পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 অরক্ষণীয়া আচ্ছা, বলব। বলিয়া, দুর্গ নিঃশ্বাস ফেলিয়া পুনরায় দেওয়ালের দিকে মুখ ফিরাইয়া শুইলেন। এমনি করিয়া কত লোক যে কত হিতোপদেশ দিয়া গেল, তাহার সংখ্যা রহিল না। কিন্তু যাহাঁদের পথ চাহিয়া দুৰ্গা অনুক্ষণ কান খাড়া করিয়া রহিলেন, তাহারা দেখা দিল না। না আসিল অতুল, না আসিল তাহার মা । ছোটবৌয়ের দেহে দয়া-মায়া ছিল ; কিন্তু সে ভারি অলস, তাহাতে অন্তঃসত্ত্বা । সুতরাং স্বর্ণ জ্ঞানদাকে ডাকিয়া যখন বলিলেন, বাছা, রোগ বলে ত আর চিরকাল চলে না। তোমার মা যেন ধরলুম পারে না, কিন্তু তুমি বাপু সোমািত্ত মেয়ে- সকালে কাকার ভাত দুটি কি আর রোধে দিতে পার না ? ঘরের ভিতর হইতে ছোটবেী কথাটা অন্যায় বুঝিয়াও চুপ করিয়া রহিল। পরের দুঃখে সে ব্যথা অনুভব করিত ; কিন্তু তাই বলিয়া নিজের পরিশ্রম দিয়া সে দুঃখ দূর করা তাহার পক্ষে অসাধ্য। জ্ঞানদা তৎক্ষণাৎ রাজী হইয়া মৃদুকণ্ঠে বলিল, আমিই দেব জ্যাঠাইমা । যদিচ এখনও প্ৰতিরাত্রেই তাহার জ্বর হইত, কিন্তু মায়ের যন্ত্রণা বাড়াইবার ভয়ে একথা সে প্ৰাণপণে গোপন করিয়া রাখিয়াছিল । ফোপরা নিজীব দেহটাকে সে সকালে বিছানা হইতে যেন টানিয়া তুলিতেই পারিত না ; তথাপি একবার ইতস্ততঃ করিল না- একটিবার মুখভার করিল না । দুঃখী পিতামাতার কন্যা হইলেও সে একমাত্ৰ সন্তান ; তাহদের বড় আদরে যত্নে লালিত-পালিত হইয়াছিল। কিন্তু ছেলেবেলা হইতেই গুরুজনের আজ্ঞা-ন্যায়-অন্যায় যাই হোক-নিবিচারে মাথা পাতিয়া লাইতে, সেবা করিতে, মুখ বুজিয়া সহ্য করিতে, সংসারে বোধ করি আর তাহার জুড়ি ছিল না। কিন্তু আজ সে যে কত বড় গুরুভার মাথায় করিয়া লইল, তাহা আর কেহ না বুকুক, ছােটবোঁ বুবিল। সুতরাং