প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত ܕܠܬ অপ বলিল, জিজ্ঞেস করবো ? লীলা হাসি মাখে ঘাড় নাড়িয়া চুপ করিয়া রহিল। অপ বলিল, আচ্ছা বলো-চট্টগ্রাম কণাফুলির মোহনায়ী-কি ইংরেজি হবে ? লীলা ভাবিয়া বলিল, চিটাগং ইজ অন দি মাউথ অফ দি কর্ণফুলি । অপ বলিল, ক’জন মাস্টার তোমাদের সেখেনে ? -আটজন, হেড মিসেন্টস এন্টান্স পাশ, আমাদের গ্রামার পড়ান। পরে সে বলিল-মা'র সঙ্গে দেখা করবে না ? —এখন যাবো, না একটি পরে যাবো ? বিক্টে, যাবাে এখন, সেই ভাল t --তাহার পরে সে একটু থামিয়া বলিল, তুমি শোন নি লীলা, আমরা যে এখান থেকে চলে যাচি ! লীলা আশ্চর্য হইয়া অপাের দিকে চাহিল। বলিল-কোথায় ? --অামার এক দাদামশায় আছেন, তিনি এতদিন পরে আমাদের খোঁজ পেয়ে তাঁদের দেশের বাড়িতে নিয়ে যেতে এসেছেন । অপ, সংক্ষেপে সব বলিল । লীলা বলিয়া উঠিল--চলে যাবে ? বাঃ রে ! হয়তো সে কি আপত্তি করিতে যাইতেছিল, কিন্তু পরীক্ষণেই বঝিল, যাওয়া না-যাওয়ার উপর অপাের তো কোনও হাত নাই, কোনও কথাই এক্ষেত্রে বলা চলিতে পারে না । খানিকক্ষণ কেহই কথা বলিল না । লীলা বলিল, তুমি বেশ এখানে থেকে ইস্কুলে পড়ো না কেন ? সেখানে কি ইস্কুল আছে ? পড়বে কোথায় ? সে তো পাড়াগাঁ । -আমি থাকতে পারি। কিন্তু মা তো আমায়। এখেনে রেখে থাকতে পারবে ना, नईल आद्ध कि --না হয়, এক কাজ কর না কেন ? কলকাতায় আমাদের বাড়ি থেকে পড়বে । আমি মাকে বলবো, অপর্বে আমাদের বাড়িতে থাকবে ; বেশ সবিধে-আমাদের বাড়ির সামনে আজকাল ইলেকট্ৰিক ট্রাম হয়েছে-এঞ্জিনও নেই, ঘোড়াও নেই, এমনি চাল-তারের মধ্যে বিদ্যুৎ পোরা আছে, তাতে চলে । --কি রকম গাড়ি ? তারের ওপর দিয়ে চলে ? একটা ডান্ডা আছে । তারে ঠেকে থাকে,তাতেই চলে । কলকাতা গেলে দেখবে এখন-ছ-সাত বছর হ’ল ইলেকট্রিক ট্ৰাম হয়েছে, আগে ঘোড়ায় টানতো আরও অনেকক্ষণ দ’জনের কথাবাতা চলিল । বৈকালে সবজিয়ার জ্যাঠামশায় ভবতারণ চক্ৰবত আসিলেন । অপরকে কাছে ডাকিয়া জিজ্ঞাসাবাদ করিলেন । ঠিক করিলেন, দইদিন পরে বধেবারের দিন লইয়া যাইবেন । অপর দ-একবার ভাবিল লীলায় প্রস্তাবটা একবার মায়ের কাছে তোলে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কথাটা আর কাযে পরিণত হইল না। সকালের রৌদ্র ফুটিয়া উঠিবার সঙ্গে সঙ্গেই উলা স্টেশনে গাড়ি আসিয়া