পাতা:অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান - মহেন্দ্রনাথ দত্ত.pdf/১৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১১৪ অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান পূর্বকার সাধকদিগের বিষয় পুস্তকে পড়িয়াছি মাত্র। ‘চৈতন্য চরিতামৃত' গ্রন্থে হরিদাস ও দাস রঘুনাথের বিষয় কয়েকটা কথা উল্লেখ আছে দেখিয়াছি; কিন্তু ব্রহ্মানন্দ ও হরি মহারাজকে আমি প্রত্যক্ষভাবে নিরবচ্ছিন্ন জপ করিতে দেখিয়াছি। এইরূপ জপ করা ইদানীং অল্পই দেখিতে পাওয়া যায় ; বাহ্যিক অন্য কোন চিহ্ন নাই – কেবলমাত্র ঠোট নাড়িতেছে, না হয় “কর’ ফিরাইতেছে। | একটী প্রাচীন গল্প আছে যে, একটী পাখী গাছের ডালে বসিয়া অনবরত জপ করিতেছিল। পাখীটীর জল তৃষ্ণা পাইল। সে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য নিকটস্থ একটী জলাশয়ের সম্মুখে বারবার উপস্থিত হইতেছিল; কিন্তু জলপান না করিয়াই সেই বৃক্ষের ডালে প্রতিবার উড়িয়া আসিতে লাগিল। ইহা দেখিয়া লক্ষ্মণ বলিলেন, “এই পাখীটী বড়ই বােক, জলের কাছে আসিতেছে, অথচ, জল পান না করিয়া চলিয়া যাইতেছে।” ইহাতে শ্রীরামচন্দ্র উত্তর করিলেন, “পাখীটী জপ করিতেছে, কিন্তু জল পান করিতে যাইলেই জপ করা বন্ধ হইয়া যাইবে, এইজন্য, দারুণ তৃষ্ণাতেও সে জল পান করিবার অবসর পাইতেছে না।”* এই গল্পটী উপাখ্যান মাত্র ; কিন্তু ব্রহ্মানন্দ ও হরি মহারাজের এইরূপ অবস্থাই হইয়াছিল।

  • আমরা শ্রদ্ধেয় গ্রন্থকারের নিকট শুনিয়াছি যে, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস মহাশয়ের ভবনে, মহাত্মা গান্ধীর সহিত সাক্ষাৎকালে, শ্রীশ্রীগৌরীমাতা এই গল্পটা বলিয়াছিলেন। ইতি—সঃ।