পাতা:অনাথ আশ্রম - ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ.pdf/৫১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঢালিয়া দেয়! তোর মত উড়িতে পায় না, তাই । না সে তোর আদর্শনে সকল হাসি সকল সাধ পবন সাগরে ঢালিয়া মলিন হইয়া লতাবাঁধনেই ঝরিয়া যায়। সরসী তোরে দেখিলে তরঙ্গকর দোলাইয়ু দোলাইয়া ধরিতে আসে। তার | ভি - . হইতে গভীরতর জলে আত্মনিক্ষেপ। সেখানে হৃদয়শেভিকরী মৃণালিনী, পাতায় যে তোরে ঢাকিয়া রাখে, আকাশের মুখ যে দেখিতে দেয় . না ! নিশায় তোরে পায় না, তাই না সে মনের } দুঃখে কমলিনীর মুখ খুলিতে দেয় না। এমন তুই-সবার स्त्रनिद्र ਬਣਿ- আগুণের ! মুখে মরিতে আসিলি কেন ? তোর যদি মরিার } এত সাধ, তবে এ সংসারে আমরা কি কৱিব- | কার মুখ দেখিয়া বাচিয়া থাকিব ? তোরও যদি } সুখ নাই, তবে এ সংসারে সুখ কোথায় ? প্ৰজাপতি বুদ্ধের কথায় কাণ দিল নাআপন মনেই ঘুরিতে লাগিল। নিরঞ্জন তখন । তাহাকে ধরিলেন, আর লণ্ঠন খুলিয়া “তবে মর!” { বাহিরে আসিয়া দেখিলেন, চাঁদ। দেখিলেন, তার পাশে অনন্ত আকাশ। আকাশের | গায় নক্ষত্ৰ, নক্ষত্রের পাশে আবার আকাশ | | আর দেখিলেন, চাঁদের পাশে, তারার পাশে, | নীল আকাশে ভাসমান অসংখ্য ক্ষুদ্র জলদখণ্ড । ] দেখিয়া নিরঞ্জনের তৃপ্তি হইল না। এ নিশায় । নিরঞ্জনের জাগিয়া লাভ কি! সে কেন জাগিবে। যে আজীবন অন্ধনয়নে দিবারাত্রি সমান দেখিয়া . . . . . .

  • জীবন মরণকে যে সমান করিয়াছে। সে জাগুব

, '... ". পায় < | তর্কের ! তাত দু’খনি যে বহুদিনব্যাপী বিরহের পর আজ সর্বপ্রথম জীবনে সব পাইয়াছে। সে কেন জাগিবে, যার । চাদের সহিত তুলনা করিবার কিছু নাই। যার ন হইয়া লতাবাঁধনেই ; কৌমুদী ধরিবার। নাই, দিবানিশি অন্তরে অন্তরে অতলস্পর্শ জলের ا۔ ,, . কৌমুদী ধরিবার ভাণ্ড নাই, চাঁদ ধরিবার ফাদ ভিতর ডুবিতেছে, তার অগ্রগমন কেবল গভীর চাদ কোথায় ?- হ সৌন্দৰ্য্যে নিরঞ্জনকে টানিতে পারিল না। নিরঞ্জন ক্ষণপূর্বেই যে অতি সুন্দর প্রজাপতিকে । অনলে নিক্ষেপ করিয়াছেন। চাঁদ দূর হইতে সুন্দর । বিজ্ঞানে বলে, চাঁদের হাসি বিভীষিকার তুলিতে অঙ্কিত। চাঁদে হৃদয় নাই-প্ৰাণ নাই ; মরুভূমির মত দিবানিশি ধু ধু করিয়া পুড়িতেছে। l আমরা চাদের কেবল এক দিক দেখিতেছি । অপর দিক আজীবন আমাদের নয়নের অন্তরালে। শুধু মুখের হাসি দৈখিয়া, তার অস্তিত্বের সার্থ| কতা না বুঝিয়া, তাহাঁকে ভাল বাসিতে যাইব বলিয়া দীপশিখায় সমর্পণ করিলেন। তার | মরিবার সাধ মিটাইলেন ।--তার পর বাহিরে । আসিলেন। . মনে মনে বলিলেন-নিরীহ প্ৰজাপতিই যখন । আমার হৃদয় আকর্ষণ করিতে পারে নাই, তখন | আমার হৃদয় আমার কাছে রাখিব। কাহারও। প্ররোচনায় হৃদয়টাকে হাতছাড়া করিব না। প্রজাপতি ! তোরে যে মারিয়াছি, সে অনেক দুঃখে । তুই এত রাত্রে আমার গৃহে আসিলি কেন ? “ববাহে চ প্রজাপতিঃ ।” আমার ঘরে অনূঢ়া কাননী রহিয়াছে। সে নাবালিকা । iাদিয়া মরিতেছে। সে জাগুক- [ কি সাবালিকা, চারি দিকে তর্ক উঠিয়াছে। সেই |ার চোখ ফুটিয়াছে। সে কেন । তর্কের । কেন ? নিরঞ্জন মাথা নামাইলেন। ছাদের উপর অবনতম স্তকে কিছুক্ষণ পদচারণ করিলেন । আঘাতে বৃদ্ধ বটুক মরিয়াছে। পরিবর্তে যুবক মটুক আসিয়াছে। কানুর নি পাইবার জন্য চারি দিক হইত্তে ।