পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া পারবেন না—একটুখানি বাইরে গিয়ে বসলেই আমার যা বলবার বলতে পারি । নীলকণ্ঠ চটিয়া উঠিয়া বলিলেন, নিরর্থক কি হে! প্ৰতিবেশীর বিপদে প্রতিবেশীই এসে থাকে। তুমি কোন সার্থক উপকার করতে বিছানায় গিয়ে বসেচ বাপু ? অতুল উঠিয়া দাড়াইয়া দৃঢ়স্বরে কহিল, আমি উপকার করি না করি, আপনাদের এমন করে বাতাস তাটকে অপকার করতে দেব না। সবাই বাইরে যান। তাহার ভাব দেখিয়া নীলকণ্ঠ দু-পা পিছাইয়া দাড়াইয়া কহিলেন, সেদিনকার ছোকরা-তোমার তা বড় আস্পর্ধা দেখি হে ! কে একজন তাহার আড়ালে দাড়াইয়া কহিল, এল. এ. বি. এ. পাশ করেচে কিনা ! একটা দশ-বার বছরের ছোড়া উকি মারিতেছিল। অতুল কাহারও কথার কোন জবাব না দিয়া তাহাকে ঠেলিয়া দিল । সে গিয়া আর একজনের গায়ে পড়িল। যাহার গায়ে পড়িল, সে অক্ষুটস্বরে সদর তালার ব্যাটা প্ৰভৃতি বলিতে বলিতে বাহিরে চলিয়া গেল । নীলকণ্ঠ প্ৰভৃতি ভদ্রলোক অতুলের কথাটা শুনিবার বিশেষ কোন আশা না দেখিয়া, মনে মনে শাসাইয়া প্ৰস্থান করিলেন । যখন বাহিরের লোক আর কেহ রহিল না, তখন অতুল মুমূর্ষুর মুখের উপর ঝুকিয়া পড়িয়া ডাকিল, মেসোেমশাই! প্রিয়নাথ রক্তবর্ণ চক্ষু মেলিয়া মূঢ়ের মত চাহিয়া রহিলেন। অতুল পুনরায় উচ্চকণ্ঠে কহিল, আমাকে চিনতে পাচ্চেন কি ? প্রিয়নাথ চক্ষু মুদিয়া অফুটে বলিলেন, অতুল। এখন কেমন আছেন ? প্রিয়নাথ মাথা নাড়িয়া তেমনি অক্ষুট-স্বরে বলিলেন, ভাল না। অতুলের দুই চক্ষু জলে ভরিয়া গেল। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলাইয়া লইয়া অশ্রদ্রুদ্ধ-কণ্ঠ পরিষ্কার করিয়া কহিল, মেসোেমশাই,