আজি মোর দ্রাক্ষাকুঞ্জবনে
      গুচ্ছ গুচ্ছ ধরিয়াছে ফল।
পরিপূর্ণ বেদনার ভরে
মুহূর্তেই বুঝি ফেটে পড়ে,
বসন্তের দুরন্ত বাতাসে
নুয়ে বুঝি নমিবে ভূতল--
রসভরে অসহ উচ্ছ্বাসে
থরে থরে ফলিয়াছে ফল।


      তুমি এসো নিকুঞ্জনিবাসে,
      এসো মোর সার্থকসাধন।
লুটে লও ভরিয়া অঞ্চল
জীবনের সকল সম্বল,
নীরবে নিতান্ত অবনত
বসন্তের সর্ব-সমর্পণ--
হাসি মুখে নিয়ে যাও যত
বনের বেদননিবেদন।


      শুক্তিরক্ত নখরে বিক্ষত
      ছিন্ন করি ফেলো বৃন্তগুলি।
          সুখাবেশে বসি লতামূলে
          সারাবেলা অলস অঙ্গুলে
বৃথা কাজে যেন অন্যমনে
খেলাচ্ছলে লহো তুলি তুলি--
তব ওষ্ঠে দশনদংশনে
টুটে যাক পূর্ণ ফলগুলি।


      আজি মোর দ্রাক্ষাকুঞ্জবনে
      গুঞ্জরিছে ভ্রমর চঞ্চল।
          সারাদিন অশান্ত বাতাস
          ফেলিতেছে মর্মরনিশ্বাস,
বনের বুকের আন্দোলনে
কাঁপিতেছে পল্লব-অঞ্চল--
আজি মোর দ্রাক্ষাকুঞ্জবনে
পুঞ্জ পুঞ্জ ধরিয়াছে ফল।

 
 
১৩ চৈত্র, ১৩০২