চিঠিপত্র (দশম খণ্ড, ১৯৬৭)/দীনেশচন্দ্র সেন —লিখিত পত্রাবলী/৮

শ্রীহরি

৪৯।১এ রাজা রাজবল্লভ ষ্ট্রীট
বাগবাজার, কলিকাতা
৬।১২।১৮

ভক্তিভাজনেষু

 আজ আপনার পত্রখানি পড়িয়া কৃতজ্ঞতায় মন ভরিয়া উঠিয়াছে। আপনি দুর্দ্দিনে আমার অনেক উপকার করিয়াছেন, আপনার কথায় গগনবাবু আমাকে বাড়ী তৈরী করিবার খরচের অনেকাংশ বহন করিয়াছিলেন, আপনার কথায় আমার ত্রিপুরার বৃত্তি হইয়াছে, আমার আর্থিক কষ্টের সময় আপনি চিঠি পত্র দিয়া নানাভাবে আমার উপকার করিয়াছেন; আমার পুত্র অরুণচন্দ্রকে লইয়া যে সকল মনঃকষ্ট আমি পাইয়াছি, তাহার জন্য আপনাকে আমি কোন অনুযোগ দিতে পারি না, আপনি সদয় চিত্তে তাহাকে আশ্রয় দিয়া সেই সময়ে আমার হিত সাধন করিয়াছিলেন— শুধু তাহাই নহে, দরিদ্রের যে সকল পরিণাম চক্ষের উপর সর্ব্বদা দেখিতে পাই, হয়ত অরুণের রাস্তার ছেলেদের সঙ্গে মিশিয়া সেই দুর্গতি অনিবার্য্য হইত, আপনি তাহাকে উদ্ধার করিয়া তাহাকে মানুষ করিয়াছেন। এজন্য আমার ও তাহার উভয়েরই আপনার নিকট অসীম কৃতজ্ঞতার ঋণ আছে।

 আমি যে সকল অপরাধ করিয়াছি, তজ্জন্য আপনার নিকট আমার ক্ষমা প্রার্থনা করিবার দিন আসিয়াছে। পৃথিবীতে আসিয়া যাঁহাকে সর্ব্বাপেক্ষা বড় বলিয়া চিনিলাম, যাহার কথায় ও ব্যবহারে আদর্শ পুরুষের অনেক গুণ দেখিলাম, তাঁহার প্রতি সমুচিত শ্রদ্ধা না দেখাইতে পারিলে আমার অসহণীয় ক্ষুদ্রত্ব আমার নিজকে পীড়ন করিবে। আজ যুক্তকরে আপনাকে নমস্কার জানাইতেছি।

 আশুবাবু বাঙ্গলাভাষাকে কিরূপে ইউনিভার্সিটিতে চালাইতে হইবে, তাহার উপদেশ আপনার নিকট চান। তিনি যাঁহাদিগকে কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ মনে করেন, তাহাদিগের উপর সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ নির্ভর করেন; আপনার মতন এই বিষয়ে কে তাঁহাকে উপদেশ দিতে পারিবে? তিনি সশ্রদ্ধ ভাবে আপনার প্রত্যেক পরামর্শ গ্রহণ করিবেন, তাহাতে সন্দেহ নাই।

 “নীলমাণিক” সাতদিনে লিখিত হইয়াছে, উহা আপনার পড়িবার যোগ্য হয় নাই; পুরাতন জিনিষের উপর আমার একটা ঝোঁক আছে, সে ঝোঁকটা বোধহয় রোগে পরিণত হইয়াছে। আপনার বিচার প্রতিকূল হইলেও অবনত মস্তকে মানিয়া লইব।

 আমার দুই দিন জ্বর হয় নাই, এজন্য এই চিঠি নিজ হাতে লিখিতে পারিলাম। আপনার ক্ষমার মোহরাঙ্কিত পত্রখানি পাইয়া কত সুখী হইয়াছি, তাহা আর কি লিখিব উহা দুর্লভবস্তুর মত রাখিয়া দিলাম।

চিরাশ্রিত
শ্রীদীনেশচন্দ্র সেন