পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


93 অরক্ষণীয়া তঁহার ভালবাসার অবধি ছিল না, সেই মেয়েকেই দেখিলে জলিয়া উঠিতেছিলেন। আজ এই সংবাদ শোনার পর তঁহার পরলোকের কঁাটা এই মেয়েটার বিরুদ্ধে তাহার সমস্ত চিত্ত একেবারে পাষাণের মত কঠিন হইয়া গেল। মায়া-মমতার আর লেশমাত্র তথায় অবশিষ্ট अश्लि मां । অনাথকে ডাকাইয়া আনিয়া কহিলেন, ঠাকুরপো, শুনচি নাকি ও-পাড়ার ঐ যে গোপাল ভট্টচায্যি, না কে, সে বুঝি আবার বিয়ে করবে। আমার মরবার আগে একবার শেষ চেষ্টা করে দেখবে না ঠাকুরপো ? অনাথ কথাটা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস করিয়া উড়াইয়া দিয়া কহিল, না না, গোপাল ভট্টচায্যি আবার বিয়ে করবে কি ! কে তোমার সঙ্গে তামাশা করেচে। বৌঠান ? দুৰ্গা নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, আমার সঙ্গে আর তামাশা করবে: কে ঠাকুরপো ? তিনি পুরুষমানুষ ব্যাটাছেলে, তঁদের আবার বয়সের খোজ কে করে ? না না, ও-বয়সে অনেকে বিয়ে করে ঠাকুরপো। আমি মিনতি করচি, একবার গিয়ে তঁর সন্ধান নাও, বেঁচে থেকে তি কিছুই পেলাম না, মরণের পরে একটু আগুনও কি পাব না ? এখন ইহাই হইয়াছে তঁহার সকল আশঙ্কার বড় আশঙ্কা। তঁহাঃ কেবলই মনে হইতেছে এই যে, মেয়ে পেটে ধরা, এত দুঃখে লালন-পালন করা, শেষ মুহুর্তে সমস্তই কি একেবারে নিস্ফল হইয়া যাইবে ? যাহার হ’তর আগুন পাইবার জো নাই, সে মেয়ে কেন জন্মিয়ছিল ? উদ্বেগ প্ৰায় উঠিয়া বসিয়া কহিলেন, ঠাকুরপো, যেখানে হোক, যার হাতে হোক, আমি বেঁচে থাকতে ওকে সঁপে দাও । আমি বলচি, আমার এই শেষ আশীৰ্বাদে তুমি রাজা হবে ঠাকুরপো। ঠাকুরপোর নিজের গরজও এ-বিষয়ে কম নয়। সে সেইদিনই গোপাল ভট্ৰচায্যির খোজ লাইতে গেল এবং কথাটা সত্য শুনিয়া খানিকক্ষণ স্তম্ভিত হইয়া রহিল। শুধু সত্য বলিয়াই নয়-ইহারই মধে