তীর্থরেণু/'তীর্থের ধূলি মুঠি মুঠি'

তীর্থের ধূলি মুঠি মুঠি তুলি’
করিয়াছি এক ঠাঁই,
বিশ্ব-বীণার তারে তারে তারে
পরশ বুলায়ে যাই;
প্রাচীন দিনের আচিন্‌ জনের
কুড়াই বিভূতি রাশি,
মৃত কবিদের অমৃত অশ্রু
বকুল-সুরভি হাসি!

রোলি, পবিত্রী, ঠুম্‌রা এনেছি,
এনেছি স্বর্ণ-মাখি,
শ্যাম-বিন্দু কি রামরজ,—আমি
কিছুই রাখি নি বাকি;
কাম্য কাজল, সতী সিন্দুর—
এনেছি ভিক্ষা মাগি’,
আশা-পূরী ধূপ এনেছি বঙ্গ
ভাষার পূজার লাগি।

হরি-বিরহিনী ব্রজ গোপিনীর
খিন্ন তনুর শেষ—
এনেছি গো সেই গোপীচন্দন—
জুড়াতে মরম দেশ।
অশ্রু-হাসির অভ্র আবীর
এনেছি যতন ক’রে,
সরস্বতীর চরণ সরোজে
অর্ঘ্য দিবার তরে।


ধরার আঁচলে আঁখিজল কা’রা
মুছেছিল ব্যথা স’য়ে,
অতীত দিনের অশ্রু, হের গো,
রয়েছে অভ্র হ’য়ে!
অতীত ফুলের পুলকে অরুণ
হ’য়েছে আবীর গুলি,
আবীর গভীর পুলকের স্মৃতি,-
হরষ হাসির ধূলি!

বঙ্গবাণীর চরণে নিবেদি
অভ্র-আবীর রাশি,
অঞ্জলি দিই নিখিল কবির
আকুল অশ্রু হাসি;
আমার অশ্রু আমার পুলক
তারি সাথে যায় মিশে,
খুঁজি না, বাছি না, যুঝি না, কেবল
চেয়ে থাকি অনিমিষে।

আমার বীণা সে ধন্য আজিকে
সকল সুরেতে বেজে,
নাড়া পেয়ে তার সকল তন্ত্রী
নিঃশেষে ওঠে নেচে!
নিখিল কবির নিশ্বাসে হের
ভরিয়া উঠেছে বেণু,
ভাব-নগরীর ভাবের ব্যাপারী
বিতরি তীর্থ-রেণু।