পাতা:অবনীন্দ্র রচনাবলী প্রথম খণ্ড.djvu/২২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

হাতে ; ঠিক একটি ফুলদানির মতে ফরসি ছিল তার। আক্কেল সহিস তামাক সেজে ফরসি এনে হাতে দেয়, তবে সে তামাক খায়। সহিসর ছিল তার চাকর ; সব কাজ করে দিত, নিজের হাতে সে কিছু করত না। দূর থেকে দেখছি, সমশের আয়েস করে ফরসি হাতে খাটিয়ায় বসে তামাক খাচ্ছে, আঙ্কেল সহিস তার বাবরি চুল বাগাচ্ছে, ঘণ্টাখানেক ফাপিয়ে ফাপিয়ে চুল আঁচড়াবার পর একটি আয়না এনে সামনে ধরলে । সমশের বাদশাহী কায়দায় বঁ হাতে আয়নাটি ধরে মুখ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে গোফ মুচড়ে আয়ন ফেরত দিয়ে উঠল। ঘরে গিয়ে চুড়িদার জরিদার বুক-কাট কাবা পরে পা বের করে দিতে আর-একজন সহিস ভড়তোলা দিল্লির লপেটা তার পায়ে গুজে দিল । আর-এক সহিস মাথার শামলাটা দু হাতে এনে সামনে ধরল, সমশের পাগড়িটা মাথায় উপর থাবড়ে বসিয়ে হাতিমার্ক তকমার দিকটা উচু করে দিলে । জন্য সহিস ততক্ষণে লম্বী চাবুকটা নিয়ে এসে দাড়িয়েছে। সমশের চাবুক হাতে নিয়ে এবারে দোতল থেকে নামল মাটির সিড়ি দিয়ে। নীচে ঘোড় ঠিক করে রেখেছে সহিসরা—দুধের মতো শাদী জুড়ি । সেই জুড়িঘোড়া গাড়িতে জোতবার আগে খানিক ছুটিয়ে ঠিক করে নিতে হত। যেখানে রবিকার লালবাড়ি সে জায়গা জোড় ছিল গোল চক্কর প্রাচীরঘেরা। এক পাশে ছোট একটি ফটক। সহিসর ঘোড়া দুটাে চক্করে ঢুকিয়ে ফটক বন্ধ করে দিল । সমশের লম্বা চাবুক হাতে প্রাচারের উপর উঠে দাড়িয়ে বাতাসকে চাবুক লাগালে— শট। সেই শব্দ পেয়ে ঘোড়া দুটো কান খাড়া করে গোল চক্করে চক্কর দিতে শুরু করলে। একবার করে ঘোড় ঘুরে আসে আর চাবুকের শব্দ হয় শটু শট। যেন সার্কাস হচ্ছে । এইরকম আধ ঘণ্টা ঘুরিয়ে সমশের কোচোয়ান চাবুক আক্কেল সহিসের হাতে ছেড়ে দিয়ে নামল। আক্কেল গাড়ি বের করলে— ঝকৃঝকৃতকৃতকৃ করছে গাড়ির ঘোড়ার রুপো-পিতলের শিকলি-সাজ। গাড়িতে জুড়ি জোতা হলে পর সমশের কোঁচবাক্সে উঠে হাতা গুটিয়ে দাড়াতেই সহিস রাশ তুলে দিলে তার হাতে। রাশ ধরবার কায়দা কী ছিল সমশের কোচোয়ানের, দশ আঙ্গুলের ভিতরে কেমন-কায়দা করে ধরত। সেই রাশে একবার একটু টান দিতেই বড়ে বড়ো দুটো ঘোড়া তড়বড় করে এসে গাড়িবারান্দায় ঢুকল। গাড়িবারান্দায় ঢুকতেই যে পুরু কাঠের পাট পাত থাকত সেটা শব্দ দিলে একবার হুডুছম্। যেন জানান দিলে গাড়ি হাজির ৷ বাবামশায় হাওয়া খাবার জন্য তৈরি হয়ে গাড়িতে 3 е