পাতা:অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান - মহেন্দ্রনাথ দত্ত.pdf/১৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৪৬ অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান বস্তু যে কি, তাহা ব্যক্ত বা অনুধাবন করিতে পারি না। কারণ, | ‘চিৎ স্বয়ং স্পন্দিত হইতেছে বলিয়া চিন্তাশক্তি উদ্ভূত হইতেছে। এই সকল দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক মত হইতে ইহা বেশ বুঝা যায় যে, সাধক যখন নিরবচ্ছিন্নভাবে জপ করেন, তখন তাঁহার শরীরের প্রত্যেক পরমাণুও জপ করিতে থাকে এবং তখন নূতন ও নানা ভাবের কম্পন ও প্রকম্পন হয়, তখন পরমাণুর পরস্পরের সম্পর্ক, দূরত্ব ও সংশ্লিষ্টভাব, বহুপ্রকার হয়। ইহা হইতে অবয়ব, বর্ণ, স্থূলত্ব ইত্যাদির পরিবর্তন হয়। পক্ষান্তরে, ইহাকে ‘অণিমা’, লঘিমা ইত্যাদি গুণ বলা হয়। ব্রহ্মানন্দ ছেলেবেলায় সাধারণ চঞ্চলমতি বালক ছিল এবং বহুপ্রকার চাপল্যভাব প্রকাশ করিত। তখন তাহার বর্ণ সাধারণ বালকের ন্যায় মলিন ছিল, কিন্তু সে যখন তাপস ব্ৰহ্মানন্দ হইল এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে জপ করিতে লাগিল, তখন ক্রমে তাহার দেহের পরমাণুপুঞ্জও অপর পরমাণুপুঞ্জে পরিবর্তিত হইল; বর্ণ উজ্জ্বল হইতে লাগিল, মলিনভাব বিদূরিত হইয়া জ্যোতিৰ্ম্ময়ভাব – Effulgent, Radiant বা Luminous ভাব ধারণ করিতে লাগিল। মুখের আকৃতি গম্ভীর, নিস্পন্দ ও আজ্ঞাপ্রদ হইল এবং স্থির, শান্তভাব আসিল। কণ্ঠস্বর ধীর ও আজ্ঞা প্রদ হইতে লাগিল। চক্ষুর দৃষ্টি, যাহাকে ‘ত্রাটক - ‘Fixating of eyes' বলে, সেইরূপ স্থির হইল। পূর্বের চাপল্যভাব আর রহিল না। চক্ষুর দৃষ্টি যে পরিবর্তিত হয়, ইহা স্পন্দনবাদ দিয়া সম্পূর্ণরূপে বুঝা যাইতে পারে। তবে,