প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত NA বহিয়া বাড়ি আনে। সবজিয়া হাসিমখে বলে, ওঃ, আজ চাল তো অনেক হয়েচে । - দেখি ! সন্দেশ কাদের বাড়ির নৈবিদ্যিতে দিল রে । অপা খাঁশির সহিত দেখাইয়া বলে, কুশডবাড়ি থেকে ১কেমন একছড়া কলা দিয়েচে, দেখেচো মা ? সবােজয়া বলে, এবার বোধহয় ভগবান মখে তুলে চেয়েচন, এদের ধরে থাকা যাক গিরুষী লোক বড় ভালো । মেজছেলের শবশরিবাড়ি থেকে তত্ত্ব পাঠিয়েচেঅসময়ের আম-অমনি আমার এখানে পাঠিয়ে দিয়েচে-খাস এখন দধি দিয়ে । এত নানারকমের ভাল জিনিস সবজিয়া কখনো নিজের আয়ত্তের মধ্যে পায় নাই । তাহার কতকালের সর্বপ্ন ! নিশিচম্পিদপরের বাড়িতে কত নিস্তবধ মধ্যাহ্নে, উঠানের উপর কুকিয়া-পড়া বাশবনের পত্ৰস্পৰদিনে, ঘাঘর ডাকে, তাহার অবসন্ন অন্যমনস্ক মন যে অবাস্তব সচ্ছলতার ছবি আপন মনে ভাঙ্গিত গড়িত-হাতে খরচ নাই, ফুটা বাড়িতে জল পড়ে বণ্টির রাত্রে, পাড়ায় মাখ পায় না, সকলে তুচ্ছ করে, তাচ্ছিল্য করে, মানষে বলিয়াই গণ্য করে না- সে সব দিনের সমিতির সঙ্গে, আমরাল শাকের বনে পরানো পাচিলের দীঘ ছায়ার সঙ্গে যে সব দরকালের দরাশার রঙে রঙিন ভবিষ্যৎ জড়ানো ছিল--এই তো এতদিনে তাহারা পথিবীর মাটিতে নামিয়া আসিয়াছে । পাজার কাজে অপর অত্যন্ত উৎসাহ । রোজ সকালে উঠিয়া সে কলপাড়ার একটা গাছ হইতে রাশীকত কচি কচি বেলপাতা পাড়িয়া আনে । একটা খাতা বধিয়াছে, তাহাতে সৰ্ব্বদা ব্যবহারের সংবিধার জন্য নানা দেব-দেবীর স্তবের মন্ত্র, সমানের মন্ত্র, তুলসীদান প্রণালী লিখিয়া লইয়াছে। পাড়ায় পজা। করিতে নিজের তোলা ফুল-বেলপাতা লইয়া যায়, পাজার সকল পদ্ধতি নিখতভাবে জানা না থাকিলেও উৎসাহ ও একাগ্রতায় সে সকল অভাব পােরন। করিয়া লয় । বিষাকালের মাঝামাঝি অপর একদিন মাকে বলিল যে, সে সকলে পড়িতে যাইবে। সবজিয়া আশ্চর্য হইয়া তাহার মাখের দিকে চাহিয়া বলিল, কোন ইসকল রে ? -কেন, এই তো আড়াবোয়ালেতে বেশ ইসকল রয়েচে । -সে তো এখেন থেকে যেতে-আসতে চার ক্লোশ পথ । সেযেখানে যাবি হোটে পড়তে ? সবজিয়া কথাটা তখনকার মত উড়াইয়া দিল বটে, কিন্তু ছেলের মাখে। কয়েকদিন ধরিয়া বার বার কথাটা শনিয়া সে শেষে বিরাপ্ত হইযা বলিল, যা খাঁশি করো। বাপ, আমি জানি নে ! তোমরা কোনো কালে কারার কথা, তো শনলে না ? শািনবেও না-সেই একজন নিজের খৈয়ালে সারাজন্ম কাটিয়ে ট্রাল, তোমারও তো সে ধারা বজায় রাখা চাই ! ইস্কুলে পড়বো ! ইসকুলে পড়বি তো এদিকে কি হবে ? দিব্যি একটা যাহোক, দাঁড়াবার পথ। তব হয়ে আসছে-এখন তুমি দাও ছেড়ে-তারপর ইদিকেও যাক, ওদিকেও যাক - vr মায়ের কথায় সে চুপ করিয়া গেল । চক্রবর্তী মহাশয় গত পৌষ মাসে কাশী R