পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


፪9 অরক্ষণীয়া বাড়াবাড়ি । আচ্ছা, মেয়ে কি আর কারু হয় না যে, তোমারই শুধু একটা হয়েছে-আর রাজ্যের দুর্ভাবনা একা তোমার ? দুর্গামণি কহিলেন, আমার এটা ঠিক ভাবনা নয় অতুল, এ আমাদের মৃত্যু-যন্ত্রণা। সমাজকে আমি জানি ত! মেয়ের বিয়ে দিতে না। পারলেই জাত যাবে ; কিন্তু দেব কি করে ? টাকা চাই-কিন্তু পাব কোথায় ? এই ভদ্রাসনের একাংশ ছাড়া আপনার বলতে ত আর কিছু নেই বাবা ! আধা ঘণ্টা পূর্বে এই মেয়েটাকেই উপলক্ষ করিয়া স্বামী-স্ত্রীতে কলহ হইয়া গিয়াছিল। স্বামী অর্ধভুক্ত ভাতের থালা ফেলিয়া রাখিয়া অফিসে চলিয়া গিয়াছিলেন। সেই ব্যথা দুর্গামণির মনে আলোড়িত হইয়া উঠিল, এবং টপটপ করিয়া দুফোটা চোখের জল গাল বাহিয়া কোলের উপর ঝরিয়া পড়িল। হাত দিয়া মুছিয়া ফেলিয়া বলিলেন, আর জন্মে কত স্ত্রী-হত্যা, ব্ৰহ্ম-হত্যা করেছিলুম অতুল, যে, এ জন্মে মেয়ে পেটে ধরেচি । নাঃ-মেজমাসিম, আমি উঠলুম, নইলে তুমি থামবে না। দুর্গামণি আর একবার চোখ মুছিয়া লইয়া কহিলেন, না বাবা, একটু বোস, দু’দণ্ড তোর কাছে কঁদিলেও বুকটা হাল্কা হয়। তাই বলি, ভগবান ! হতভাগীকে আমার কোলেই যদি পাঠালে, রংটা একটু ফর্সা করেই পাঠালে না কেন ? কালো বলে কেউ যে ওকে আশ্রয় দিতেই চায় না । সবাই যে চায় সুন্দরী মেয়ে। ওরে পোড়া সমাজ, তুই কুল, শীল, স্বভাব, চরিত্র কিছুই যদি দেখবিনে, মেয়ে শুধু কালো বলেই তাকে ঘরে ঠাই দিবিনে, তবে সে মেয়ের বিয়ে না হলেই বা বাপ-মাকে দণ্ড দিবি কেন ? অতুল কহিল, কালো মেয়ের কি বিয়ে হচ্ছে না ? ভোমরাও কালো, কোকিলও কালো-তাদের কি আদব হয় না ? এ-সব ত চিরকালের দৃষ্টান্ত— মেজমাসিমা !