প্রধান মেনু খুলুন


}o e চোখের বালি 喂 बाणणदो । बिशबौद्र नात्र बश्नि बूति कशफ़ा कबिबारह ? बरफ़ा चछात्र করিয়াছে, বউমা । তাহার মতো এমন হিতাকাজী বন্ধু মহিনের আর কেহ নাই । বলিতে বলিতে র্তাহার দুই চক্ষুর কোণে অশ্রজল জড়ো হইল । একে একে আশার অনেক কথা মনে পড়িল । অন্ধ মূঢ় আশাকে যথাসময়ে সতর্ক করিবার জন্য বিহারী কত রূপে কত চেষ্টা করিয়াছে এবং সেই চেষ্টার ফলে সে ক্রমশ আশার অপ্রিয় হইয়া উঠিয়াছে, সেই কথা মনে করিয়া আজ আশা মনে মনে নিজেকে তীব্রভাবে অপমান করিতে লাগিল। একমাত্র স্বহংকে লাতি করিয়া একমাত্র শক্রকে যে বক্ষে টানিয়া লয়, বিধাতা সেই কৃতঘ্ন মূর্খকে কেন না শাস্তি দিবেন। ভগ্নহৃদয় বিহারী যে নিশ্বাস ফেলিয়া এ ঘর হইতে বিদায় হইয়া গেছে, সে নিশ্বাস কি এ ঘরকে লাগিবে না । আবার অনেকক্ষণ চিন্তিতমুখে স্থির থাকিয়া রাজলক্ষ্মী হঠাৎ বলিয়া উঠিলেন, “বউমা, বিহারী যদি থাকিত তবে এই দুদিনে সে আমাদের রক্ষা করিতে পারিত— এতদূর পর্যন্ত গড়াইতে পারিত না।” আশা নিস্তন্ধ হইয়া ভাবিতে লাগিল । রাজলক্ষ্মী নিশ্বাস ফেলিয়া বললেন, “সে যদি খবর পায় আমার ব্যামো হইয়াছে, তবে সে না আসিয়া থাকিতে পারিবে না ।” আশা বুঝিল, রাজলক্ষ্মীর ইচ্ছা বিহারী এই খবরটা পায় । বিহারীর অভাবে তিনি আজকাল একেবারে নিরাশ্রয় হইয়া পড়িয়াছেন । ঘরের আলো নিবাইয়া দিয়া মহেন্দ্র জ্যোৎস্নায় জানলার কাছে চুপ করিয়া দাড়াইয়া ছিল। পড়িতে আর ভালো লাগে না । গৃহে কোনো স্থখ নাই । যাহারা পরমাত্মীয় তাহাদের সঙ্গে সহজভাবের সম্বন্ধ দূর হইয়া গেলে তাহাদিগকে পরের মতো অনায়াসে ফেলিয়া দেওয়া যায় না, আবার প্রিয়জনের মতো অনায়াসে তাহাদিগকে গ্রহণ করা যায় না— তাহাদের সেই অত্যাজ্য আত্মীয়তা অহরহ অসহ ভারের মতো বক্ষে চাপিয়া থাকে। মার সম্মুখে যাইতে মহেঞ্জের ইচ্ছা হয় না— তিনি হঠাৎ মহেন্দ্রকে কাছে আসিতে দেখিলেই এমন একটা শঙ্কিত উদবেগের সহিত তাহার মুখের দিকে চান, মহেন্দ্রকে তাহা আঘাত করে । আশা কোনো উপলক্ষে কাছে আসিলে তাহার সঙ্গে কথা কহাও কঠিন হয়, চুপ করিয়া থাকাও কষ্টকর হইয়া উঠে । এমন করিয়া দিন আর কাটিতে চাহে না । মহেন্দ্র দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করিয়াছিল, অন্তত সাতদিন সে বিনোদিনীর সঙ্গে একেবারেই দেখা করিবে না। আরো দুইদিন বাকি আছে— কেমন করিয়া সে দুইদিন কাটিৰে । চোখের বালি 為あ》 মহেন্দ্র পশ্চাতে পদশৰ শুনিল। বুঝিল, আশা ঘরে প্রবেশ করিয়াছে। যেন শুনিতে পায় নাই, এই ভান করিয়া স্থির হইয়া দাড়াইয়া রহিল। আশা সে ভানটুকু বুঝিতে পারিল, তবু ঘর হইতে চলিয়া গেল না। পশ্চাতে দাড়াইয়া কহিল, -একটা কথা আছে, সেইটে বলিয়াই অামি যাইতেছি ।” মহেন্দ্র ফিরিয়া কহিল, “যাইতে হইবে কেন, একটু বোসোই-না।” আশা এই ভদ্রতাটুকুতে কান না দিয়া স্থির দাড়াইয়া কহিল, “বিহারীঠাকুরপোকে মার অস্থখের খবর দেওয়া উচিত।” বিহারীর নাম শুনিয়াই মহেন্দ্রের গভীর হৃদয়ক্ষতে ধা পড়িল । নিজেকে একটুখান সামলাইয়া লইয়া কহিল, "কেন উচিত। আমার চিকিৎসায় বুঝি বিশ্বাস হয় না ?” মহেন্দ্র মাতার চিকিৎসায় যথোচিত যত্ন করিতেছে না, এই ভৎপনায় আশার হৃদয় পরিপূর্ণ হইয়া ছিল, তাই তাহার মুখ দিয়া বাহির হইল, “কই, মার ব্যামো তো কিছুই ভালো হয় নাই, দিনে দিনে আরো যেন বাড়িয়া উঠতেছে।” এই সামান্ত কথাটার ভিতরকার উত্তাপ মহেন্দ্ৰ বুঝিতে পারিল। এমন গৃঢ় ভৎসনা আশা আর কখনোই মহেন্দ্রকে করে নাই । মহেন্দ্র নিজের অহংকারে আহত হইয়া বিস্মিত বিদ্রুপের সহিত কহিল, “তোমার কাছে ডাক্তারি শিখিতে হইবে দেখিতেছি !” * আশা এই বিদ্রুপে তাঁহার পুঞ্জীভূত বেদনার উপরে হঠাৎ অপ্রত্যাশিত আঘাত পাইল ; তাহার উপরে ঘর অন্ধকার ছিল, তাই সেই চিরকালের নিরুত্তর আশা আজ অসংকোচে উদ্দীপ্ত তেজের সহিত বলিয়া উঠিল, “ডাক্তারি না শেখ, মাকে যত্ন করা শিখিতে পার ।" আশার কাছে এমন জবাব পাইয়া মহেঞ্জের বিস্ময়ের সীমা রহিল না। এই অনভ্যস্ত তীব্র বাক্যে মহেন্দ্র নিষ্ঠুর হইয়া উঠিল । কহিল, “তোমার বিহারীঠাকুরপোকে কেন এই বাড়িতে আসিতে নিষেধ করিয়াছি, তাহা তো তুমি জান— আবার তাহাকে স্মরণ করিয়াছ বুঝি ” আশা দ্রুতপদে ঘর হইতে চলিয়া গেল । লজ্জার ঝড়ে যেন তাহাকে ঠেলিয়া লইয়া গেল। লজ্জা তাহার নিজের জন্য নহে। অপরাধে যে ব্যক্তি মগ্ন হইয়া আছে, সে এমন অন্যায় অপবাদ মুখে উচ্চারণ করিতে পারে। এত বড়ো নির্লজতাকে পর্বতপ্রমাণ লজ্জা দিয়াও ঢাকা যায় না । আশা চলিয়া গেলেই মহেন্দ্র নিজের সম্পূর্ণ পরাভব অনুভব করিতে পারিল । 》钞发 .品 চোখের বালি আশা যে কোনো কালে কোনো অবস্থাতেই মহেন্দ্রকে এমন ধিক্কার করিতে পারে তাহা মহেন্দ্র কল্পনাও করিতে পারে নাই। মহেন্দ্ৰ দেখিল, যেখানে তাহার সিংহাসন ছিল সেখানে সে ধুলায় লুটাইতেছে । এতদিন পরে তাহার আশঙ্ক। হইল, পাছে আশার বেদন ঘৃণায় পরিণত হয় । ও দিকে বিহারীর কথা মনে আসিতেই বিনোদিনী সম্বন্ধে চিন্তা তাহাকে অধীর করিয়া তুলিল। বিহারী পশ্চিম হইতে ফিরিয়াছে কি না, কে জানে। ইতিমধ্যে বিনোদিনী তাহার ঠিকানা জানিতেও পারে, বিনোদিনীর সঙ্গে বিহারীর দেখা হওয়াও অসম্ভব নহে। মহেন্দ্রের আর প্রতিজ্ঞা রক্ষা হয় না। রাত্রে রাজলক্ষ্মীর বক্ষের কষ্ট বাড়িল, তিনি আর থাকিতে না পারিয়া নিজেই মহেন্দ্রকে ডাকিয়া পাঠাইলেন । কষ্টে বাক্য উচ্চারণ করিয়া কহিলেন, “মহিল, বিহারীকে আমার বড়ো দেখিতে ইচ্ছা হয়, অনেক দিন সে আসে নাই।” আশা শাশুড়িকে বাতাস করিতেছিল। সে মুখ নিচু করিয়া রহিল। মহেন্দ্র কহিল, “সে এখানে নাই, পশ্চিমে কোথায় চলিয়। গেছে ।” রাজলক্ষ্মী কহিলেন, “আমার মন বলিতেছে, সে এখানেই আছে, কেবল তোর উপর অভিমান করিয়া আসিতেছে না । আমার মাথা খা, কাল একবার তুই তাহার বাড়িতে যাস।” মহেন্দ্ৰ কহিল, “আচ্ছা যাব।” আজ সকলেই বিহারীকে ডাকিতেছে। মহেন্দ্র নিজেকে বিশ্বের পরিত্যক্ত ৰলিয়া বোধ করিল। 86 পরদিন প্রত্যুবেই মহেশ্র বিহারীর বাড়িতে গিয়া উপস্থিত হইল। দেখিল, দ্বারের কাছে অনেকগুলা গোরুর গাড়িতে ভৃত্যগণ আসবাব বোঝাই করিতেছে । ভজুকে মহেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিল, “ব্যাপারখানা কি " ভছু কহিল, “বাৰু বালিতে গঙ্গার ধারে একটি বাগান লইয়াছেন, সেইখানে জিনিসপত্র চলিয়াছে।” মহেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিল, “বাৰু বাড়িতে আছেন না কী।” ভজু কহিল, “তিনি দুইদিন মাত্র কলিকাতায় থাকিয়া কাল বাগানে চলিয়া গেছেন।” শুনিয়া মহেঞ্জের মন আশঙ্কায় পূর্ণ হইয়া গেল। সে অনুপস্থিত ছিল, ইতিমধ্যে বিনোদিনী ও বিহারীতে যে দেখা হইয়াছে, ষ্টহাতে তাহার মনে কোনো সংশয় রছিল না । সে কল্পনাচক্ষে দেখিল, বিনোদিনীর বাসার সম্মুখেও এতক্ষণে গোরুর