পাতা:অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান - মহেন্দ্রনাথ দত্ত.pdf/৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অজাতশত্রু শ্রীমৎ স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের অনুধ্যান ৬১ এবং সামান্য বিষয়ে মনটীকে সংযত করিতে হইত। আমি সর্বদাই শুনিতাম—এই সময় তাহার কণ্ঠস্বর যেন কাতরতাপূর্ণ ও করুণাপ্রার্থী। একদিকে যেমন ভগবানের নিকট কাতরকণ্ঠে করুণা চাহিতেছে, অপরদিকে জগতের প্রত্যেকের নিকট কাতর হইয়া বলিতেছে, “আমাকে কৃপা কর, শক্তি দাও, যেন আমার ভগবান দর্শন হয়।” ইহাকেই বলে নাদব্ৰহ্ম বা Rhytlinical Violation. বহুবৎসর পরে রাখালের এই সময়কার ভাব আমার মনে আসিতেছে এবং আমার নিজের মনও আলােড়িত হইয়া উঠিতেছে। রাখালের এই সময়কার ভাব—চিন্তা ও ধ্যান করিবার বিষয়, তর্ক করিবার বিষয় নয়। যাঁহারা তাহার এই সময়কার অবস্থা অতি সংযত ও শ্রদ্ধাপূর্ণ হইয়া আলােচনা করিবেন, তাহারা এ বিষয় কিছু অনুধাবন করিতে পারিবেন এবং যাহারা রাখালের এই সময়কার ভাবটা নিজেদের ভিতর আনিতে পারিবেন, তাঁহারা নিশ্চিত ভগবান লাভ করিতে পারিবেন এ বিষয়ে কিছুই সংশয় করিবার নাই। কোঠারে ও পুরীতে কলিকাতা বা তাহার সন্নিকটস্থ স্থানে থাকা রাখালের পক্ষে অনেক সময় কষ্টকর ও বিঘ্নকর হইতে থাকায়, সে কখনও বলরাম বাবুদের উড়িষ্যা দেশের জমিদারী কোঠারে অথবা বৃন্দাবনের জমিদারীতে চলিয়া যাইত, যাহাতে ‘বি’র চিঠি আর না পাইতে হয়।