পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


లిy অরক্ষণীয়া আসতেও পারে। তিন-তিনখানা চিঠির জবাব দেবে না-আমার অতুল ত তেমন ছেলে নয় ! দাশু বৃথা পরিশ্রম না করিয়া কহিল, না দিদি, নেই-এলেই পাবে। -বলিয়া যাইতে উদ্যত হইলে, দুৰ্গা বাধা দিয়া বলিলেন, হাঁ দাশু, এমনও ত হতে পারে-তোমাদের পোস্টাফিসেই পড়েআছে-পোস্টমাস্টার আমাদের নাম জানে না । হয়ত বা টেবিলের তলায় ঘেঁজে ঘাজে কোথাও পড়ে গেছে, তোমরা কেউ দেখতে পা ওনি। আমাকে ত এখানে সবাই জানে, আমি নিজে গিয়ে কি একবার খুজতে পারিনে ? ব্যাকুলত দেখিয়া দাশু সদয়-চিত্তে কহিল, কেন পারবে না দিদিঠাকরুণ - কিন্তু সে মিছে খোজা হবে । আচ্ছা, আমিই গিয়ে আজ একবার খুজে দেখব। যদি পাই, দিয়ে যাবে।-বলিয়া সে আর সময় নষ্ট না করিয়া চলিয়া গেল । দুৰ্গা ঠাকুর-দেবতার চরণে বিশ্বের ঐশ্বর্য মানত করিতে করিতে চলিলেন-হে মা দুর্গা, হে মা কালী, একখানি চিঠিও যেন খুজে পাওয়া যায়। জ্ঞানদার এতবড় অসুখ শুনিয়াও সে উত্তর লিখিবে না-এ কি কোনমতেই বিশ্বাস করা যায় ? সে নিশ্চয় লিখিয়াছে, কিন্তু কোথাও গোলমাল হইয়া গিয়াছে। হায় রে মানুষের আশা ! শতকোটী সম্ভব-অসম্ভব জল্পনা-কল্পনার মধ্যে একথাটা একবারও দুর্গার মনে উদয় হইল না যে, ইতিমধ্যে অতুলের মনের গতি বদলাইয়া যাইতেও পারে। একবারও ভাবিলেন না - অতুলের যে-কামনা একদিন একান্ত সঙ্গোপনে সম্পূর্ণ আবরণের অন্তরে, শুধু নির্বিবাদে বাড়িয়া উঠিতে পাইয়াছিল, তাহাকে এমন অসময়ে এতবড় অনাবৃত প্ৰকাশ্যতার মাঝখানে টানিয়া আনিলে, সে চক্ষের পলকে শুকাইয়া যাইতে পারে। এখন শত বিরুদ্ধ-শক্তি সজাগ হইয় তাহাকে মুহুর্তের মধ্যে চাপিয়া মারিতে পারে। মানুষ এমনিই অন্ধ!