প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“অপরাজিত RON তেম্পদ ও চিরঞ্জীগাছের পাতাগলি এক এক জায়গায় ঘন কালো দেখাইতেছে, বনের মধ্যে শিয়ালের দল ডাকিয়া উঠিয়া প্রহর ঘোষণা করিল। কোথায় রেল, মোটর, এরোপ্লেন, ট্ৰেড-ইউনিয়ন ? *ওঝাজীর भtध আরণ্যকাণ্ডের শ্লোক শনিতে শনিতে সে যেন অনেক দারের এক সপ্রাচীন জাতির অতীত সভ্যতা ও সংস্কৃতির মধ্যে পড়িল একেবারে । অতীতের গিরিতরঙ্গিণীতীরবতী তপোবন, হােমধর্মপবিত্র গোধলির আকাশতলে বিস্তুত অগ্নিশালা, প্রাগভান্ড, অজিন, কুশ, সমিধা, জলকলস, চীর ও কৃষ্ণাজিন পরিহিত সজপা মনিগণের বেদপাঠধবনি-শান্ত গিরিসান ‘‘বনজ ফুসীমের সিগন্ধ••• গোদাবরীতটে পন্নাগ নাগকেশরের বনে পপ-আহরণরতা সমখী আশ্রমবালকগণ-কৃশাঙ্গী রাজবধ গণ***ক্ষীণজ্যোৎস্নায় নদীজািল আলো হইয়া উঠিয়াছে, তীরে স্থলবেতাসের বনে ময়র ডাকিতেছে--- সে যেন পািট দেখিল, এই নিবিড় অজানা অরণ্যানীর মধ্য দিয়া নিভীক, কিবাটবক্ষ, ধনীলপাণি প্রাচীন রাজপত্ৰগণ সকল বিপদকে অতিক্ৰম করিয়া চলিয়াছেন। দরে নীল মেঘের মত পরিদশ্যমান ময়র-নিনাদিত ঘন বন, দাগম পথের নানা স্থানে শব্যাপদ রক্ষসে পাণ খন্দ, গাঁহা, গহবর, মহাগজ ও মহাব্যাঘ দ্বারা অধ্যুষিত-অজানা মাতুত্যুসংস্কুল-চারিধারে পর্বতরাজির ধাতুরঞ্জিত শঙ্গসকল আকাশে মাথা তুলিয়া দাঁড়াইয়া আছে।--কুন্দগলো, সিন্দবার, শিরীষ, অজান, শাল, নীপ, বেতস, তিনিশ ও তমাল তরতে শ্যামায়মান গিরিসান--- শরদ্বারা বিন্ধ রচার ও পাষত মািগ আগনে ঝলসাইয়া খাওয়া, বিশাল ইঙ্গাব্দী তরািমলে সতক রাত্রি যাপন••• ওঝাজী উৎসাহ পাইয়া অপকে একটা পাটলি খালিয়া একরাশ সংস্কৃত কবিতা দেখাইলেন, গবের সহিত বলিলেন, বাবাজী, ছেলেবেলা থেকেই সংস্কৃত কবিতায় আমার হাত আছে, একবার কাশী-নরেশের সভায় আমার গরদেব ঈশবরশরণ আমায় নিয়ে যান ৷ একজোড়া দোশালা বিদায় পেয়েছিলাম, এখনও আছে। ত্রিশ-পয়ত্ৰিশ বছর আগেকার কথা।--তারপর তিনি অনেকগলি **বিতা শনাইলেন, বিভিন্ন ছন্দের সৌন্দর্য ও তাঁহাতে তাঁহার রচিত শ্লোকের কৃতিত্ব সকল উৎসাহে বণনা করিলেন । এই ত্ৰিশ বৎসর ধরিয়া ওঝাজী বহ কবিতা লিখিয়াছেন, ও এখনও লেখেন, সবগলি সযত্নে সঞ্চয় করিয়া রাখিয়াও দিয়াছেন, একটিও নন্ট হইতে দেন নাই, তাহাও জানাইলেন । একটি অদ্ভুত ধরণের দঃখ ও বিষাদ অপাের হৃদয় অধিকার করিল। কত কথা মনে আসিল, তাহার বাবা এই রকম গান ও পাঁচালি লিখিতেন তাহার ছেলেবেলায়। কোথায় গেল সে সব ? যােগ যে বদল হইয়া যাইতেছে, ইহারা তাহা ধরিতে পারে না । ওঝাজীর এত আগ্রহের সহিত লেখা কবিতা কে পড়িবে ? কে আজকাল ইহার আদর করিবে ? কোন আশা ইহাতে পরিবে: ওঝাজীর ? অথচ কত ঐকান্তিক আগ্রহ ও আনন্দ ইহাদের পিছনে আছে । চাঁপদানীর পোস্টাফিসে কুড়াইয়া পাওয়া সেই ছোট মেয়েটির নাম-ঠিকানা ভুল পত্ৰখানার মতই তাহা ব্যর্থ ও নিরর্থক হইয়া যাইবে ।