পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


M8 অশনি-সংকেত --তোমার বাড়ী চাল আছে সম্প্রধান পেয়ে এসেচি। দিতেই হবে কিছ । না খেয়ে মরচি, একেবারে । গহস্বামী কিছুক্ষণ গম হয়ে থেকে বললে-আপনাকে বলেচে কে ? -আমাদের গ্রামেই শানেচি। -বাবাঠাকুর, চাল আমার আছে, মিথ্যে কথা বলবো না। আপনি দেবতা। কিন্তু সে চাল বিক্লিক করবার নয় । -কত আছে বলবে -তিন মণ। নকিয়ে রেখেছিলাম, যেদিন গাবণ মেন্টের লোক আসে কার ঘরে কত চাল আছে দেখতে, সেদিন মাটির মধ্যে পতে রেখেছিলাম বলে চালগানো একটু গামো LBSS u uL0SS BBBB BBBSKEES ss BDBBD BB DBBDB S SDg DBB BDDYBDDBB BBBBS বাচ্চ নিয়ে ঘর করি, রাগ করবেন না, অভিসপাত দেবেন না বাবাঠাকুর । দিতি পারলি দিতাম । ওই কটা চাল ছাড়া আমার আর কোনো সম্পবল নেই । ব্রাহ্মণের পায়ে হাত দিয়ে বলচি । ঢাল পাওয়া গেল না। ফিরে আসবার পথে গঙ্গাচরণ চোখে অন্ধকার দেখলে। সাধ, কােপালীও সঙ্গে ছিল ওর। ক্লোশ দাই এসে ওদের বড় খিদে ও জলতেণ্টা পেলো। সাধ, বললে-পিন্ডিত মশাই, আর তো হাঁটা যায় না । --তাই তো দেখছি, কাছে কি গাঁ ? —চলন যাই, বামনডাঙা-শেরপর সামনে, তার পরে ঝিকরহাটি। বামনডাঙা-শেরপর গ্রামে ঢুকেই ওরা একটা বড় আটচালা ঘর দেখতে পেলে । সাধ, কােপালী বললে-চলন। এখানে । ওরা একটু জল তো দেবে। গহস্বামী জাতিতে সাদগোপ, ওদের যত্ন করে বসালে ; গাছ থেকে ডাব পেড়ে খেতে, দিলে। তারপর একটা বাটিতে খানিকটা আখের গড় নিয়ে এল, জল নিয়ে এল। বললে, -এবেলা এখানে দটাে রসই করে খেয়ে যেতে হবে । গঙ্গাচরণ আশ্চর্য হয়ে বললে-রসাই ? -হ্য বাবাঠাকুর। তবে চাল নেই । গঙ্গাচরণ আরও আশ্চর্য হয়ে বললে-তবে ? -বাবাঠাকুর চাল তো অনেকদিনই নেই গাঁয়ে । দিন দশেক থেকে কেউ ভাতের মািখ দেখে নি। এখানে । --তবে কি রসই করবো ? --বাবাঠাকুর বলতে লজ্জা করে, কলাই-সেম্বধ খেয়ে সব দিন-গজেরান করচে। বড়-ছোট সবাই । আপনাকেও তাই দেবো। আর লাউ-ডাঁটা, চচ্চড়ি । ভাতের বদলে আজকাল সবাই ওই খাচ্চি। এ গাঁয়ে। সাধ, কােপালী তাতেই রাজী । সে বেচারী দীদিন ভাত খায় নি-ওর মাখের দিকে চেয়ে গঙ্গাচরণ বললে-বাপ যা আছে বের করে দাও । সেদ্ধি কলাই নন। আর লঙ্কা, তার সঙ্গে বেগােনপোড়া । সাধ, কপালী খেয়ে উঠে বললে --উল্ক, এতও আদেস্টে ছিল পণ্ডিত মশাই । গঙ্গাচরণ বললে--একটা হদিস পাওয়া গেল, এ জানতাম না। সত্যি বলছি। কিন্তু এ খেয়ে পেটে সাইবে কদিন তাই ভাবচি ।