পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া V কথা কওয়া হ’ল না ? আচ্ছা-বলিয়া অতুল মেয়েটির ভিজা এলাচুলের একগোছা, টানিয়া দিয়া বলিল, কিন্তু আসচে। হরি চক্কোত্তির মতন একটা বুড়ে-চললুম, বলিয়া হাসিতে হাসিতে ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল। কিন্তু উঠানে পা দিয়াই চোইয়া উঠিল, মেজমাসিম, জ্ঞানের জন্যে বোম্বাই থেকে মা একজোড়া চুড়ি কিনেছিলেন, বাইরে car (72 কৈ, দেখি বাবা-বলিয়া দুর্গামণি পুনরায় রন্ধনশালা হইতে বাহির হইলেন ; অতুল পকেট হইতে দু’গাছি চুড়ি বাহির করিয়া মেলিয়া क्षव्लि । তাহার রঙ এবং কারুকার্য দেখিয়া দুর্গামণি অত্যন্ত পুলকিতচিত্তে দাতার ভূয়ােভূয়ঃ যশোগান করিতে লাগিলেন। চুড়ি দু-গাছি কঁচের বটে, কিন্তু সেরূপ মূল্যবান বাহারে চুড়ি পাড়াগাঁয়ে কেন, কলিকাতাতেও তখনো আমদানি হয় নাই । বস্তুতঃ তাহার গঠন, চাকচিক্য এবং সৌন্দৰ্য দেখিয়া মায়ের নাম করিয়া অতুল নিজের টাকাতেই বোম্বাই হইতে ক্ৰয় করিয়া আনিয়াছিল। মায়ের ডাকাডাকিতে জ্ঞানদা বাহির হইয়া আসিল এবং নিঃশব্দ নতমুখে স্নেহের এই প্রথম উপহার হাত পাতিয়া গ্ৰহণ করিতে গিয়া, তাহার অঞ্জলিবদ্ধ হাত দুটি কঁাপিয়া গেল। তার পরে দাতার পায়ের কাছে নমস্কার করিয়া সে ধীরে ধীরে প্রস্থান করিল। সে একটি কথাও কহে নাই-কিন্তু আজ তাহার অন্তরের কথা অন্তৰ্য্যামী জানিলেন । শুধু পিছনে দাড়াইয়া এই দুটি মানুষ ক্ষণকালের জন্য সস্নেহ-মুগ্ধ-নেত্ৰে এই কিশোরীর অনিন্দ্য গঠন ও গতিভঙ্গীর প্রতি চাহিয়া রহিলেন ।