তীর্থরেণু/আমার দেবতা

আমার দেবতা

মৃত্তিকা ছানি’ আমার দেবতা গড়েনি কুম্ভকার,
ভাস্কর আসি হানে নাই তাঁরে ছেনি ও হাতুড়ি তার;
অষ্ট ধাতুর নহেসে ঠাকুর সে নহেক পিত্তল,
অম্ল তেঁতুলে দেবতা আমার হয় না গো নির্ম্মল।
এ জীবনে আর করিতে নারিব অন্যের আরাধন,
মরমে পেয়েছি পরশ-মাণিক! সোনা হ’য়ে গেছে মন।

মন জানে আর প্রাণ জানে যোর সে আছে সকল ঘটে,
বচন-অতীত—তবু তরি কথা অচেত-চেতনে রটে!
শাস্ত্রের শ্লোকে আঁধারে আলোকে আছে সে আকাশ ভরি’
জ্ঞানীর জ্ঞেয়ানে ভকতের ধ্যানে আছে দিবা বিভাবরী।
তপন প্রকাশ থাকিতে প্রদীপ জ্বালিতে করিনা আশ,
গ্রাহ্য করিনা অজ্ঞজনের নিন্দা ও পরিহাস।
বুদ্ধি বিচার কিছু নাই যার চীৎকার শুধু করে,—
অকূল সাগরে ডুবায় সে পরে আপনি ডুবিয়া মরে।
ছিল দিন যবে কাঠের ঘোড়ারে আমিও দিয়েছি জল,
অম্ল তেঁতুলে করিতে গিয়েছি দেবতারে নির্ম্মল।

পট্টণত্তু পিল্লাই।