পাতা:অদ্ভুত ফকির - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দারোগার দপ্তর, ১৯৫ সংখ্যা।


লাবণ্যহীন, চক্ষু আয়ত, কিন্তু উজ্জ্বলতাশূন্য, মস্তকে দুই এক গাছি পক্ক কেশ দেখা দিয়াছে। তাঁহার পরিধানে একখানি সাদাধুতি, গাত্রে একটা ক্ষুদ্র পিরান, পায়ে এক জোড়া চটী জুতা, হন্তে এক গাছি লাঠী, চক্ষে সোণার চশমা। তাঁহাকে দেখিয়া বোধ হইল, তিনি সুখের ক্রোড়ে পালিত হইলেও কষ্টের হাত হইতে অব্যাহতি পান নাই। তাঁহার ললাটে চিন্তা-রেখা সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হইতেছিল।

 জিজ্ঞাসা করিয়া জানিলাম, তিনিই বাড়ীর মালিক, সরকার বংশের বংশধর, নাম গৌরীশঙ্কর। সরকারদিগের বাড়ীখানি প্রকাণ্ড ও দ্বিতল। অট্টালিকার সম্মুখেই এক প্রকাও উদ্যান। সেই উদ্যানের ভিতর একখানি সামান্য কুটীরে এক ফকির বাস করিতেন। সেদিন প্রত্যুষে তাঁহারই মৃতদেহ দেখিতে পাওয়া যায়।

 প্রথম সম্ভাষণের পর আমি গৌরীশঙ্করকে ঐ হত্যাকাণ্ডের কথা জিজ্ঞাসা করিলাম। গৌরীশঙ্করের সঙ্গে দুই তিনজন ভৃত্য আসিয়াছিল। গৌরীশঙ্কর একবার আমার মুখের দিকে আর একবার সেই ভৃত্যদিগের দিকে চাহিলেন দেখিয়া, আমি তাঁহার মনোগত অভিপ্রায় বুঝিতে পারিলাম। বলিলাম, “আপনি যথার্থ অনুমান করিয়াছেন। সকল কথা সকলের সমক্ষে বলা বিচক্ষণ ব্যক্তির উচিত নহে।”

 গৌরীশঙ্কর আমার সঙ্কেতবাক্য বুঝতে পারিলেন এবং তখনই তাহাদিগকে তথা হইতে বিদায় দিলেন। পরে আমাদের উভয়কে একটী নির্জন গৃহে লইয়া গিয়া প্রথমে অতি সমাদরে বসিতে অনুরোধ করিলেন।