পাতা:অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান - মহেন্দ্রনাথ দত্ত.pdf/৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२२ | অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্ৰহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান একবার মনােমােহনদার বাড়ীতে সভা হইল। কেশবাবু আসিয়া উপাসনা ইত্যাদি করিলেন। যুবা রাখাল সে সময় কেশববাবুর সমাজেও যাইত এবং নব-গঠিত সাধারণ সমাজেও যাইত, কখনও বা আদি সমাজেও যাইত; কিন্তু খ্রীষ্টানদিগের সহিত মেশামিশি করে নাই। এই সময় হইতে তাহার চোখ বুজাইয়া স্থির হইয়া বসিয়া থাকিবার ভাবটা অধিক হইতে লাগিল। ধ্যান করা কাহাকে বলে আমরা তখন তাহা বুঝিতাম না। এই সময় হইতেই রাখালের মন বেশ দ্বিধাভাব ধারণ করিল। একটী হইল— বিদ্যালয়ে পড়া, সংসারের কাজকর্ম করা, খেলাধূলা করা; আর অপরটী হইল—ব্রাহ্মসমাজে যাওয়া ও মাঝে মাঝে চোখ বুজাইয়া বসিয়া থাকা। ক্রমে তাহার খেলাধূলা ও চাপল্যের ভাব কমিতে লাগিল এবং সে সাধারণ ছেলে হইতে একটু পৃথক হইতে লাগিল। সকলের সহিত মেশামিশি ছিল বটে, তবু যেন একটু পৃথক থাকিত। বিশেষতঃ এই হইল যে, অন্য ছেলের সহিত বেশীক্ষণ না থাকিয়া নরেন্দ্রনাথের সহিত বেশী মেশামিশি করিতে লাগিল। পড়াশুনায় সে ক্রমশঃই শিথিল হইতে লাগিল। পড়াশুনায় শিথিলতা দেখিয়া আমি মনে মনে ভাবিতাম—এমন কি এক এক সময় বলিয়াও ফেলিতাম, “এ ছোঁড়া পড়াশুনা করে , পড়াশুনায় মন নেই, কেবল এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ায়। এ ছোড়ার বাপের যদি কিছু থাকে ত ভাল, তা না হলে কি কাজ করবে ? শুধু ভাল মানুষ হলে ত চলে না!” জীবনে কি করিবে, সে তখন তাহা কিছু স্থির করিতে পারিতে ।