পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশনি-সংকেত গঙ্গাচরণ রাগ করে বললে-আমি কি তোমার বাড়ী খেতে এসেছি ? যাও যাও९3<6था दक्षा क्रा কিন্তু গঙ্গাচরণের মনের মধ্যে আর সে জোর নেই। হঠাৎ তার মনের চক্ষে ভেসে উঠেছে, দিব্যি হিঙের টােপা টোপা বড়ি ভাসচে। মাছের ঝোলে, আল বেগন, বড় বড় চিংড়ি মাছ আধ-ভাসা অবস্থায় দেখা যাচ্চে বাটির ওপর । ভাতে সেই মাছের ঝোল মাখা হয়েচে । কাঁচা ঝাল একটা বেশ করে মেখে* ** নিবারণ বললে-আসন, চলন । আমার একথা আপনাকে রাখতেই হবে। সে শোনবো না। আমি। দােপরেবেলায় না খেয়ে বাড়ী থেকে ফিরে যাবেন ? হাব, ভাত খায় নি। আজ দশদিন । অনঙ্গ-বোঁ খায় নি। দশদিনেরও বেশি। ও যে কি খায়-না-খায় গঙ্গাচরণ তার খবর রাখে না। নিজে না খেয়েও সবাইকে যগিয়ে বেড়ায় । তার খাওয়া কি এখানে উচিত হবে ? গঙ্গাচরণ নিবারণকে বললে, আচ্ছা যদি খাই, তবে এক কাঠা চাল দেবে ? -না। বাবাঠাকুর। মিথ্যে বলে কি হবে । চাল হাতছাড়া করবো না । আপনি একা এখানে বসে আধা কাঠা চাল রোধে খান তা দেবো । --তোমার জেদ দেখচি কম নয় । -এই আকালে এমনি করেছে। ভয় ঢুকে গিয়েছে যে সবারই । -চাল আর যোগাড় করতে পারবে না ? --কোথা থেকে করবো বলনে ! কোন মহাজনের ঘরে ধান নেই। বাজারে এক দানা চাল আসে না । আমাদের গোরামের পেছনে একটা বিল আছে জানেন তো ? দাসপাড়ার বিল ভঁর নাম। এখন এই তো বেলা হয়েছে, গিয়ে দেখােন সেখানে ত্রিশ-চল্লিশ জন মেয়েমানষে জাটেছে এতক্ষণ । জলে পাঁকের মধ্যি নেমে পদ্ম গাছের মািল তুলছে, গেড়ি-গঙ্গালি তুলছে।--জল-ঝাঁকির পাতা পর্যন্ত বাদ দেয় না। 响 -दळ कि ? -এই যাবার সময় দেখবেন সত্যি না মিথ্যে । যত বেলা হবে তত লোক বাড়বে, বিলির জল লোকের পায়ে পায়ে ঘোল দই হয়ে যাবে কাদা ঘালিয়ে। এক-একজন কাদামাখ্যা পেত্নীর মত চেহারা হয়েছে।--তবও সেই কাদা জলে ডুব দিয়ে পদ্মের মািল, গৌড়ি-গঙ্গালি এসব খাজে বেড়াচে । চেহারা দেখলি ভয় হয়। তাও কি পাচ্চে বাবঠাকুর ? বিল তো আর অফুরন্ত নয় । যা ছিল, তিন দিনের মধ্যে প্রায় সাবাড়ি হয়ে গিয়েচে । এখন মনকে rbाथ छेाा । --তবে যাচ্ছে কেন ? -আর তো কোথাও কিছু খাবার নেই। যদি তবও বিলের মধ্যি খজলি পাওয়া যায় । ভেবে দেখােন বাবােঠাকুর, আপনাকে যদি চাল বেচি, তবে একদিন আমার বাড়ীর ঝি-বাউদের অমনি করে পাঁক মেখে বিলের জলে নামতে হবে দটাে গেড়ি-গঙ্গালি ধরে খাবার জন্য । চলন, বাবাঠাকুর, আসন, দটাে খেয়ে যান। পেট ভতি চাল দেবো এখন । গঙ্গাচরণ ফিরলো । মাছের ঝোল ভাত খেয়ে-গেড়ি-গঙ্গলি সেদ্ধ নয় । এখনো এ গ্রামের এ দিনেও ভাত খেতে পাওয়া যাচে । এর পরে আর পাওয়া বাবে কি না কে জানে । গোয়ালঘর নিকিয়ে পাছে দিলে নিবারণের বিধবা বড়মেয়ে ক্ষ্যািন্তমণি। কাঠ নিয়ে