পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


У о অরক্ষণীয়া যা করতে বলবে, আমি তাই করব। শুধু এইটুকু দেখো দিদি, ও আমার না একেবারে অকুলে ভেসে যায়। না না, ভেসে যাবে কেন মেজবৌ ? বাপ-খুড়ো, ম-জ্যাঠাই কি ভিন্ন ? তা যদি হবে আমরাই বা কেন ওর জন্যে ভেবে ভেবে আহারনিদ্ৰা ত্যাগ করব বল ? আমার জ্ঞানদাও যা, মাধুরীও সেই পদার্থ। দে না মা জ্ঞানদা, তোর মায়ের চোখ দুটো মুছিয়ে । মাথায় একটি পাখা কর মা বসে ।-বলিয়া একাধারে আশা ও ভরসা দিয়া তিনি বাহির হইয়া গেলেন । আজ বহুদিনের পর দুর্গার মৃত্যুমলিন মুখের উপর একটা আনন্দের দীপ্তি দেখা দিল । মেয়ের হাত হইতে পাখাটা টানিয়া লইয়া নিজেব শীর্ণ হাতখানি তাহার মাথায় মুখে বুলাইয়া স্নিগ্ধকণ্ঠে কহিলেন, এইখানে শুয়ে একটু ঘুমো দিকি মা । বলিয়া, জোর করিয়া নিজের বুকেব কাছে টানিয়া লইয়া বলিতে লাগিলেন, এমন পোড়াকপালীর পেটে তুই জন্মছিলি মা, যে এই বয়সেই খেটে খেটে, আর ভেবে ভেবে শরীর পাত করলি । যদি জন্মই নিয়েছিলি, ছেলে হয়ে কেন জন্মাসনি মা ! অনেকদিন পর জননীর আদর পাইয়া মেয়ের দুই চােখ দিয়া নীরবে: স্প্য শ্রু বারিয়া পড়িতে লাগিল । কিছুক্ষণের জন্য উভয়েই বোধ করি একটুখানি ঘুমাইয়া পড়িয়াছিলেন, হঠাৎ মায়ের ঠেলা খাইয়া জ্ঞানদা শশব্যাস্তে উঠিয়া বসিল । ও মা, ওঠ ওঠ, বেলা যে আর নেই। কুমার টিনের বাক্সটার মধ্যে বোধ করি একটুখানি সাবান আছে—যা দিকি মা, চট করে পুকুর থেকে মুখ-হাত-পা ধুয়ে আয় । না বাছা, ঐ তোর বড় দোষ-তুই কথা শুনতে চাসনে । বলাচি, যা শিগগির । মাতার নির্দেশমত জ্ঞানদা টিনের বাক্স খুলিয়া বহুদিন পূর্বের এক টুকরা সাবান বাহির করিয়া গামছা লইয়া স্নানমুখে পুকুরে চলিয়া গেল।