প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত NOVO না । তেওয়ারীর সত্ৰী একদিন সোডা সাবান দিয়া নিজেদের কাপড় সিদ্ধ করিতে বসিয়াছে, অপ, নিজের ময়লা শার্ট ও ধতিখানা লইয়া গিয়া বলিল, বহ, তোমার সাবানের বোল একটু দেবে, আমি এ দটোয় মাখিয়ে রেখে দি--তারপর ওবেলা কলেজ থেকে এসে কলে জল এলে কোচে নেবো।--দেবে ? • • • • তেওয়ারী-বধ, বলিল, দে দিজিয়ে না। বাবাজী, হাম হাঁড়ি মে ডাল দেগা। আপ ভাবে-আহা, বহা কি ভালো লোক !—যদি কখনও পয়সা হয় ওর উপকার করবো।-- এক একবার তাহার মনে হয়, যদি কিছ না জোটে, তবে এবার হয়ত কলেজ ছাড়িয়া দিয়া মনসাপোতা ফিরিতে হইবে-কিন্তু সেখানেই আর চলিবার কোনও উপায় নাই, তেলি ও কুন্ডুরা পাজার জন্য অন্যস্থান হইতে পাজারী-বামন আনাইয়া জায়গা-জমি দিয়া বাস করাইয়াছে। আজ কয়েকদিন হইল মায়ের পত্রে সে-খবর জানিয়ছে, এখন তাহার মাকেও আর ভেলির সাহায্য করে না, দেখেশোনে না ! মায়ের একাই চলে না-তার মধ্যে সে আবার কোথায় গিয়া জটিবে ? --তােহা ছাড়া পড়াশনা ছাড়া ? অসম্ভব ! সে নিজে বেশ বঝিতে পারে, এই এক বৎসরে তাহার মনের প্রসারিতা এত বাড়িয়া গিয়াছে, এমন একটা নতুন ভাবে সে জগৎটাকে, জীকনটাকে দেখিতে আরম্ভ করিয়াছে—যা” কিনা দশ বৎসর মনসাপোতা কি দেওয়ানপরে পড়িয়া হাবড়ুব খাইলেও সম্ভব হইয়া উঠিত না । সে এটুকু বেশ বোঝে, কলেজে পড়িয়া ইহা হয় নাই, কোনও প্রফেসারের বক্তৃতাতেও না-যাহা কিছ: হইয়াছে, এই বড় আলমারীভরা লাইব্রেরীটিার জন্য, সে তাহার কাছে কৃতজ্ঞ । যতক্ষণ সে লাইব্রেরীতে থাকে, ততক্ষণ তাহার খাওয়া-দাওয়ার কথা তত মনে থাকে না । এই সময়টা এক একটা খেয়ালের ঘোরে কাটে । খেয়ালমত এক একটা বিষয়ে প্রশ্ন জাগে মনে, তাহার উত্তর খাজিতে গিয়া বিকারের রোগীর মত অদমা পিপাসায় সে সম্পর্বমেধ যত বই পাওয়া যায় হাতের কাছে-পাঁড়িতে চেন্টা করে । কখনও খেয়াল-মনক্ষত্র জগৎ • • •কখনও প্রাচীন গ্রীস ও রোমের জীবনযাত্রা প্রণালীর সহিত একটা নিবিড় পরিচয়ের ইচ্ছা- কখনও কীটস, কখনও হল্যান্ড রোজের নেপোলিয়ন । কোন খেয়াল থাকে দশদিন, কোনোটা আবার একমাস ! তার কলপনা সব সময়ই বড় একটা কিছুকে আশ্রয় করিয়া পলিটলাভ করিতে চায়-বড় ছবি, জাতির উত্থান-পতনের কাহিনী, চাঁদের দেশের পাহাড়শ্রেণী, বর্তমান মহাযান্ধ, কোন বড়লোকের জীবনী । কারখানার ম্যানেজার আর একদিন তাগিদ দিলেন। খাব সখের বাসা ছিল না বটে, কিন্তু এখন সে যায় কোথায় ? হাতে কিছু না থাকায় সে এবার পদার্টা একদিন বেচিতে লইয়া গেল । এটা তাহার বড় শখের জিনিস ছিল । * পদটাতে একটা জাপানী ছবি অকি-ফুলে ভরা চেরী গাছ, একটু জলরেখা, মাঝ-জলে বড় বড় ভিক্টেরিয়া ৱিজিয়া ফুটিয়া আছে, ওপারে ঢেউখেলানো কাঠের ছাদওয়ালা একটা দেবমন্দির, দরে ফুজিসানের তুষারাবত শিখর একটু একটু নজরে পড়ে । এই ছবিখ্যানার জন্যই সে পদােটা কিনিয়াছিল, এইজন্যই এত দিন হাতছাড়া