমােহিনী কহিলেন, “হিন্দুঘরের মেয়ের উপযুক্ত বয়সে বিবাহ করে গৃহধর্ম পালন করাই সকলের চেয়ে বড়াে ধর্ম কি না।”

 গােরা কিছু ক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া কহিল, “দেখুন, আপনি এ-সমস্ত ব্যাপারে আমাকে জড়াবেন না। বিধান দেবার পণ্ডিত আমি নই।”

 হরিমােহিনী তখন একটু তীব্রভাবে কহিলেন, “তােমার মনের ভিতরকার ইচ্ছাটা তা হলে খুলেই বলো-না। গােড়াতে ফাঁস জড়িয়েছ তুমিই, এখন খােলবার বেলায় বল ‘আমাকে জড়াবেন না।’ এর মানেটা কী! আসল কথা, ইচ্ছেটা তােমার নয় যে ওর মন পরিষ্কার হয়ে যায়।”

 অন্য কোনাে সময় হইলে গােরা আগুন হইয়া উঠিত। এমনতরাে সত্য অপবাদও সে সহ্য করিতে পারিত না। কিন্তু আজ তাহার প্রায়শ্চিত্ত আরম্ভ হইয়াছে, সে রাগ করিল না। সে মনের মধ্যে তলাইয়া দেখিল, হরিমােহিনী সত্য কথাই বলিতেছেন। সে সুচরিতার সঙ্গে বড়ো বাঁধনটা কাটিয়া ফেলিবার জন্য নির্মম হইয়া উঠিয়াছে, কিন্তু একটি সূক্ষ্ম সূত্র, যেন দেখিতে পাই নাই এমনি ছল করিয়া, সে রাখিতে চায়। সে সুচরিতার সহিত সম্বন্ধকে একেবারে সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করিয়া দিতে এখনাে পারে নাই।

 কিন্তু কৃপণতা ঘুচাইতে হইবে। এক হাত দিয়া দান করিয়া আর-এক হাত দিয়া ধরিয়া রাখিলে চলিবে না।

 সে তখন কাগজ বাহির করিয়া জোরের সঙ্গে বড় অক্ষরে লিখিল-‘বিবাহই নারীর জীবনে সাধনার পথ, গৃহধর্মই তাহার প্রধান ধর্ম। এই বিবাহ ইচ্ছাপূরণের জন্য নহে, কল্যাণসাধনের জন্য। সংসার সুখেরই হউক আর দুঃখেরই হউক, একমনে সেই সংসারকেই বরণ করিয়া, সতী সাধ্বী

পবিত্র হইয়া, ধর্মকেই রমণী গৃহের মধ্যে মূর্তিমান করিয়া রাখিবেন- এই তাঁহাদের ব্রত।’

 হরিমােহিনী কহিলেন, “অমনি আমাদের কৈলাসের কথাটা একটুখানি লিখে দিলে ভালো করতে বাবা।”

 গােরা কহিল, “না, আমি তাঁকে জানি নে। তাঁর কথা লিখতে পারব না।”

 হরিমােহিনী কাগজখানি যত্ন করিয়া মুড়িয়া, আঁচলে বাঁধিয়া, বাড়ি ফিরিয়া আসিলেন। সুচরিতা তখনাে আনন্দময়ীর নিকট ললিতার বাড়িতে ছিল। সেখানে আলােচনার সুবিধা হইবে না এবং ললিতা ও আনন্দময়ীর নিকট হইতে বিরুদ্ধ কথা শুনিয়া তাহার মনে দ্বিধা জন্মিতে পারে আশঙ্কা করিয়া সুচরিতাকে বলিয়া পাঠাইলেন, পরদিন মধ্যাহ্নে সে যেন তাঁহার নিকটে আসিয়া আহার করে। বিশেষ প্রয়ােজনীয় কথা আছে আবার অপরাহ্ণেই সে চলিয়া যাইতে পারে।


 পরদিন মধ্যাহ্নে সুচরিতা মনকে কঠিন করিয়াই আসিল। সে জানিত তাহার মাসি তাহাকে এই বিবাহের কথাই আবার আর-কোনােরকম করিয়া বলিবেন। সে আজ তাঁহাকে অত্যন্ত শক্ত জবাব দিয়া কথাটা একেবারেই শেষ করিয়া দিবে, এই তাহার সংকল্প ছিল।

 সুচরিতার আহার শেষ হইলে হরিমােহিনী কহিলেন, “কাল সন্ধ্যার সময় আমি তােমার গুরুর ওখানে গিয়েছিলুম।”

 সুচরিতার অন্তঃকরণ কুণ্ঠিত হইয়া পড়িল। মাসি আবার কি তাহার কোনাে কথা তুলিয়া তাঁহাকে অপমান করিয়া আসিয়াছেন।

 হরিমােহিনী কহিলেন, “ভয় নেই রাধারানী, আমি তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করতে যাই নি। একলা ছিলুম, ভাবলুম যাই তাঁর কাছে দুটো ভালাে কথা শুনে আসি গে। কথায় কথায় তােমার কথাই উঠল। তা দেখলুম, তাঁরও ওই মত। মেয়েমানুষ যে বেশিদিন আইবুড়াে হয়ে থাকে, এটা তাে তিনি ভালাে বলেন না। তিনি বলেন, শাস্ত্রমতে ওটা অধর্ম। ওটা সাহেবদের

ঘরে চলে, হিন্দুর ঘরে না। আমি তাঁকে আমাদের কৈলাসের কথাও খুলে বলেছি। দেখলুম লােকটি জ্ঞানী বটে।”

 লজ্জায় কষ্টে সুচরিতা মর্মে মরিতে লাগিল। হরিমােহিনী কহিলেন, “তুমি তো তাঁকে গুরু বলে মানো। তাঁর কথাটা তাে পালন করতে হবে?”

 সুচরিতা চুপ করিয়া রহিল। হরিমােহিনী কহিলেন, “আমি তাঁকে বললুম, ‘বাবা, তুমি নিজে এসে তাকে বুঝিয়ে যাও, সে আমাদের কথা মানে না।’ তিনি বললেন, ‘না, তার সঙ্গে আমার দেখা হওয়া উচিত হবে না; ওটা আমাদের হিন্দুসমাজে বাধে।’ আমি বললুম, ‘তবে উপায় কী?’ তখন তিনি আমাকে নিজের হাতে লিখে দিলেন। এই দেখাে-না।”

 এই বলিয়া হরিমােহিনী ধীরে ধীরে আঁচল হইতে কাগজটি খুলিয়া লইয়া তাহার ভাঁজ খুলিয়া সুচরিতার সম্মুখে মেলিয়া দিলেন।

 সুচরিতা পড়িল। তাহার যেন নিঃশ্বাস রুদ্ধ হইয়া আসিল। সে কাঠের পুতুলের মতাে আড়ষ্ট হইয়া বসিয়া রহিল।

 লেখাটির মধ্যে এমন কিছুই ছিল না যাহা নূতন বা অসংগত। কথাগুলির সহিত সুচরিতার মতের যে অনৈক্য আছে তাহাও নহে। কিন্তু হরিমােহিনীর হাত দিয়া বিশেষ করিয়া এই লিখনটি তাহাকে পাঠাইয়া দেওয়ার যে অর্থ তাহাই সুচরিতাকে নানা প্রকারে কষ্ট দিল। গােরার কাছ হইতে এ আদেশ আজ কেন! অবশ্য, সুচরিতারও সময় উপস্থিত হইবে, তাহাকেও একদিন বিবাহ করিতে হইবে- সেজন্য গােরার পক্ষে এত ত্বরান্বিত হইবার কি কারণ ঘটিয়াছে? তাহার সম্বন্ধে গােরার কাজ একেবারে শেষ হইয়া গেছে? সে কি গােরার কর্তব্যে কোনাে হানি করিয়াছে? তাহার জীবনের পথে কোনাে বাধা ঘটাইয়াছে? তাহাকে গােরার দান করিবার এবং তাহার নিকট প্রত্যাশা করিবার আর-কিছুই নাই? সে কিন্তু এমন করিয়া ভাবে নাই, সে কিন্তু এখনাে পথ চাহিয়া ছিল। সুচরিতা নিজের ভিতরকার এই অসহ্য কষ্টের বিরুদ্ধে লড়াই করিবার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করিতে লাগিল, কিন্তু সে মনের মধ্যে কোথাও কিছুমাত্র সান্ত্বনা পাইল না।

 হরিমােহিনী সুচরিতাকে অনেক ক্ষণ ভাবিবার সময় দিলেন। তিনি তাঁহার নিত্যনিয়ম-মত একটুখানি ঘুমাইয়াও লইলেন। ঘুম ভাঙিয়া সুচরিতার ঘরে আসিয়া দেখিলেন, সে যেমন বসিয়া ছিল তেমনিই চুপ করিয়া বসিয়া আছে।

 তিনি কহিলেন, “রাধু, অত ভাবছিস কেন বল দেখি। এর মধ্যে ভাববার অত কী কথা আছে? কেন, গৌরমােহনবাবু অন্যায় কিছু লিখেছেন?”

 সুচরিতা শান্তস্বরে কহিল, “না, তিনি ঠিকই লিখেছেন।”

 হরিমােহিনী অত্যন্ত আশ্বস্ত হইয়া বলিয়া উঠিলেন, “তবে আর দেরি করে কী হবে বাছা?”

 সুচরিতা কহিল, “না, দেরি করতে চাই নে। আমি একবার বাবার ওখানে যাব।”

 হরিমােহিনী কহিলেন, “দেখাে রাধু, তােমার যে হিন্দুসমাজে বিবাহ হবে এ তােমার বাবা কখনাে ইচ্ছা করবেন না। কিন্তু তােমার গুরু যিনি তিনি—”

 সুচরিতা অসহিষ্ণু হইয়া বলিয়া উঠিল, “মাসি, কেন তুমি বার বার ওই এক কথা নিয়ে পড়েছ। বিবাহ নিয়ে বাবার সঙ্গে আমি কোনাে কথা বলতে যাচ্ছি নে। আমি তাঁর কাছে অমনি একবার যাব।”


 পরেশের সান্নিধ্যই যে সুচরিতার সান্ত্বনার স্থল ছিল। পরেশের বাড়ি গিয়া সুচরিতা দেখিল, তিনি একটা কাঠের তােরঙ্গে কাপড়চোপড় গােছাইতে ব্যস্ত।

 সুচরিতা জিজ্ঞাসা করিল, “বাবা, এ কী!”

 পরেশ একটু হাসিয়া কহিলেন, “মা, আমি সিমলা পাহাড়ে বেড়াতে যাচ্ছি, কাল সকালের গাড়িতে রওনা হব।”

 পরেশের এই হাসিটুকুর মধ্যে মস্ত একটা বিপ্লবের ইতিহাস প্রচ্ছন্ন ছিল, তাহা সুচরিতার অগােচর রহিল না। ঘরের মধ্যে তাঁহার স্ত্রী কন্যা

ও বাহিরে তাঁহার বন্ধুবান্ধবেরা তাঁহাকে একটুও শান্তির অবকাশ দিতেছিল না। কিছুদিনের জন্যও যদি তিনি দূরে গিয়া কাটাইয়া না আসেন, তবে ঘরে কেবলই তাঁহাকে কেন্দ্র করিয়া একটা আবর্ত ঘুরিতে থাকিবে। কাল তিনি বিদেশে যাইবার সঙ্কল্প করিয়াছেন, অথচ আজ তাঁহার আপনার লােক কেহই তাঁহার কাপড় গুছাইয়া দিতে আসিল না, তাঁহার নিজেকেই এ কাজ করিতে হইতেছে- এই দৃশ্য দেখিয়া সুচরিতার মনে খুব একটা আঘাত লাগিল। সে পরেশবাবুকে নিরস্ত করিয়া প্রথমে তাঁহার তােরঙ্গ সম্পূর্ণ উজাড় করিয়া ফেলিল। তাহার পরে বিশেষ যত্নে ভাঁজ করিয়া কাপড়গুলিকে নিপুণ হস্তে তােরঙ্গের মধ্যে আবার সাজাইতে লাগিল, এবং তাঁহার সর্বদাপাঠ্য বইগুলিকে এমন করিয়া রাখিল যাহাতে নাড়াচাড়াতেও তাহাদের আঘাত না লাগে। এইরূপে বাক্স গুছাইতে গুছাইতে সুচরিতা আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, “বাবা, তুমি কি একলাই যাবে?”

 পরেশ সুচরিতার এই প্রশ্নের মধ্যে বেদনার আভাস পাইয়া কহিলেন, “তাতে আমার তাে কোনাে কষ্ট নেই রাধে।”

 সুচরিতা কহিল, “না বাবা, আমি তােমার সঙ্গে যাব।”

 পরেশ সুচরিতার মুখের দিকে চাহিয়া ছিলেন। সুচরিতা কহিল, “বাবা, আমি তােমাকে কিছু বিরক্ত করব না।”

 পরেশ কহিলেন, “সে কথা কেন বলছ! আমাকে তুমি কবে বিরক্ত করেছ মা?”

 সুচরিতা কহিল, “তােমার কাছে না থাকলে আমার ভালাে হবে না। বাবা। আমি অনেক কথাই বুঝতে পারি নে। তুমি আমাকে বুঝিয়ে না দিলে আমি কিনারা পাব না। বাবা, তুমি যে আমাকে আমার নিজের বুদ্ধির উপরে নির্ভর করতে বল, আমার সে বুদ্ধি নেই, আমি মনের মধ্যে সে জোরও পাচ্ছি নে। তুমি আমাকে তােমার সঙ্গে নিয়ে চলো বাবা।”

 এই বলিয়া সে পরেশের দিকে পিঠ করিয়া অত্যন্ত নতশিরে তােরঙ্গের

কাপড় লইয়া পড়িল। তাহার চোখ দিয়া টপ্ টপ্ করিয়া জল পড়িতে লাগিল।