পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


§6ť অবক্ষণীয়া দুৰ্গা আর নিরর্থক প্রতিবাদ না করিয়া-কাজ আছে, বলিয়া উঠিয়া গেলেন। ক্রমশঃ প্ৰকাশ পাইল, এই সুপাত্ৰিটি শাস্তুবই। এ-পক্ষেৰ বড় শ্যালক। স্ত্রীর মৃত্যু ঘটায়, প্ৰায় ছয় মাস যাবৎ বেকাব অবস্থায আছেন।--আর বেশিদিন থাকা কেহই সঙ্গত মনে করে না । বিশেষতঃ ঘরে অনেকগুলি কাচ্চা-বাচ্চা থাকায় একটি ডাগর মেয়ে নিতান্তই আবশ্যক হইয়া পড়িয়াছে। সেইজন্যই বোধ করি দুর্গা বারংবার অস্বীকাব কবি। সত্ত্বেও এই সুপাত্রিটি একদিন সহসা আবির্ভূত হইয়া সম্মুখেই জ্ঞানদাকে দেখিতে পাইলেন এবং বলা বাহুল্য যে, পছন্দ করিয়াই ফিবিয়া গেলেন তানতিকাল মধ্যেই ভগিনীর প্রতি শাস্তুনাথের স্নেহের অনুবোধ কঠোব নির্যাতনেব আকাব ধরিয়া দাড়াইল। একদিন তিনি স্পষ্টই জানাইয়। দিলেন যে, প্রিয়নাথের অবর্তমানে তিনিই এখন ভাগিনেয়ীর যথার্থ অভিভাবক। সুতৰাং আবশ্যক হইলে এই সামনেৰ অস্ত্ৰানই তিনি জেব করিয়া বিবাহ দিবেন। দাদার সঙ্গে বাদানুবাদ করিয়া, দুর্গা ঘরে ঢুকিয়া মেয়েব পানে চাহিয়াই বুঝিতে পারিলেন, সে সমস্ত শুনিয়াছে। তাহার দুই চক্ষু ফুলিয়া রাঙা হইয়া উঠিয়াছে। তাঁহাকে বুকে টানিয়া লইয়া বলিলেন, আমি বেঁচে থাকতে ভয় কি মা ! মুখে অভয় দিলেন বটে, কিন্তু ভয়ে তাহার নিজের বুকের অন্তঃস্থল পর্যন্ত শুকাইয়া কাঠ হইয়া গিয়াছিল । এসব দেশে এরূপ জোর করিয়া বিবাহ দেওয়া যে একটা সচরাচর ঘটনা, তাহা তঁহার অজ্ঞাত ছিল না। মায়ের বুকে মুখ লুকাইয়া মেয়ে উচ্ছসিত হইয়া কঁাদিতে লাগিল। মা তাহার কপালে বুকে হাত দিয়া দেখিলেন, জ্বরে গা ফাটিয়া যাইতেছে। চােখ মুছাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, কখন জ্বর হল মা ? কাল রাত্তির থেকে । আমাকে জানাসনি কেন ? আজকাল যে ভয়ানক ম্যালেরিয়ার সময়।