マてョーキi考てョ বিমলার আত্মকথা মাগো, অপজ মনে পড়চে তোমার সেই সিথের সিদূর, সেই লাল-পেড়ে সাড়া সেই তোমার দুটি চোখ–শাস্ত, স্নিগ্ধ, গভীর। সে যে দেখচি আমার চিত্তাকাশে ভোরবেলাকার অরুণ-রাগ-রেখার মতো। আমার জীবনের দিন যে সেই সোনার পাথেয় নিয়ে যাত্রা করে বেরিয়েছিলো। তার পরে ? পথে কালে মেঘ কী ডাকাতের মতো ছুটে এলো ? সেই আমার আলোর সম্বল কি এক কণাও রাখলে না ? কিন্তু জীবনের ব্রাহ্ম-মুহূৰ্ত্তে সেই যে উষা-সতীর দান; দুৰ্য্যোগে সে ঢাকা পড়ে, তবু সে কি নষ্ট হবার ? আমাদের দেশে তাকেই বলে সুন্দর যার বর্ণ গেীর। কিন্তু যে আকাশ আলো দেয় সে যে নীল। আমার মায়ের বর্ণ ছিলো শামলা, তার• দীপ্তি ছিলো পুণ্যের। র্তার রূপ রূপের গৰ্ব্বকে লজ্জা দিতো । २ ঘরে-বাইরে আমি মায়ের মতো দেখতে এই কথা সকলে বলে। তা নিয়ে ছেলে-বেলায় একদিন আয়নার উপর রাগ ক’রেচি । মনে হ’লে আমার সর্বাঙ্গে যেন একটা অন্যায়—আমার গায়ের রঙ, এ যেন আমার আসল রঙ নয়, এ যেন আর কারো জিনিষ, একেবারে আগাগোড়া ভুল। সুন্দরী তো নই, কিন্তু মায়ের মতো যেন সতীর যশ পাই দেবতার কাছে একমনে এই বর চাইতুম। বিবাহের সম্বন্ধ হবার সময় আমার শ্বশুর-বাড়ী থেকে দৈবজ্ঞ এসে আমার হাত দেখে ব’লেছিলো,–এ মেয়েটি স্বলক্ষণ, সতী-লক্ষ্মী হবে –মেয়েরা সবাই ব’ললে, তা হবেই তো বিমলা যে ওর মায়ের মতো দেখতে । রাজার ঘরে আমার বিয়ে হ’লো। তাদের কোন কালের বাদসাহের অমলের সম্মান । ছেলেবেলায় রূপকথায় রাজপুত্রের কথা শুনেছি,—তখন থেকে মনে একটা ছবি আঁকা ছিলো।—রাজার ঘরের ছেলে, দেহখানি যেন চামেলি ফুলের পাপড়ি দিয়ে গড়া, যুগযুগান্তর যে সব কুমারী শিবপূজা করে এসেছে তাদেরই একাগ্রমনের কামনা দিয়ে সেই মুখ যেন তিলে তিলে তৈরি । সে কী চোখ, কী নাক ! তরুণ গোফের রেখা ভ্রমরের ছ’টি ডানার মতো—যেমন কালো, তেমনি কোমল । স্বামীকে দেখলুম তার সঙ্গে ঠিক মেলে না। এমন কি, র্তার রঙ দেখলুম আমারি মতো । নিজের রূপের অভাব নিয়ে মনে যে সঙ্কোচ ছিলো সেটা কিছু ঘুচুলো বটে কিন্তু সেই ঘরে-বাইরে ඵ সঙ্গে একট। দীর্ঘ নিঃশ্বাসও পড়লো। নিজের জন্তে লজ্জায় না হয় ম’রেই যে তুম, তবু মনে মনে যে রাজপুত্রটি ছিলো তাকে একবার চোখে চোখে দেখতে পেলুম না কেন ? কিন্তু রূপ যখন চোখের পাহারা এড়িয়ে লুকিয়ে অন্তরে দেখা দেয় সেই বুঝি ভালো। তখন সে যে ভক্তির অমরাবতীতে এসে দাড়ায়—সেখানে তাকে কোনো সাজ করে আসতে হয় না । ভক্তির আপন সৌন্দর্য্যে সমস্তই কেমন সুন্দয় হ’য়ে ওঠে/ সে অামি ছেলে-বেলায় দেখেছি । মা যখন বাবার জন্তে বিশেষ ক’রে ফলের খোসা ছাড়িয়ে সাদা পাথরের রেকাবিতে জলখাবার গুছিয়ে দিতেন, বাবার জন্তে পানগুলি বিশেষ ক’রে কৈওড়া জলের ছিটে দেওয়া কাপড়ের টুকরোয় । আলাদা জুড়িয়ে রাখতেন, তিনি খেতে ব’সলে তালপাতার পাখা নিয়ে আস্তে আস্তে মাছি তাড়িয়ে দিতেন ; র্তার সেই লক্ষ্মীর হাতের আদর, তার হৃদয়ের সুধারসের ধারা কোন অপরূপ রূপের সমুদ্রে গিয়ে ঝাপ দিয়ে প’ড় তো সে যে আমার সেই ছেলেবেলাতেও মনের মধ্যে বুঝতুম | সেই ভক্তির স্বরটি কি আমার মনের মধ্যে ছিলো না ? ছিলো। তর্ক না, ভালোমন্দের তত্ত্বনির্ণয় না, সে কেবলমাত্র একটি স্বর। সমস্ত জীবনকে যদি জীবন-বিধাতার মন্দির 甲 প্রাঙ্গণে একটি স্তবগান ক’রে বাজিয়ে যাবার কোনো o {} থাকে, তবে সেই প্রভাতের স্বরটি আপনার কাজ\আরম্ভ ক’রেছিলো । l \ মনে আছে, ভোরের বেলায় উঠে অর্তি সাবধানে যখন 8 ঘরে-বাইরে স্বামীর পায়ের ধূলো নিতুম তখন মনে হ’তো আমার সিথের সিদূরটি যেন শুকতারার মতো • জ’লে উঠলো। একদিন তিনি হঠাৎ জেগে হেসে উঠে ব’ললেন, “ও কি বিমল, ক’রচে কি ?” আমার সে লজ্জা ভুলতে পারবো না । তিনি হয় তো ভাবলেন, আমি লুকিয়ে পুণ্য অর্জন ক’রচি। কিন্তু নয়, নয়, সে আমার পুণ্য নয়,—সে আমার নারীর হৃদয়, তার ভালবাসা আপনিই পূজা করতে চায়। আমার শ্বশুর-পরিবার সাবেক নিয়মে বাধা । তার কতক কায়দা-কানুন মোগল-পাঠানের, কতক বিধিবিধান মনুপরাশরের । কিন্তু আমার স্বামী একেবারে একেলে । এ ংশে তিনিই প্রথম রীতিমত লেখাপড়া শেখেন, আর এম, এ পাশ করেন । তার বড়ো তুই ভাই মদ খেয়ে, অল্পবয়সে মারা গেছেন—তাদের ছেলেপুলে নেই। আমার স্বামী মদ খান না, তার চরিত্রে কোনো চঞ্চলত নেই—এ বংশে এটা এতো খাপছাড়া যে, সকলে এতোটা পছন্দ করে না, মনে করে যাদের ঘরে লক্ষ্মী নেই অত্যন্ত নিৰ্ম্মল হওয়া তাদেরই সাজে ; 'কলঙ্কের প্রশস্ত জায়গা তারার মধ্যে নেই, চাদের মধ্যেই আছে y , - বহুকাল হ’লে আমার শ্বশুর-শাশুড়ীর মৃত্যু হ’য়েছে। আমার দিদিশাশুড়ীই ঘরের কত্রী। অামার স্বামী তার বক্ষের হার, তার চক্ষের মণি । এই জন্তেই আমার স্বামী, কায়দার গণ্ডী ডিঙিয়ে চলতে সাহস করতেন । এই জন্যেই তিনি যখন মিস গিলবিকে আমার সঙ্গিনী আর শিক্ষক নিযুক্ত ঘরে-বাইরে (& করলেন তখন ঘরে বাইরে যতো রসন ছিলো তার সমস্ত রস বিষ হ’য়ে উঠলো, তবু আমার স্বামীর জেদ বজায় রইলো । সেই সময়েই তিনি বি, এ, পাশ ক’রে এম এ প’ড় ছিলেন। কলেজে পড়বার জন্তে র্তাকে কলকাতায় থাকতে হ’তো । তিনি প্রায় রোজই আমাকে একটি ক’রে চিঠি লিখতেন, তার কথা অল্প, তার ভাষা সাদা, তার হাতের সেই গোটা গোটু গোল গোল অক্ষরগুলি যেন স্নিগ্ধ হ’য়ে আমার মুখের দিকে চেয়ে থাকতে । একটি চন্দনকাঠের বাক্সের মধ্যে আমি তার চিঠিগুলি রাখতুম, আর রোজ বাগান থেকে ফুল তুলে সেগুলি ঢেকে দিতুম । তখন আমার সেই রূপকথার রাজপুত্র অরুণালোকে চাদের মতো মিলিয়ে গেছে । সেদিন আমার সত্যকার রাজপুত্র বসেছে আমার হৃদয়-সিংহাসনে। আমি তার রাণী, র্তার কাছে আমি বসতে পেরেচি ; কিন্তু তার চেয়ে আনন্দ– কর্তার পায়ের কাছে আমার যথার্থ স্থান । অামি লেখাপড় ক’রেচি সুতরাং এখনকার কালের সঙ্গে আমার এখানকার ভাষাতেই পরিচয় হ’য়ে গেছে। অামার আজকের এই কথাগুলো আমার নিজের কাছেই কবিতার মতো শোনাচ্চে। এ কাব্যের সঙ্গে যদি আমার মোকাবিলা না হ’তে তা হলে আমার সেদিনকার সেই ভাবটাকে সোজা গছ ব’লেই জানতুম—মনে, জানতুম মেয়ে হ’য়ে জন্মেছি এ যেমন আমার ঘরগড় কথা নয় তেমনি মেয়েমানুষ প্রেমকে ভক্তিতে গলিয়ে দেবে এও তেমনি-সহজ কথা— এর মধ্যে \b ঘরে-বাইরে বিশেষ কোনো একটা অপরূপ কাব্য-সৌন্দর্য্য আছে কিনা সেটা এক মুহূৰ্ত্তের জন্তে ভাববার দরকার নেই। কিন্তু সেই কিশোর বয়স থেকে আজ এই যৌবনের মাঝামাঝি পর্য্যন্ত পৌছতে না পৌছতে আর এক যুগে এসে পড়েছি । যেটা নিশ্বাসের মতো সহজ ছিলো এখন সেটাকে কাব্যকলার মতে ক’রে গ’ড়ে তোলবার উপদেশ আসচে । এখনকার ভাবুক পুরুষেরা, সধবার পাতিব্ৰত্যে এবং বিধবার ব্রহ্মচর্য্যে যে কী অপূৰ্ব্ব কবিত্ব আছে, সে কথা প্রতিদিন সুর চড়িয়ে চড়িয়ে ব’লচেন । তার থেকে বোঝা যাচ্চে জীবনের এই জায়গায় কেমন ক’রে সত্যে আর সুন্দরে বিচ্ছেদ হ’য়ে গেছে। এখন কি কেবলমাত্র সুন্দরের দোহাই দিলে আর সত্যকে ফিরে পাওয়া যাবে ? মেয়ে মানুষের মন সবই যে এক-ছাচে-ঢালা তা আমি মনে করিনে। কিন্তু এটুকু জানি, আমার মনের মধ্যে আমার মায়ের সেই জিনিষটি ছিলো—সেই ভক্তি করবার ব্যগ্রতা । সে যে আমার সহজ ভাব তা আজকে স্পষ্ট বুঝতে পারচি যখন সেটা ৰাইরের দিক থেকে আর সহজ নেই। এমনি আমার কপাল, আমার স্বামী আমাকে সেই পূজার অবকাশ দিতে চাইতেন না । সেই ছিলো তাব মহত্ত্ব। তীর্থের অর্থপিশাচ পাণ্ড পুজার জন্যে কাড়াকড়ি করে, কেননা সে পুজনীয় নয় ; পৃথিবীতে যারা কাপুরুষ তারাই স্ত্রীর পূজা দাবী ক’রে থাকে তাতে পূজারী ও পূজিত দুইয়েরই অপমানের একশেষ । । ঘরে-বাইরে 어 কিন্তু এতো সেবা আমার জন্যে কেন ? সাজসজ্জা দাসদাসী জিনিষপত্রের মধ্য দিয়ে যেন আমার দুই কুল ছাপিয়ে তার আদরের বান ডেকে বইলে । এই সমস্তকে ঠেলে আমি নিজেকে দান করবে। কোন ফাকে ? আমার পাওয়ার সুযোগের চেয়ে দেওয়ার সুযোগের দরকার অনেক বেশী ছিলো। প্রেম যে স্বভাব-বৈরাগী, সে যে পথের ধারে ধুলার পরে আপনার ফুল অজস্ৰ ফুটিয়ে দেয়, সে তো বৈঠকখানার চিনের টবে আপনার ঐশ্বর্য্য মেলতে পারে না. । আমাদের অন্তঃপুরে যে সমস্ত সাবেক দস্তুর চলিত ছিলো আমার স্বামী তাকে সম্পূর্ণ ঠেলতে পারতেন না। দিনেদুপুরে যখন-তখন অবাধে তার সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাৎ হ’তে পারতো না। আমি জানতুম ঠিক কখন তিনি আসবেন—তাই যেমন-তেমন এলোমেলো হ’য়ে আমাদের মিলন ঘ’টুতে পারতো না। আমাদের মিলন যেন কবিতার মিল— সে আসতো ছন্দের ভিতর দিয়ে, যতির ভিতর দিয়ে। দিনের কাজ সেরে, গা ধুয়ে, যত্ন ক’রে চুল বেঁধে, কপালে সি দূরের টিপ দিয়ে, কোচানো সাড়ীটি প’রে, ছড়িয়ে-পড়া দেহ মনকে সমস্ত সংসার থেকে সম্পূর্ণ ফিরিয়ে এনে একজনের কাছে একটি বিশেষ সময়ের সোনার থালায় নিবেদন ক’রে দিতুম । সেই সময়টুকু, অল্প, কিন্তু অল্পের মধ্যে সে অসীম । : আমার স্বামী বরাবর, ব’লে এসেচেন, স্ত্রীপুরুষের পরস্পরের প্রতি সমান অধিকার, সুতরাং তাদের সমান . প্রেমের সম্বন্ধ। এ নিয়ে আমি তার সঙ্গে কোনোদিন তর্ক করিনি। b- ঘরে-বাইরে কিন্তু আমার মন বলে, ভক্তিতে মানুষকে সমান হবার বাধ৷ দেয় না। ভক্তিতে মানুষকে উপরের দিকে তুলে সমান ক’রতে চায়। তাই, সমান হ’তে থাকবার আনন্দ তাতে বরাবর পাওয়া যায়—কোনোদিন তা চুকে গিয়ে হেলার জিনিষ হ’য়ে ওঠে না। প্রেমের থালায় ভক্তির পূজা আরতির আলোর মতো—পূজা যে করে এবং যাকে পূজা করা হয় দুয়ের উপরেই সে আলো সমান হ’য়ে পড়ে। আমি আজ নিশ্চয় জেনেছি, স্ত্রীলোকের ভালোবাসা পূজা ক’রেই পূজিত হয়—নইলে সে ধিক্ ধিক্ ! আমাদের ভালোবাসার প্রদীপ যখন জ্বলে তখন তার শিখা উপরের দিকে ওঠে— প্রদীপের পোড়া তেলই নীচের দিকে পড়তে পারে। প্রিয়তম, তুমি আমার পূজা চাওনি সে তোমারই যোগ্য, কিন্তু পূজা নিলে ভালো করতে । তুমি আমাকে সাজিয়ে ভালোবেসেছে, শিখিয়ে ভালোবেসেছে, যা চেয়েছি তা দিয়ে ভালোবেসেছে, যা চাইনি তা দিয়ে ভালোবেসেছে,— আমার ভালোবাসায় তোমার চোখে পাতা পড়েনি তা দেখেছি, আমার ভালোবাসায় তোমার লুকিয়ে নিশ্বাস পড়েছে তা দেখেছি ;—আমার দেহকে তুমি এমন ক’রে ভালোবেসেছে। যেন সে স্বর্গের পারিজাত, আমার স্বভাবকে তুমি এমনি ক’রে ভালোবেসেছে যেন সে তোমার সৌভাগ্য। (এতে আমার মনে গৰ্ব্ব আসে, আমার মনে হয় এ আমরি ঐশ্বৰ্য্য যার লোভে তুমি এমন ক’রে আমার দ্বারে এসে দাড়িয়েছে। তখন রাণীব সিংহাসনে ব’সে মানের দাবী করি, সে দাবী কেবল ရွှေ ঘরে-বাইরে సా বাড়তেই থাকে, কোথাও তার তৃপ্তি হয় না। পুরুষকে বশ ক’রবার শক্তি আমার হাতে আছে এই কথা মনে ক’রেই কি নারীর স্থখ, না তাতেই নারীর কল্যাণ ? ভক্তির মধ্যে সেই গৰ্ব্বকে ভাসিয়ে দিয়ে তবেই তার রক্ষা ) শঙ্কর তো ভিক্ষুক হ’য়েই অন্নপূর্ণার দ্বারে এসে দাড়িয়েছেন কিন্তু এই ভিক্ষার রুদ্রতেজ কি অন্নপূর্ণ সইতে পারতেন যদি তিনি শিবের জন্যে তপস্যা না করতেন ? আজ মনে প’ড় চেসেদিন আমার সৌভাগ্যে সংসারে কতো লোকের মনে কতো ঈর্ষ্যার আগুন ধিকিধিকি জ্ব’লেছিলো । ঈর্ষ্য হবারই তে কথা—আমি যে অমনি পেয়েছি, ফাকি দিয়ে পেয়েছি। কিন্তু ফাকি তো বরাবর চলে না,—দাম দিতেই হবে নইলে বিধাতা সহ্য করেন না—দীর্ঘকাল ধ’রে প্রতিদিন সৌভাগ্যের ঋণ শোধ করতে হয় তবেই স্বত্ব ধ্রুব হ’য়ে ওঠে। ভগবান আমাদের দিতেই পারেন কিন্তু নিতে যে হয় নিজের গুণে পাওয়া জিনিষও আমরা পাইনে এমনি আমাদের পোড়া কপাল ! To আমার সৌভাগ্যে কতো কন্যার পিতার দীর্ঘনিশ্বাস প’ড়েছিলো। আমার কি তেমনি রূপ, তেমনি গুণ, আমি কি এই ঘরের যোগ্য, এমন কথা পাড়ায় পাড়ায় ঘরে ঘরে উঠেচে । আমার দিদিশাশুড়ী, শাশুড়ী সকলেরই অসামান্ত রূপের খ্যাতি ছিলো। আমার ইঁই বিধবা জায়ের মতো এমন সুন্দরী দেখা যায় না। পরে পরে যখন তাদের দু’জনেরই কপাল ভাঙলো তখন আমার দিদিশাশুড়ী পণ ক’রে ব’সলেন যে তার এক So ঘরে-বাইরে মাত্র অবশিষ্ট নাতির জন্যে তিনি আর রূপসীর খোজ করবেন না । আমি কেবলমাত্র সুলক্ষণের জোরে এই ঘরে প্রবেশ করতে পারলুম—নইলে আমার অর্ণর কোনো অধিকার ছিলো না । আমাদের ঘরে এই ভোগের সংসারে খুব অল্প স্ত্রীই যথার্থ স্ত্রীর সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু সেটাই না কি এখানকার নিয়ম, তাই, মদের ফেন আর নটীর নূপুরনিক্কণের তলায় র্তাদের জীবনের সমস্ত কান্না তলিয়ে গেলেও তারা কেবলমাত্র বড়ো ঘরের ঘরণীর অভিমান বৃকে অঁাকড়ে ধ’রে মাথাটাকে উপরে ভাসিয়ে রেখেছিলেন । অথচ আমার স্বামী মদও ছু লেন না, আর নারী মাংসের লোভে পাপের পণ্যশালার দ্বারে দ্বারে মনুষ্যত্বের থলি উজাড় ক’রে ফিরলেন না, এ কি আমার গুণে ? পুরুষের উদ্ধান্ত উন্মত্ত মনকে বশ ক’রবার মতো কোন মন্ত্র বিধাতা আমাকে দিয়েছিলেন ? কেবলমাত্রই কপাল—আর কিছুই না । আর তাদের বেলাতেই কি পোড়া বিধাতার হুস ছিলো না—সকল অক্ষরই বাকা হ’য়ে উঠলো ! সন্ধ্যা হ’তে না হ’তেই তাদের ভোগের উৎসব মিটে গেলো—কেবল রূপ-যৌবনের বাতিগুলো শূন্ত সভায় সমস্ত রাত ধ’রে মিছে জ’লতে লাগলো। কোথাও সঙ্গীত নেই, কেবলমাত্রই জ্বলা । আমার স্বামীর পৌরুষকে জর দুই ভাজ অবজ্ঞা করবার ভান করতেন। এমন মানী সংসারের তরীটাকে একটিমাত্র স্ত্রীর আঁচলের পাল তুলে দিয়ে চালানো ? কথায় কথায় ঘরে-বাইরে S X র্তাদের কতো খোটাই খেয়েছি ! আমি যেন আমার স্বামীর সোহাগ চুরি করে ক’রে নিচ্চি। কেবল ছলনা, তার সমস্তই কৃত্রিম ; এখনকার কালের বিবিয়ানার নির্লজ্জতা । অামার স্বামী অামাকে হালফে শানের সাজে-সজ্জায় সাজিয়েছেন— সেই সমস্ত রঙ-বেরঙের জেকেট সাড়ী শেমিজ পেটিকোটের আয়োজন দেখে তারা জ’লতে থাকতেন। রূপ নেই, রূপের ঠাট্‌ ! দেহটাকে যে একেবারে দোকান ক’রে সাজিয়ে তুললে গো—লজ্জা করে না ! আমার স্বামী সমস্তই জানতেন । কিন্তু মেয়েদের উপর যে তার হৃদয় করুণায় ভরা । তিনি আমাকে বারবার ব’লতেন রাগ কোরো না !—মনে আছে আমি একবার তাকে বলেছিলুম মেয়েদের মন বড়োই ছোটো, বড়ো বাকা । তিনি জবাব দিয়েছিলেন, চীন দেশের মেয়েদের প। যেমন ছোটো; যেমন বাকী ! সমস্ত সমাজ যে চারিদিক থেকে আমাদের মেয়েদের মনকে চেপে ছোটো ক’রে বাকিয়ে রেখে দিয়েছে। ভাগ্য যে ওদের জীবনটাকে নিয়ে জুয়ো খেলচে—দান-পড়ার উপরই সমস্ত নির্ভর, নিজের কোন অধিকার ওদের আছে ? আমার জা’র র্তাদের দেওরের কাছে যা দাবী করতেন তাই পেতেন। তাদের দাবী হায্য কি অন্যায্য তিনি তার বিচারমাত্র করতেন না। আমার মনের ভিতরটা জ’লতে থৈাকতো যখন দেখতুম তারা এর জন্যে একটুও কৃতজ্ঞ ছিলেন না। এমন কি, আমার বড়ো জা, যিনি জপে তপে নিত উপবাসে ভয়ঙ্কর সাত্ত্বিক, বৈরাগ্য র্যার মুখে এতে রেশী N R ঘরে-বাইরে খরচ হ’তে যে মনের জন্তে শিকি পয়সার, বাকি থাকতো না, —তিনি বারবার আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে ব’লতেন, যে, তাকে র্তার উকিল দাদা ব’লেছেন যদি আদালতে তিনি নালিশ করেন তা হ’লে তিনি—সে কতো কি, সে আর ছাই কি লিখবো। আমার স্বামীকে কথা দিয়েছি যে, কোনোদিন কোনো কারণেই আমি এদের কথার জবাব করবো না, তাই জ্বালা আরো অামার অসহ্য হ’তে ; আমার মনে হ’তো, ভালে হবার একটা সীমা আছে—সেটা পেরিয়ে গেলে কেমন যেন তাতে পৌরুষের ব্যাঘাত হয়। আমার স্বামী বলতেন আইন কিংবা সমাজ তার ভাজেদের স্বপক্ষ নয়, কিন্তু একদিন স্বামীর অধিকারে যেটাকে নিজের , ব’লেই তারা নিশ্চিত জেনেছিলেন আজ সেটাকেই ভিক্ষুকের মতো পরের মন জুগিয়ে চেয়ে চিন্তে নিতে হচ্চে এ অপমান যে বড়ো কঠিন । এর উপরেও আবার কৃতজ্ঞতা দাবি করা ? মার খেয়ে আবার বখশিশ দিতে হবে ?—সত্য কথা ব’লবো ? অনেকবার আমি মনে ভেবেছি, আর একটু মন্দ হবার মতো তেজ আমার স্বামীর থাকা উচিত ছিলো । আমার মেজো জী অন্য ধরণের ছিলেন । তার বয়স অল্প —তিনি সাত্ত্বিকতার ভড়ং ক’রতেন না। বরঞ্চ তার কথাবার্তা হাসিঠাট্টায় কিছু রসের বিকার ছিলো। যে সব যুবতী দাসী তার কাছে রেখেছিলেন তাদের রকম সকম একেবারেই ভালো নয় । છાં নিয়ে কেউ আপত্তি করবার লোক ছিলো না--কেননা এবাড়ীর ঐ রকমই দস্তর। আমি বঝতম অামা । ঘরে-বাইরে રG: জমাবার উৎসাহ গ্রামের লোকের খুব জেগে উঠলো, কারণ স্থদের হার খুব চড়া ছিলো। কিন্তু যে কারণে লোকের উৎসাহ বাড়তে লাগলো সেই কারণেই ঐ মোটা স্থদের ছিদ্র দিয়ে ব্যাঙ্ক গেলে তলিয়ে। এই সকল কাণ্ড দেখে তার পুরাতন মামলার অত্যন্ত বিরক্ত ও উদ্বিগ্ন হ’য়ে উঠতো,শত্রুপক্ষ ঠাট্ট ও বিদ্রুপ করতে। আমার বড়ে জ একদিন আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললেন, তার বিখ্যাত উকীল খুড়তুত ভাই তাকে বলেচেন যদি জজের কাছে দরবার করা যায় তবে এই পাগলের হাত থেকে এই বনেদি বংশের মানসন্ত্রম বিষয়সম্পত্তি এখনো রক্ষা হবার উপায় হ’তে পারে । সমস্ত পরিবারের মধ্যে কেবল আমার দিদিশাশুড়ির মনে বিকার ছিলেন। তিনি আমাকে ডেকে কতোবাব ভৎসন। করেচেন, ব’লেচেন, কেন তোর। ওকে সবাই মিলে বিরক্ত ক'বুচিস্ ! বিষয়সম্পত্তির কথা ভাবৃছিস্ ? আমার বয়সে আমি তিনবার এ সম্পত্তি রিসীভারের হাতে যেতে দেখেছি। পুরুষের কি মেয়ে মানুষের মতো ? ওরা যে উড়নচণ্ডী, ওরা ওড়াতেই জানে। নাতবে তোর কপাল ভাল, যে সঙ্গে সঙ্গে ও নিজেও উড় চে না। দুঃখ পাসনি বলেই সে কথা মনে থাকে না । আমার স্বামীর দানের লিষ্ট ছিলো খুব লম্বা । তাতের কল, স্বা ধানভানার যন্ত্র কিম্বা ঐ রকম একটা-কিছু যে কেউ রি করবার চেষ্টা ক’রচে তাকে তার শেষ নিষ্ফলতা পর্যন্ত নি সাহায্য করেচেন। বিলাতি কম্পানির সঙ্গে টক্কর ང་སྤེ །༦) f ঘরে-বাইরে দিয়ে পুরী যাত্রার জাহাজ চালাবার স্বদেশী কম্পানি উঠলে ; তার একখানা জাহাজও ভাসে নি কিন্তু আমার স্বামীর অনেকগুলি কোম্পানির কাগজ ডুবেচে । সব চেয়ে আমার বিরক্ত লাগতো সন্দীপবাবু যখন দেশের নানা উপকারের ছুতোয় তার টাকা শুষে নিতেন। তিনি খবরের কাগজ চালাবেন, স্বাদেশিকতা প্রচার ক’তে যাবেন ডাক্তারের পরামর্শমতে র্তাকে কিছুদিনের জন্য; উটকামনে যেতে হবে, নিবির্বচারে আমার স্বামী তার খরচ জুগিয়েছেন '4. এ ছাড়া সংসার খরচের জন্য নিয়মিত র্তার মাসিক বরাদ আছে। অথচ আশ্চৰ্য্য এই যে, আমার স্বামীর সঙ্গে তা যে মতের মিল আছে তাও নয়। আমার স্বামী বলতেন দেশের খনিতে যে পণ্যদ্রব্য আছে তাকে दृवंब করতে না s 襪 পারলে যেমন দেশের দারিদ্র্য, তেমনি o যেখানে শক্তির রত্নখনি আছে তাকে যদি আবিষ্কার এবং : ৗকার না ढूंज्ञा যায় তবে সে দারিদ্র্য আরো গুরুতর। আমি उँीके.4तन्न्ि রাগ ক’রে বলেছিলুম এরা তোমাকে সবাই কুঁকি দিী তিনি হেসে বললেন, আমার গুণ নেই অথচ {ে দিয়ে গুণের অংশীদার হচ্চি—আমিই তো র্যাক ক’রে নিলুম। এই পুৰ্ব্বযুগের পরিচয় কিছু ব’লে রাখা গেলে, নইলে নবযুগের নাট্যটা স্পষ্ট বুঝা যাবে না। . | এই যুগের তুফান যেই আমার রক্তে লাগলো আদি প্রথমেই স্বামীকে বললুম্ বিলিতি জিনিষে তৈরি আমার সম{ ঘরে-বাইরে こ a পোষাক পুড়িয়ে ফেলবো । স্বামী বললেন, “পোড়াবে কেন ? যতোদিন খুসী ব্যবহার না করলেই হবে।” কী তুমি বলচে যতদিন খসী ! ইহজীবনে আমি কখনো— * ..., বেশ তো ইহজীবনে তুমি না হয় ব্যবহার করবে না। ঘটা ক’রে নাই পোড়ালে ! কেন এতে তুমি বাধা দিচ্চ ? আমি বলচি গ’ড়ে তোলবার কাজে তোমার সমস্ত শক্তি দাও, অনাবশ্যক ভেঙে ফেলবার উত্তেজনায় তার সিকি পয়সা ਬਾਂ খরচ করতে নেই। કે উত্তেজনাতেই গ’ড়ে তোলবার সাহায্য হয় । তাই যদি বলে। তবে বলতে হয় ঘরে আগুন না লাগালে ঘর তালে করা যায় না । তামি প্রদীপ জ্বালবার হাজার ঝঞ্চাট পোয়াতে রাজি আছি কিন্তু তাড়াতাড়ি সুবিধের জন্যে ঘরে আগুন লাগাতে রাজি নই। ওটা দেখতেই বাহাদুরী কিন্তু আসলে তুৰ্ব্বলতার গোজামিলন । আমার স্বামী ব’ললেন,“দেখো, বুঝ চি আমার কথা তাজ তোমার মনে নিচ্চে না, उद्धे আমি এ কথাটি তোমাকে ব’লচি ভেবে দেখো । মা যেমন নিজের গয়না দিয়ে তার প্রত্যেক মেয়েকে সাজিয়ে দেয়, আজ তেমনি এমন একটা দিন এসেছে যখন সমস্ত পুথিবী প্রত্যেক দেশকে আপন গয়ন দিয়ে সাজিয়ে দিচ্চে । তাজ তারাদের খাওয়াপরা চলাফের ভাবাচিন্তু সমস্তই সমস্ত-পৃথিবীর যোগে। আমি তাই মনে २b~ ঘরে-বাইরে করি এটা প্রত্যেক জাতিরই সৌভাগ্যের যুগ—এই সৌভাগ্যকে অস্বীকার করা বীরত্ব নয় ।” r- \, তার পরে তার এক ল্যাঠা । মিস গিলবি যখন আমাদের অন্তঃপুরে এসেছিলো তখন তাই নিয়ে কিছুদিন খুব গোলমাল চ’লেছিলো। তার পরে অভ্যাসক্রমে সেট চাপা পড়ে গেছে । আবার সমস্ত ঘুলিয়ে উঠলো। মিস গিলবি ইংরেজ কি বাঙালী অনেকদিন সে কথা আমারও মনে হয় নি—কিন্তু মনে হ’তে সুরু হ’লো। আমি স্বামীকে বললুম মিস গিলবিকে ছাড়িয়ে দিতে হবে । স্বামী চুপ্‌ ক’রে রইলেন । আমি সেদিন তাকে যা মুখে এলো তাই বলেছিলুম তিনি মান মুখ ক'রে চলে গেলেন। আমি খুব খানিকট। কাদলুম। কেঁদে যখন আমার মনটা একটু নরম হ’লে তিনি রাত্রে এসে ব’ললেন, দেখো, মিস গিলবিকে কেবলমাত্র ইংরেজ ব’লে ঝাপসা ক’রে দেখতে আমি পারি নে। এতোদিনের পরিচয়েও কি ঐ নামের বেড়াটা ঘুছবে না ? ও যে তোমাকে ভালোবাসে। n আমি একটুখানি লজ্জিত হ’য়ে অথচ নিজের অভিমানের অল্প একটু ঝণজ বজায় রেখে ব’ললুম, আচ্ছা থাক না, ওকে কে যেতে ব’লচে ? 疊 * মিস গিলবি রয়ে গেলো। একদিন গির্জেয় যারার সময় পথের মধ্যে আমাদেরই একজন দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছেলে তাকে ঢিল ছুড়ে মেরে অপমান করলে। আমার স্বামীই এতোদিন সেই ছেলেকে পাল্যা করেছিলেন,—তিনি তাকে তাড়িয়ে দিলেন । এই নিয়ে ভারি একটা গোল উঠলো | ঘরে-বাইরে ২৯ : সেই ছেলে যা ব’ললে সবাই তাই বিশ্বাস করলে । লোকে বললে মিস গিলবিই তাকে তাপমান ক’রেছে এবং তার সম্বন্ধে বানিয়ে ব'লেছে । আমারও কেমন মনে হ’লে সেটা অসম্ভব নয়। ছেলেটার মা নেই, তার খুড়ে এসে আমাকে ধরলে । আমি তার হয়ে অনেক চেষ্টা ক’রলুম কিন্তু কোনো ফল হ’লো না । সোদনকার দিনে আমার স্বামীর এই ব্যবহার কেউ ক্ষম। করতে পারলে না। আমিও না। আমি মনে মনে তাকে নিন্দাই ক'ল্লম্। এইবার মিস গিলবি আপনিই চলে গেলো। যাবার সময় তার চোখ দিয়ে জল প’ড় লো—কিন্তু আমার মন গ’ললে। ন । আহা মিথ্যা ক’রে ছেলেটার এমন সৰ্ব্বনাশ করে গেলে গে ? আর তমন স্থেলে স্বদেশীর উৎসাহে তার নাওয়া খাওয়া ছিলোনা—আমার স্বামী নিজের গাড়িতে ক’রে মিস গিলবিকে ষ্টেশনে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে তুলে দিয়ে এলেন । সেটা আমার বড়ে বাড়াবাড়ি বোধ হ’লো । এই কথাটা নিয়ে নানা ডাল পাল দিয়েঞ্জাজে যখন গাল দিলে আমার মনে হ’লে৷ এই শাস্তি ওঁর পাওঁনা ছিলো। । ইতিপূৰ্ব্বে আমি আমার স্বামীর জন্তে অনেকবার উদ্বিগ্ন হয়েছি কিন্তু এ পর্য্যন্ত তার জন্যে একদিনও লজ্জা বোধ করিনি। এবার লজ্জা হ’লে । মিস গিলবির প্রতি নরেন কি অন্যায় ক’রেছে না কুরেছে সে আমি জানিনে কিন্তু আজকের দিনে তা নিয়ে সদ্বিচার করতে পারাটাই লজ্জার কথা । যে ভাবের থেকে নরেন ইংরেজ মেয়ের প্রতি ঔদ্ধত্য ঘরে-বাইরে ہم رGا করতে পেরেচে আমি তাকে কিছুতেই দমিয়ে দিতে চাইনে ৷ এই কথাটা আমার স্বামী যে কিছুতেই বুঝতে চাইলেন না, অামাব মনে হ’লে সেটা তার পৌরুষের অভাব। তাই তামার মনে লজ্জা হ’লে৷ ৷ | শুধু তাই নয়, আমার সব চেয়ে বুকে fবঁধেছিলো যে তামাকে তার মানতে হ’য়েছে । আমার তেজ কেবল আমাকেই দগ্ধ করলে কিন্তু আমার স্বামীকে উজ্জ্বল করলে না । এই তো অামাব সতীত্বের অপমান । অথচ স্বদেশী কাণ্ডব সঙ্গে যে আমার স্বামীর যোগ ছিলো না বা তিনি এর বিরুদ্ধ ছিলেন তা নয়। । কিন্তু বন্দেমাতরম মন্ত্রটি তিনি চূড়ান্ত ক’রে গ্রহণ করতে পারেন নি । তিনি ব’লতেন, দেশকে আমি সেবা ক’রতে রাজি আছি, কিন্তু বন্দন। ক’রবো যাকে তিনি ওর চেয়ে অনেক উপৰে । দেশকে যদি বন্দনা করি তবে দেশের সবর্বনাশ করা হবে । 8 এমন সময়ে সন্দীপবাবু স্বদেশী প্রচাব করবার জন্যে র্তার দলবল নিয়ে আমাদের ওখানে এসে উপস্থিত হ’লেন । বিকেল বেলায় আমাদের নাটমন্দিরে সভা হবে । আমরা মেয়ের দালানের একদিকে চিক্‌ ফেলে বসে তাছি। ‘বন্দেমাতরম্ শব্দের সিংহনাদ ক্রমে ক্রমে কাছে আসচে, সামার ឆ្លុះ ভিতরটা গুরগুব ক’রে কেঁপে উঠচে । হঠাৎ Y☾ o يلجي ঘরে-বাইরে SON পাগড়ি-বাধা গেরুয়াপর যুবক ও বালকের দল খালি পায়ে আমাদের প্রকাও আঙিনার মধ্যে, মরা নদীতে প্রথম বর্ষার গেরুয়া বন্যার মতে, হুড়হুড় ক’রে দুকে প’ড় লে। লোকে লোকে ভ’রে গেলে । সেই ভিড়ের মধ্য দিয়ে একটা বড়ো চৌকির উপর বসিয়ে দশবারোজন ছেলে সন্দীপবাবুকে কাধে ক’রে নিয়ে এলো। বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম্ ! আকাশটা যেন ফেটে টুকরো টুকুরে৷ হ’য়ে ছিড়ে প’ড়বে মনে হ’লে । সন্দীপবাবুর ফোটোগ্রাফ পূর্বেই দেখেছিলুম। তখন যে ঠিক ভালো লেগেছিলো তা বলতে পারিনে। কুত্ৰ দেখতে নয়, এমন কি, রীতিমতো স্থখ্রই ; তবু জানিনে কেন, আমার মনে হ’য়েছিলো, উজ্জ্বলতা আছে বটে কিন্তু চেহারাটা অনেকখানি খাদে মিশিয়ে গড়-চোখে আর ঠোটে কী একটা আছে যেটা খাটি নয় । . সেই জন্যেই আমার স্বামী যখন বিনা দ্বিধায় তার সকল দাবী পুরণ করতেন আমার ভালো লাগতো না । অপব্যয় আমি সইতে পারতুম্, কিন্তু আমার কেবলি মনে হ’তে বন্ধু হ’য়ে এ লোকটা আমার স্বামীকে ঠকাচ্চে। কেননা ভাবখান। তো তপস্বীর মতো নয়, গরীবের মতোও নয়, দিব্যি বাবুর মতো । ভিতরে আরামের লোভ আছে অথচ—এই রকম নানা কথা আমার মনে• উদয় হ’য়েছিলো। আজ সেই সব কথা মনে উঠচে–কিন্তু থাক । - কিন্তু সেদিন সন্দীপবাব যখন বক্রতা দিতে লাগলেন তাৱ, \లిన ঘরে-বাইরে এই বৃহৎ সভার হৃদয় ছলে ছলে ফুলে ফুলে উঠে কুল ছাপিয়ে ভেসে যাবার জো হ’লো, তখন তার সে এক তাশ্চর্য্য মূৰ্ত্তি দেখলুম। বিশেষত এক সময় স্থৰ্য্য ক্রমে নেমে এসে ছাদের নীচে দিয়ে তার মুখের উপর যখন হঠাৎ রৌদ্র ছড়িয়ে দিলে তখন মনে হ’লে তিনি যে অমরলোকের মানুষ, এই কথাটা দেবতা সেদিন সমস্ত নরনারীর সামনে প্রকাশ ক’রে দিলেন। বক্তৃতার প্রথম থেকে শেষ পর্য্যন্ত প্রত্যেক কথায় যেন ঝড়ের দমক হওয়া । সাহসের অন্ত নেই। তামার চোখের সামনে যেটুকু চিকের আড়াল ছিলো সে আমি সইতে পারছিলুম্ না । কখন নিজের তাগোচরে চিক খানিকট সরিয়ে ফেলে মুখ বের করে তার মুখের দিকে চেয়েছিলুম তামার মনে পড়ে না । সমস্ত সভায় এমন একটি লোক ছিলো না আমার মুখ দেখবার যার একটু অবকাশ ছিলো। কেবল এক সময় দেখলুম্ কালপুরুষের নক্ষত্রের মতে। সন্দীপবাবুর উজ্জল দুই চোখ আমার মুখের উপর এসে পড়লো। কিন্তু তামার হু’স ছিলে। না । আমি কি তখন রাজবাড়ির বউ ? তামি তখন বাংলাদেশের সমস্ত নারীর একমাত্র প্রতিনিধি—তার তিনি বাংলাদেশের বীর । যেমন আকাশের সূর্য্যের আলো তার ঐ ললাটের উপর প’ড়েচে, তেমনি দেশের নারীচিত্তের অভিযেক যে চাই । নইলে তার রণযাত্রার মাঙ্গল্য পূর্ণ হবে কি ক’রে ? . . Ç eo هيد আমি স্পষ্টই অনুভব করতে পারলু আমার মুখের দিকে চাওঁয়ার পর থেকে তার ভাষার তাগুন তারো জ্বলে উঠলো । ঘরে-বাইরে S ○ ইন্দ্রের উচ্চৈঃশ্রব তখন আর রাশ মানতে চাইলে না— বজের উপর বজের গর্জন, বিদ্যুতের উপর বিদ্যুতের চম্কানি । আমার মন ব’ল্লে আমারই চোখের শিখায়- এই আগুন ধরিয়ে দিলে । আমরা কি কেবল লক্ষ্মী, আমরাই তো ভারতী । সেদিন একটা অপূৰ্ব্ব আনন্দ এবং অহঙ্কারের দীপ্তি নিয়ে বাড়ি ফিরে এলুম। ভিতরে একটা আগুনের ঝড়ের বেগ আমাকে এক মুহুর্তে এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্রে টেনে নিয়ে গেলো। আমার ইচ্ছা করতে লাগলে গ্রীসের বীরাঙ্গনার মতো আমার চুল কেটে দিই ঐ বীরের হাতের ধনুকের ছিল ক’রবার জন্য—তামার এই আজানুলম্বিত চুল। যদি ভিতরকার চিত্তের সঙ্গে বাইরেকার গয়নার যোগ থাকতে

তাহলে আমার কণ্ঠী আমার গলার হার আমার বাজুবন্ধ উস্কাবৃষ্টির মতো সেই সভায় ছুটে ছুটে খসে খসে পড়ে যেতে । নিজের অত্যন্ত একটা ক্ষতি ক’রতে পারলে তবেই যেন সেই আনন্দের উৎসাহবেগ সহ করা সম্ভব হ’তে পারতে । সন্ধ্যাবেলায় আমার স্বামী যখন ঘরে এলেন আমার ভয় হ’তে লাগলে পাছে তিনি সেদিনকার বক্তৃতার দীপক রাগিণীর সঙ্গে তান না মিলিয়ে কোনো কথা বলেন, পাছে র্তার সত্যপ্রিয়তায় কোনো জায়গায় ঘা লাগাতে তিনি একটুও অসম্মতি প্রকাশ করেন—তাহলে সেদিন আমি তাকে স্পষ্ট অবজ্ঞা করতে পারতুম্। কিন্তু তিনি আমাকে কোনো কথাই ব’ললেন না । সেটাও