পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া S a একটা কথা আপনাকে জানাচি । আপনি নিশ্চিন্ত হোন-আজি থেকে জ্ঞানদার ভার আমি নিলুম। প্রিয়নাথ কথাটা বুঝিতে পারিলেন না। এদিকে-ওদিকে দৃষ্টিপাত করিয়া বলিলেন, কই জ্ঞানদা ? দুর্গামণি স্বামীর মুখের উপর ঝুকিয়া পড়িয়া অশ্রুবিকৃত রোদনের কণ্ঠে বলিলেন, একবার দেখবে জ্ঞানদাকে ? প্রিয়নাথ প্রথমটা জবাব দিলেন না-শেষে বলিলেন, না । দুর্গামণি কঁদিয়া ফেলিয়া বলিলেন, অতুল কি বলচে, শুনেচ ? সে তোমার জ্ঞানদার ভার নিতে এসেছে । আর তুমি ভেবে নাহতভাগীকে অনেক গালমন্দ করেচ ; আজ একবার ডেকে আশীবাদ করে যাও । প্রিয়নাথ চুপ করিয়া চাহিয়া রহিলেন। দুর্গামণি আবার সেই কথা আবৃত্তি করার পর, তঁহার চোখ দিয়া দু'ফোটা জল গড়াইয়া পড়িল। অক্ষম হাতখানি অনেক কষ্ট তুলিয়া অতুলের কপালে একবার স্পর্শ করাইয়া পাশ ফিরিয়া শুইলেন। তঁহার মুখ দিয়া কোন কথাই বাহির হইল না বটে, কিন্তু এই আসন্নকালে তঁহার হৃদয়ের একটা অতি গুরুভার নিঃসংশয়ে তুলিয়া ফেলিতে পারিয়াছে অন্যভব করিয়া, অতুল অকস্মাৎ বালকের মত উদ্ধৃসিত হইয়া কঁাদিয়া ফেলিল । সাক্ষী রহিলেন- দুর্গামণি আর ভগবান । পরদিন সায়াহ্নকালে, শতকরা আশীজন ভদ্র-বাঙ্গালী যাহা করে প্রিয়নাথও তাঁহাই করিলেন। অফিসের ত্ৰিশ টাকা চাকুরীর মায়া কাটাইয়া, ছাব্বিশ বৎসরের বিধবা ও তেরো বৎসরের অনুঢ়া কন্যার বোঝা তদপেক্ষা কোন এক দুৰ্ভাগ্য আত্মীয়ের মাথায় তুলিয়া দিয়া, বত্রিশ বৎসর বয়সে প্রায় বিনা চিকিৎসায় আশী বৎসরের সমতুল্য একটা জীৰ্ণ কঙ্কালসার দেহ তুলসীবেদীমূলে পরিত্যাগ করিয়া, গঙ্গা নারায়ণ-ব্ৰহ্ম নাম শুনিতে শুনিতে বােধ করি বা হিন্দুর বিষ্ণুলোকেই গেলেন।