হনুমানঢোকা ও কাটমণ্ডু সহর।

কাটমণ্ডু

 নেপাল হিমালয়ের ক্রোড়স্থিত এক বিস্তীর্ণ পার্বত্য প্রদেশ। এই যে বিস্তীর্ণ প্রদেশ, ইহা স্বাধীন হিন্দু রাজার রাজ্য। একশত পঞ্চবিংশতি বৎসর পূর্বে এ দেশ বর্তমান হিন্দু রাজার অধীন ছিল না। তখন নেওয়ার নামধেয় বৌদ্ধধর্ম্মাবলম্বী এক মিশ্রজাতি এদেশে রাজত্ব করিত। ১৭৮৭ খৃষ্টাব্দে গুর্খাবংশীয় পৃথ্বীনারায়ণ নামে জনৈক হিন্দু নরপতি নেওয়ার রাজাদিগকে যুদ্ধে পরাজিত করিয়া সমুদয় নেপালে রাজ্য বিস্তার করেন। সম্প্রতি নেপালরাজ পৃথ্বীবীর বিক্রম শাহ গতাসু হইয়াছেন। নেপালের বর্ত্তামান নরপতি মহারাজাধিরাজ ত্রিভূবন বিক্রম ইহারই শিশুপুত্র। মোগলশাসন সময়ের মহারাষ্ট্রের ন্যায় বর্তমান নেপালেও মন্ত্রিরাজত্ব প্রচলিত। কাটমণ্ডু নেপালের রাজধানী। ইহা সমুদ্রতল হইতে ৪,৫০০ ফুট্ উচ্চ। এক বিস্তীর্ণ উপত্যকার এক অংশে কাটমণ্ডু সহর অবস্থিত। পূর্ব্ব পশ্চিমে এই উপত্যকার দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ মাইল হইবে।—প্রস্থে, উত্তর দক্ষিণে প্রায় ১৫ মাইল হইবে। কাটমণ্ডু আগমন কালে চন্দ্রগিরির শিখর দেশ হইতে এই বিস্তীর্ণ উপত্যকাটী চিত্রপটের ন্যায় চক্ষের সম্মুখে উদ্ঘাটিত হয়। ইহা চতুর্দ্দিকে উন্নত পর্ব্বতমালায় অবরুদ্ধ, কেবল দক্ষিণে বাঘমতি নদীর নির্গমন স্থলে এক বিচ্ছেদ আছে। এইরূপ কিম্বদন্তী আছে, অতি পুরাকালে ইহা নাগবাস নামে এক প্রকাণ্ড পার্ব্বত্য হ্রদ ছিল। মানজুশ্রী বোধিসত্ত্ব নামে চীন দেশ হইতে সমাগত এক মহাত্মা স্বীয় তরবারির আঘাতে পর্ব্বত ভেদ করিয়া ইহার বারিরাশি নির্গমের ব্যবস্থা করিয়া দেন। তখন হইতে ইহা মনুষ্যের আবাসের উপযোগী হইয়াছে। এই কিম্বদন্তী অনেক কারণে নিতান্ত অমূলক বলিয়া মনে হয় না। কারণ এই উপত্যকা একেবারে সমতল। এবং কঙ্করশূন্য নদীতলের ন্যায় পল্ললময়। যদি এখনও কোন উপায়ে বাঘমতি নদীর বারি নির্গমের পথ একেবারে বন্ধ করিয়া দেওয়া যায়, তাহা হইলে এই রমণীয় উপত্যকা ভবিষ্যতে পুনরায় পার্ব্বত্য হ্রদে পরিণত হইতে পারে।

 কাটমণ্ডু সহর পূর্ব্বে কান্তিপুর নামে অভিহিত হইত। ৭২৩ খৃষ্টাব্দে রাজ গুণরাম দেব এই সহর প্রতিষ্ঠা করেন।

 একদা তিনি মহালক্ষ্মীর পূজা করিতেছিলেন। এমন সময়ে স্বপ্নে দেবী তাঁহাকে দর্শন দিয়া বলিলেন “বাঘমতি এবং বিষ্ণুমতি নদীর সঙ্গম স্থলে এক সহর নির্ম্মাণ করিতে হইবে। পুরাকালে তথায় নীমুনি তপস্যা করিয়াছিলেন। এই নুতন সহরের আকৃতি দেবীর খড়্গের ন্যায় হইবে। এ সহরে, প্রতিদিন লক্ষটাকার কারবার হইবে।” শুভলগ্নে রাজা পাটন হইতে কান্তিপুরে রাজধানী পরিবর্তন করিলেন। সহরে ১৮০০০ হাজার গৃহ নির্ম্মিত হইল। লক্ষী প্রতিজ্ঞা করিলেন যতদিন না সহরে লক্ষটাকার কারবার হয় ততদিন তিনি এই সহরে অধিষ্ঠাত্রী দেবী হইয়া অবস্থিতি করিবেন। বর্ত্তমান সময়ে কান্তিপুর নামের পরিবর্ত্তে ইহা কাটমণ্ডু নামে অভিহিত হইয়া থাকে। সহরের মধ্যভাগে পুরাতন রাজ প্রাসাদের সন্নিকটেই কাটমণ্ডু নামে এক কাষ্ঠের গৃহ অদ্যাবধি বিদ্যমান আছে। ১৬৯৬ খৃষ্টাব্দে রাজা লক্ষিণা সিংহ মল্ল ইহা ফকীরদিগের আবাসের জন্য নির্মিত করিয়াছিলেন। এই কাটমণ্ডু অর্থাৎ কাষ্ঠময় নিকেতন হইতে কাটমণ্ডু নামের উৎপত্তি। যদিও এই কাষ্টময় নিকেতন অত্যন্ত পুরাতন হইয়াছে, তথাপি ইহা এখনও ফকীরদিগের আশ্রয়রূপে দণ্ডায়মান আছে। কাটমণ্ডু বর্তমান গুর্খা রাজবংশের রাজধানী বটে, কিন্তু নেওয়ার রাজাদিগের রাজত্ব কালে পাটন, ভাতগাঁও, কীর্ত্তিপুর প্রভৃতি প্রধান সহর ছিল। এই সকল সহর পূর্ব্বে প্রাচীরবেষ্ঠিত ছিল, এবং ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়া সহরে প্রবেশের পথ ছিল। সচরাচর এই সকল দ্বার উন্মুক্ত থাকিত, কেবল যুদ্ধবিগ্রহ বা অন্য কোনরূপ বিশেষ কারণে রুদ্ধ হইত। বর্তমান সময়ে প্রাচীর বা প্রবেশ দ্বার সকলের কোন চিহ্ন নাই। গুর্খা রাজত্বকালে তাহা ক্রমে লোপ পাইয়াছে। এইরূপে কাটমণ্ডু সহরে প্রায় ৩২টী প্রবেশদ্বার। ছিল। যদিও প্রাচীর নাই কিন্তু সহরের সীমা নির্দ্দিষ্ট আছে। এই সীমার মধ্যে কোন নীচজাতীয় ব্যক্তির বাস করিবার অধিকার শাই। এবং আরও অনেক নিয়ম অদ্যাবধি প্রচলিত আছে। বাঘমতি এবং তাহার শাখা এই কাটমণ্ডু সহর বেষ্টন করিয়া প্রবাহিত হইয়াছে। সহরের ঠিক মধ্য ভাগে নেওয়ার রাজাদিগের পুরাতন প্রাসাদ হনুমান ঢোকা অদ্যাবধি দণ্ডায়মান আছে।

 বর্তমান সময়েও এই বিচিত্র প্রাসাদমালা হনুমানটোকা নামেই অভহিত হইয়া থাকে। সিংহদ্বারের সম্মুখে হনুমানের এক প্রকাণ্ড বিগ্রহ দণ্ডায়মান আছে। ঢোকা অর্থাৎ দ্বার। এই বিচিত্র প্রাসাদের দ্বার স্বর্ণনির্ম্মিত। বাহির হইতে দেখিলে ইহাকে সৈন্যবাস বা কারাগৃহ বলিয়া মনে হয়। ইহার গঠন প্রণালী বর্ত্তমান রুচিসঙ্গত নয়। বর্ত্তমান নরপতি এই প্রাসাদে অবস্থিতি করেন। হনুমানঢোকার সম্মুখে এবং চতুর্দ্দিকে নানা সুদৃশ্য দেবমন্দির, স্তম্ভ প্রভৃতি পুরাকীর্ত্তি সকল বিদ্যমান আছে। বস্তুতঃ এই স্থানের দৃশ্যটী অতি মনোরম; হনুমানঢোকার অদূরে ভৈরবের এক প্রস্তরনির্ম্মিত বীভৎস প্রতিমূর্ত্তি আছে। তাহার চক্ষু গোলাকার, দন্তপংক্তি ভীষণ ভাবে প্রকটিত। হনুমানঢোকার প্রায় ৪০০ হাত দূরে কোট নামে এক নব্য ধরণের গৃহ দেখিতে পাওয়া যায়। বাহ্যকৃতিতে ইহার কোন বিশেষত্ব নাই বটে কিন্তু বর্ত্তমান ইতিহাসে ইহা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। ১৮৪৬ খৃষ্টাব্দের ১৪ই সেপ্টেম্বর এখানে এক ভীষণ হত্যাকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়। সেই দিনই সুপ্রসিদ্ধ জঙ্গবাহাদুরের অভূতপূর্ব্ব গৌরবের দ্বার উদঘাটিত হইয়া যায়। তাই আজও কোটের দিকে দৃষ্টিপাত করিলে রক্তাক্ত স্মৃতি হৃদয়কে ব্যথিত করিয়া তোলে। সহরের সর্ব্বাপেক্ষা বৃহৎ বাজার। ইন্দ্রচক। ইন্দ্রচক কলিকাতার বড়বাজার বলিয়া ভ্রম হয়। বিলাতী পণ্যদ্রব্যে ইহা সুশোভিত। সহরের রাস্তা সকল অপ্রশস্ত এবং প্রস্তরনির্ম্মিত এবং অধিকাংশ স্থান অত্যন্ত অপরিষ্কার। দুই পার্শ্বে উন্নত দ্বিতল গৃহ সকল দেখিতে পাওয়া যায়। এ সকল গৃহ আমাদের দেশের গৃহের ন্যায় নহে। কারুকার্য্যখচিত কাষ্ঠের বারান্দা প্রত্যেক গৃহের প্রধান সৌন্দর্য্য। গৃহ সকল ক্ষুদ্র,
সিংহ দরবার।
অলোকশূন্য—গবাক্ষ সকল ক্ষুদ্র ও বিচিত্র কারুকার্য্যে শোভাযুক্ত। বর্ত্তমান সময়ে জনসাধারণের রুচির পরিবর্ত্তন হইয়া এখন কাটমণ্ডু সহরে কলিকাতার ন্যায় প্রকাণ্ড সুশোভিত অট্টালিকা সকল নির্ম্মিত হইতেছে। সহরের বাহিরে উত্তরপূর্ব্ব দিকে এক প্রকাণ্ড ময়দান আছে। উহা দৈর্ঘ্যে প্রায় এক মাইল হইবে এবং প্রস্থে প্রায় তাহার এক তৃতীয়াংশ। এই স্থানে সর্ব্বদাই কাবাজ খেলা হয়। ইহাকে টুনিখিল বলে। ইহা অনেকটা কলিকাতার গড়ের মাঠের ন্যায়। টুনিলিখের মধ্যে তিনটী মুর্ত্তি দেখিতে পাওয়া যায়। (১) জঙ্গবাহাদুর (২) বীর শামসের (৩) ভীমসেন থাপা। টুনিখিলের দক্ষিণে প্রকৃত কাটমণ্ডু সহর।

 বর্ত্তমান সময়ে টুনিখিলের চতুর্দ্দিকে অনেক সুদৃশ্য প্রাসাদ এবং অট্টালিকা সকল নির্ম্মিত হইয়াছে। এই সকল অট্টালিকা সম্পূর্ণ নূতন ধরণের। এই প্রশস্ত ময়দানের পূর্ব্বদক্ষিণ কোণে বর্ত্তমান প্রধান মন্ত্রী মহারাজ চন্দ্রশামসের বাহাদুরের সিংহ দরবার নামে শ্বেত সৌধমালা দণ্ডায়মান থাকিয়া শোভা বিস্তার করিতেছে। মহারাজ চন্দ্রশামসের সাহেবের প্রাসাদের কিঞ্চিৎ দক্ষিণে ভূতপূর্ব প্রধান মন্ত্রী সুপ্রসিদ্ধ জঙ্গবাহাদুর মহাশয়ের থাপাথলির দরবার দেখিতে পাওয়া যায়। বাঘমতির অপর তীর হইতে এই সকল প্রাসাদমালা কাটমণ্ডু প্রবেশ কালে দর্শকের নয়নগোচর হয়। এই স্থানে সম্প্রতি একটী নূতন পুল নির্ম্মিত হইয়াছে। বীরসামসের মহারাজার সময়ে কাটমণ্ডু সহরের বিশেষ শ্রীবৃদ্বি সাধিত হইয়াছে।

 টুনিখিলের পশ্চিম দিকে তাঁহারই প্রতিষ্ঠিত বীর হাঁসপাতাল ও দরবার স্কুল শোভা পাইতেছে। উত্তরে রাণী পুকুর এবং মহারাজ বীরশামসের সাহেবের অতি সুশোভন লাল দরবার নামক প্রাসাদ। রাণীপুকুরের মধ্যে একটী দেবঘন্দির আছে। এই সুন্দর সরোবরটী প্রায় ৪০০ বৎসর পূর্ব্ব রাজা প্রতাপমল্ল পুত্রশোককাতরা পত্নীর সান্ত্বনার জন্য প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলেন; এবং ভারতবর্যের সমুদায় তীর্থ হইতে পবিত্র বারি আনিয়া ইহাতে রক্ষিত হইয়াছিল। অদ্যাবধি এই সরোবরের দক্ষিণে এক প্রকাণ্ড প্রস্তরনির্ম্মিত হস্তীর উপর প্রতাপমল্ল এবং তাহার রাণীর প্রতিমূর্ত্তি দেখিতে পাওয়া যায়। পুষ্করিণীর পূর্ব্ব পারে বীর লাইব্রেরী এবং ঘটিকাগৃহ আছে। ইহার বীরশামসের মহারাজার কীর্ত্তি। তিনি কাটমণ্ডু ও সহরে ড্রেণ এবং জলের কল নির্ম্মণ করিয়া সহরবাসীর প্রভূত উপকার করিয়াঝেন। তিনি নানা উপায়ে কাটমণ্ডু সহরের শ্রীবৃদ্ধি সাধন করিয়া গিয়াছেন। মহারাজ চন্দ্র শমসের সম্প্রতি বৈদ্যুতিক আলোর ব্যাবস্থা করিয়া সহরের একটী বিশেষ অভাব মোচন করিয়াছেন।

 বীরশানসের মহারাজার লাল দরবারের উত্তরে রাণা পরিবারস্থ অনেক সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তির সুদৃশ্য প্রাসাদ সকল দেখিতে পাওয়া যায়। আরও উত্তরে বর্ত্তমান নরপতি মহারাজাধিরাজ ত্রিভুবন বিক্রম শাহের রাজভবন। তিনি এখন হনুমানঢোকায় অবস্থিতি করেন না। সহরের একেবারে উত্তরে পর্ব্বতের পাদদেশে ব্রিটিশ রেসিডেন্সি।

 টুনিখিলের পশ্চিমদক্ষিণে কলিকাতার অকটারলনি মনুমেণ্টের অনুরূপ একটী মনুমেণ্ট দেখিতে পাওয়া যায়। ইহা সুবিখ্যাত রাজমন্ত্রী ভীমসেন থাপা নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন। মনুমেণ্টের নিকটেই তাঁহার বাঘ দরবার নামে প্রাসাদ অদ্যাবধি আছে। টুনিখিলের পশ্চিম দিকে বীর হাঁসপাতালের সন্নিকটে আর একটি দ্রষ্টব্য স্থান আছে। ইহা মষ্কালের মন্দির। স্বয়ং রাণা মহারাজ ইহার সম্মুখ দিয়া কখন ইহাকে দর্শন না করিয়া গমন করেন না। মন্দিরটী অতি পুরাতন। সম্ভবতঃ বৌদ্ধগণ ইহা স্থাপন করেন। কিন্তু বর্ত্তমান সময়ে বৌদ্ধ হিন্দু সকলেই ইহাকে আপনার করিয়া লইয়াছেন। ইহার প্রভূত সম্পত্তি এবং বিস্তর উপাসক। বিগত পঁচিশ বৎসরের মধ্যে টুনিখিলের চতুর্দ্দিকের হর্ম্ম্যাবলীর দ্বারা সহরের সৌন্দর্য্য বিশেষরূপে বর্দ্ধিত হইয়াছে। আবহমান কাল হইতে টুনিখিল সৈন্যদিগের জন্য বিশেষ ভাবে ব্যবহৃত হইয়া আসিতেছে।

 প্রতিদিন সূর্য্যোদয় হইতে না হইতে এই স্থানে রণবাদ্য এবং কাবাজ খেলার সময় সৈন্যদিগের অস্ত্রের ঝণ ঝণ‍্ঝনা শ্রুত হইয়া থাকে। কারণ সৈনিক বিভাগই নেপাল রাজ্যের সমুদায় অর্থ সামর্থ্য গ্রাস করিয়া আসিতেছে। কিন্তু ইহাদিগের বাহ্যাকৃতি চাল চলন কোনরূপ বীরত্ব কিম্বা গৌরব ব্যঞ্জক নহে। কাটমণ্ডু সহরের প্রাসাদ সকলের সৌন্দর্য্য অপেক্ষা ইহার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অধিকতর মনোেহারী। দুর্ভেদ্য প্রাকারের ন্যায় চতুর্দ্দিকের সুনীল উন্নত পর্ব্বতমালা উত্তর সীমায় দিগন্তপ্রসারিত হিমানীমণ্ডিত শিখর— শ্রেণী, উজ্জ্বল আলোক মণ্ডিত সুনীল নভোমণ্ডল, শ্যামল পুষ্পিত বৃক্ষলতা, হৃদয় মন বিমুগ্ধ করিয়া রাখে। বাতায়ন উন্মুক্ত করিয়া এই সকল অপূর্ব্ব শোভা দেখিলে হৃদয় আনন্দে উথলিয়া উঠে। তখন মনে হয় পুরাণে যে কৈলাসপুরীর বর্ণনা আছে তাহা বুঝি এই! হিমাচলের অঙ্গে অঙ্গে এত সৌন্দর্য্যও বিধাতা ঢালিয়া দিয়াছেন। দেখিয়া দেখিয়া নয়ন পরিতৃপ্ত হয় না। দেখি আর ভাবি, কবি যথার্থই গাহিয়াছেন:—

তুমি ধন্য ধন্য হে;-ধন্য তব প্রেম;
ধন্য তোমার জগত রচনা।