প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


rurs ভাবে ইতর ও অশোভন লোভ যেন উগ্রভাবে ফুটিয়া বাহির হইতেছে- এদের পাকা বৈষয়িক কথাবাতায় ও চালচলনে অপা ভয় খাইয়া গেল। লাইব্রেরীর পরিচিত জগতে আসিয়া সে হাঁপ ছাড়িয়া বাঁচে প্রতিদিন । একদিন মসলমান দালালটি বাজারে তাহার কাছে দুইটি টাকা ধার চাহিল । বড়-কািট যাইতেছে, পরের সপ্তাহেই দিয়া দিবে এখন। অপর ভাবিল-হয়ত বাড়িতে ছেলেমেয়ে আছে, রোজগার নাই এক পয়সা । অৰ্থাভাবের কন্টে যে কি সে তাহা ভাল করিয়াই বঝিয়াছে এই দুই বৎসরে-নিজের বিশেষ সর্বাচ্ছন্দ্য না। থাকিলেও একটি টাকাবাসা হইতে আনিয়া পরদিন বাজারে লোকটাকে দিল । ইহার দিন সাতেক পর অপ, সকালে ঘাম ভাঙিয়া উঠিয়া ঘরের দোরে কাহার ধাক্কার শব্দ পাইলদোর খালিয়া দেখিল-মাসলমান দালালটি হাসিমখে দাঁড়াইয়া । -এসো, এসো আবদল, তারপর খবর কি ? --আদাব বাবা, চলন, ঘরের মধ্যে বলি । এ-ঘরে আপনি একলা থাকেন, না। আর কেউ-ওঃ-বেশ ঘর তো বাবা । -এসে বসে । চা খাবে ? চা-পানের পর আবদলে আসিবার উদ্দেশ্য বলিল। বারাকপরে একটা বড় বায়লারের সন্ধান পাওয়া গিয়াছে, ঠিক সেই ধরণের বয়লারেরই আবার এদিকে একটা খরিদার জটিয়া গিয়াছে, কাজটা লাগাইতে পারিলে তিনশো টাকার কম। নয়-একটা বড় দাঁও । কিন্তু মাশকিল দাঁড়াইয়াছে এই যে, এখনই বারাকপরে গিয়া বয়লারটি দেখিয়া আসা দরকার এবং কিছু বায়না দিবারও প্রয়োজন আছেঅথচ তাহার হাতে একটা পয়সাও নাই। এখন কি করা ? অপ বলিল-খন্দের মাল ইনস্পেকশনে যাবে না ? --আগে আমরা দেখি, তবে তো খন্দোিক্সকে নিয়ে যাব ?--দেড় পাসেণ্ট করে ধরলেও সাড়ে চারশো টাকা থাকবে আমাদের-খন্দের হাতের মাঠোয় রয়েছেআপনি নিভাবনায় থাকুন-এখন টাকার কি করি ? অপর পােবদিন টুইশানির টাকা পাইয়াছিল, বলিল-কত টাকার দরকার ? আমি তো ছেলে-পড়ানোর মাইনে পেয়েছিা-কত তোমার লাগবে বলো । হিসাবপত্র করিয়া আট টাকা পড়িবে দেখা গেল। ঠিক হইল-আবদলে এবেলা বয়লার দেখিয়া আসিয়া ওবেলা বাজারে অপাকে সব খবর দিবে। অপ বাক্স খালিয়া টাকা আনিয়া আবদলের হাতে দিল । বৈকালে সে পাটের এক্সচেঞ্জের বারান্দাতে বেলা পাঁচটা পর্যন্ত আগ্রহের সহিত আবদলের আগমন প্রতীক্ষা করিল। আবদলে সেদিন আসিল না, পরদিনও তাহার দেখা নাই । ক্ৰমে একে একে সাত-আটদিন কাটিয়া গোল-কোথায় আবদলে ? সারা বাজার ও রাজা উডমান্ড সন্ত্রীটের লোহার দোকান আগাগোড়া খাজিয়াও তাহার সন্ধান মিলিল না । ক্লাইভ সন্ত্রীটের একজন দোকানদার শনিয়া বলিল-কত টাকা নিয়েছে আপনার মশাই! আবদলে তো ? মশাই জোচোরের ধাড়ী —আর টাকা পেয়েছেন,-টাকা নিয়ে সে দেশে পালিয়েছে-আপনিও {!!!!!!