পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


vyr অরক্ষণীয়া পানে চাহিয়া তাহার মায়ের প্রাণ যেন শতধা বিদীর্ণ হইয়া গেল । কাছে বসিয়া তাহার মাথায় মুখে হাত বুলাইয়া দিয়া, একটি একটি করিয়া রোগের কথা শুনিয়া নিঃশ্বাস ফেলিয়া কহিল, কেন তবে তখখুনি চলে এলিনে মা ! আমি ত তোদের আসতে মানা করিনি । মেজদি কোথায় ? মারি গাড়িতেই জ্বর এসেছিল-ঘরে শুইয়ে দিয়েছি। স্বৰ্ণ কহিলেন, হবে না ? আমি হাজার হই। বড়জা ত । অত তেজ করে চলে গেলে কি সয় ? ছোটবৌ জ্ঞানদার হাত ধরিয়া তাহার মাকে দেখিবার জন্য উঠিয়া দাড়াইয়াছিল, বড়ুজায়ের এই নিতান্ত গায়ে-পড়া কটু কথাগুলো আজি তাহার এতই বিশ্ৰী লাগিল যে সে সহিতে পারিল না ; কহিল দিদি, বছর-দুই মধু-সংক্রান্তির ব্ৰত ক’রো-আর-জন্মে মুখখানা যদি একটু ७ाव्न श्शू । স্বর্ণ এই অপ্ৰত্যাশিত মন্তব্যে ক্ৰোধে বিস্ময়ে হঠাৎ অবাক হইয়া গেলেন। কিন্তু পরীক্ষণেই তীব্রম্বরে গর্জিয়া উঠিলেন, তবু ভাল লো ছোটবৌ, তবু ভাল। এতকাল পরেও যা হোক মেজ-জাকে দেখে শোকটা উথলে উঠেচে। মাইরি, কত ঢঙই তুই জানিস ! ছোটবেী জবাব দিল না। জ্ঞানদার হাত ধরিয়া ও-বাড়ি চলিয়া গেল। কিন্তু সে যাওয়া জ্ঞানদার পক্ষে একেবারে মারাত্মক হইয়া উঠিল। কারণ, তাহার ও তাহার মাতার বিরুদ্ধে স্বর্ণমঞ্জরীর এমনই ত বিদ্বেষের অবধি ছিল না, কিন্তু ছোটবৌয়ের ব্যবহারে আজিকার বিদ্বেষ তাহাকেও অতিক্ৰম করিয়া গেল । হরিপালে থাকিতে দুৰ্গা জ্বর আসিলে শুইয়া পড়িতেন, ছাড়িলে উঠিয়া নড়াচড়া করিতেন। সাধ্যে কুলাইলে স্নান-আহ্নিক করিয়া একবেলা একমুঠ ভাতও খাইতেন। কিন্তু এখানে আসিয়া আর এক প্রকার ঘটিল। পাড়ার মেয়েরা অহোরাত্ৰ সহানুভূতি করিয়া দু-পাঁচ