প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(8 অপরাজিত । এ আসিয়াছে তাহার বাবার নিকট হইতে উত্তরাধিকারসত্রে-বন্ধনমন্ত হইয়া ছটিয়া বাহির হওয়া, মন কি চায় না-বঝিয়াই তাহার পিছৰ পিছ দৌড়ানো, এ তাহার নিরীহ শান্তঃপ্রকৃতি ব্ৰাহ্মণপ"িডত পিতামহ রামহরি তকালঙ্কারের দান নয়। -যদিও সে তাঁর নিসিপািহ জ্ঞানপিপাসা ও অধ্যয়ন-প্রিয়তাকে লাভ করিয়াছে বটে। কে জানে পােব-পরিষ ঠ্যাঙাড়ে বীর রায়ের উচ্ছঙ্খল রক্ত কিছ আছে কি-না- তাই তাহার মনে হয় কি যেন একটা ঘটিবে, তাহারই প্রতীক্ষায় থাকে। অপর্বে গন্ধে-ভরা, বাতাসে, নবীন বসন্তের শ্যামল শ্ৰীতে, অস্তঃসংযোির রক্ত অ্যাভয় সে রোমান্সের বাতা যেন লেখা থাকে । অপরাজিত পঞ্চম পরিচ্ছেদ বাড়িতে অপর মায়ের সঙ্গে পরামর্শ করিল। কলিকাতায় যদি পড়িতে যায় মাকলারশিপ না পাইলে কি কোন সংবিধা হইবে ? সবজিয়া কখনও জীবনে কলিকাতা দেখে নাই-সে। কিছ জানে না । পড়া তো অনেক হইয়াছে আর, পড়ার দরকার কি ?-অপর মনে কলেজে পড়িবার ইচ্ছা খাব প্রবল। কলেজে পড়িলে মানষি বিদ্যার জাহাজ হয়। সবাই বলবোঁ কলেজের ছেলে । মাকে বলিল--না-যদি সংকলারশিপ পাই, তাই বা কি ? একরকম করে হয়ে যাবে-রমাপতিদা বলে, কত গরীবের ছেলে কলকাতায় পড়ােচ, গিয়ে একটু চেন্টা করলেই নাকি সংবিধা হয়ে যাবে, ও আমি করে নেবো মা কলিকাতায় যাইবার পর্বদিন রাত্রে আগ্রহে উত্তেজনায় তাহার ঘােম হইল না। মাথার মধ্যে যেন কেমন করে, বকের মধ্যেও । গলায় যেন কি আটকাইয়া গিয়াছে । সত্য সত্য সে কাল এমন সময় কলিকাতায় বসিয়া আছে ?• • • কলিকাতায় ! - ‘কলিকাতা সম্বন্ধে কত গলপ, কত কি সে শনিয়াছে। অতবড় শহর আর নাই । কত কি অদ্ভুত জিনিস দেখিবার আছে, বড় বড় লাইব্রেরী আছে সে শনিয়াছে বই চাহিলেই সেখানে বসিয়া পড়িতে দেয় । বিছানায় শাইয়া সারারাত্রি ছটফট করিতে লাগিল । বাড়ির পিছনের তেতুল গাছের ডালপালা অন্ধকারকে আরও ঘন করিয়াছে, ভোর আর কিছতেই হয় না । হয়ত তাহার কলিকাতা যাওয়া ঘটবে না, কলেজে পড়া ঘটিবে না, কত লোক হঠাৎ মারা গিয়াছে, এমনি হয়ত সেও মরিয়া যাইতে পারে । কলিকাতা না। দেখিয়া, কলেজে অন্তত কিছুদিন পড়ার আগে যেন সে না মরে -দোহাই ভগবান ! কলিকাতায় সে কাহাকেও চেনে না, কোথায় গিয়া উঠিবে ঠিক জানা নাই, পথঘাটও জানা নাই। মাসকতক আগে দেবব্রত তাহাকে নিজের এক মেসোেমশাইয়ের