প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


yr অপরাজিত সে একটু বেলা করিয়া বাড়ি ফিরিল। ফটকের কাছে বাড়ির গাড়ি দইখানি তৈয়ার হইয়া দাঁড়াইয়া স্কুছে। দেউড়িতে ঢুকিয়া খানিকটা আসিয়া দেখিল বাড়ির তিন-চার জন ছেলে সাজিয়া গজিয়া কোথায় চলিয়াছে। নিজেদের ঘরের সামনে নিস্তারিণী বিকে পাইয়া জিজ্ঞাসা করিল, মােসীমা, এত সকালে গাড়ি যাচ্ছে কোথায় ? মেজবাবরা কি আজকে আসবেন ? নিস্তারিণী বলিল, তাই তো শািনছি। কাল চিঠি এসেচে-শাধ মেজবাব আর বৌরানী আসবে, লীলাদিদিমণি এখন আসবেন না-ইস্কুলের এগাজামিন । সেই বড়দিনের সময় তবে আসবে। গিন্নীমা বলছিলেন বিকেলে অপর মনটা একম হতে দমিয়ে গেল। লীলা আসিবে না । বড়দিনের ছটিতে আসিলেই বা কি-সে তো তােহর আগে এখান হইতে চলিয়া যাইবে । *ার আগে একবার দেখা ইয়া যাইত এই সময় আসলে। কতদিন সে আসে। তাহার মা বলিল, বেশ ছেলে তো, কোথায় ছিলি রাত্তিরে ? অামার ভেবে সারারাত চোখের পাতা বোজে নি কাল । অপ বলিল, রাত বেশী হয়ে গেল, ফটক বন্ধ করে দেবে জানি, তাই আমার এক বন্ধ ছিল, আমার সঙ্গে পড়ে, তাদেরই বাড়িতে- । পরে হাসিয়া ফেলিয়া বলিল, না মা, সেখানে পানের দোকানো একটা কেরোসিন কাঠের বাক্স পড়ে ছিল, তার উপর শায়ে সবজিয়া বলিল, ওমা, আমার কি হবে ! এই সারারাত ঠান্ডায় সেখেনেলক্ষীছাড়া ছেলে, যেও তুমি ফের কোনদিন সন্দ্যের পর কোথাও-তোমার বড় ইয়ে হয়েচে, না ? al অপৰ হাসিয়া বলিল-তা আমি কি ক’রে ঢুকবো বলো না ? ফটিক ভেঙে ঢুকবো ? রাগটা একটু কমিয়া আসিলে সবজিয়া বলিল-তারপর জ্যাঠামশায় তো কাল এসেচেন । তুই বেরিয়ে গেলে একটু পরেই এলেন, তোর খোঁজ করলেন, আজি ওবেলা আবার আসকেন। বললেন, এখেনে কোথায় তাঁর জানাশনো লোক আছে, তাদের বাড়ি থাকবেন। এদের বাড়ি থাকবার অসবিধে-পরশ নিয়ে GRANTS TE অপ বলিল, সত্যি ? কি কি বল না। মা, কি সব কথা হ’ল ? আগ্রহে অপমায়ের পাশে চৌকির ধারে বসিয়া পড়িয়া মায়ের মাখের দিকে চাহিল। দ’জনের মুনেক কথাবাত হইল। জ্যাঠামশায় বলিয়াছেন, তাঁহার আর কেহ নাই, ইহাদের উপর সব ভার দিয়া তিনি কাশী যাইকেন। অনেকদিন পরে সংসার পাতিবার আশায় সবজিয়া আনন্দে উৎফুল্ল। ইহাদের বাড়ি হইতে নানা টুকটাক গহস্থালীর প্রয়োজনীয় জিনিস নানা সময় সংগ্ৰহ করিয়া সযত্নে রাখিয়া দিয়াছে। একটা বড় টিনের টেমি দেখাইয়া বলিল, সেখেনে রানাঘরে জ্যািলবো-কত বড় লক্ষপটা দেখোঁচস? দ’পয়সার তেল ধরে ।