পাতা:অভিমানিনী.djvu/১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

So অভিমানিনী তুলসীর মা আবার সন্ধান লাইতে গেল। শীঘ্রই ফিরিয়া আসিয়া বলিল, “ঘোষজা মশায়ের শ্বশুরের ভারি ব্যারাম। তিনি আফিস। থেকেই শ্বশুরবাড়ী চলে গেছেন। বাড়ীতে আর কেউ নেই। রামা চাকরি আমার খবর দিলে ।” মাধুরী উৎকণ্ঠায় অধীর হইয়া উঠিল। বলি নি “কি হবে তুলসীর মা ! তবে কার কাছে খবর পাব ?” তুলসী বলিল, “তুমি অত ব্যস্ত হচ্ছি কেন দিদি ঠাকরুণ। বাড়ী চল । আমিও তোমার সঙ্গে যাচ্ছি। বাবু কোনও কাঙ্গে আসতে পারেন নি। রেলে করে রাত্রিতে নিশ্চয়ই আসবেন । ভয় কি ?” মাধুরী তুলসীকে লইয়া গৃহে ফিরিয়া আসিল বটে, কিন্তু তাহার মন বুঝিল না । স্বামীর অপেক্ষায় প্রদীপ জ্বালিয়া বসিয়া রহিল । তুলসী আঁচল পাতিয়া শুইয়া দুই একটি কথা কহিতে কহিতে শীঘ্রই ঘুমাইয়া পড়িল । অনেক রাত্রি হইয়া গেল। ঝিক্কি পোকার অবিরাম ঝিল্পীরব শ্রত চাইতে লাগিল। মাঝে মাঝে দুই একটি শৃগাল ও ডাকিয়া উঠিতেছিল। রেলগাড়ীতে আসিবার সময় বহুক্ষণ অতীত হইয়া গিয়াছে। বসিয়া বসিয়া মাধুরীর উৎকণ্ঠা আশঙ্কায় পরিণত চাইল। কই, এত দেৱী ত তার কখন চয় নাই। তবে কি ঠিার কোন ও বিপদ হইয়াছে ? পরদিন সকালেই মাধুরী পিতাকে সংবাদ দিবে স্থির করিল। মনে মনে ঠাকুর দেবতার নিকট মানসিক করিতে লাগিল-“হে ঠাকুর । আমার স্বামীকে ভালয় ভালয় আনিসু দাও।” সে রাত্রিতে মাধুরী অদ্ভুক্ত রহিল। রাত্রি যখন তিনটা, তখনও তাহার চক্ষে নিদ্রা নাই । দুই একবার চেষ্টা করিয়াছিল বটে, কিন্তু নিদ্রা আসে না । শেষে জানালা খুলিয়া গঙ্গার দিকে চাহিয়া রহিল।