পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশনি-সংকেত bS -পাবো না কেন, পাওয়া যায় । দটীকা কাঠা।--তাও অনেক খাঁজে। তবে নিতি হবে । খাওয়া হয় না। মাঝে মাঝে । এই সময় জানলা খোলার শব্দ হতেই লোকের ভিড় সেই দিকেই ছািটলো। গঙ্গাচরণ বন্ধের হাত ধরে বললে-শীগগির আসন, এর পর আর জায়গা পাব না তাও এরা পিছিয়ে পড়ে গেল। অতগলো মরীয়া লোকের সঙ্গে দৌড়পাল্লায় প্রতিযোগিতা করা এদের পক্ষে সম্প্ৰভাব হোল না। এদের পক্ষে বেশির ভাগ এসেচে আটা যোগাড় করতে । একজনকে জিজ্ঞেস করে জানা গেল সে দােপরেবেলা চাল যোগাড় না করতে পেরে উপবাসে আছে, একটু আটা নিয়ে গেলে তবে তার দিনের আহার পেটে পড়বে । তারা মরীয়া হবে না তো মরীয়া হবে কে ? আরও এক ঘণ্টা কেটে গেল । তারপর গঙ্গাচরণ জানলার সামনে দাঁড়াবার জায়গা পেলে । সাপ্লাই অফিসার টানা টানা কড়া সরে জিজ্ঞেস করলেন-কি ? গঙ্গাচরণের ভরসা ছিল তার চেহারার দিকে চাইলে সাপ্লাই অফিসার ভদ্ৰলোক বা ব্রাহ্মণ লে খাতির করবে। কিন্তু তাতে নিরাশ হতে হোল, কারণ হাকিম চোখ তুলে তার দিকে গাইলেন না । তাঁর চোখ টেবিলের ওপরকার কাগজের দিকে । হাতে কলের কলম, অৰ্থাৎ যা কলম কালিতে ডোবানোর দরকার হয় না । গঙ্গাচরণের গলা কোপে গেল, বকের মধ্যে ঢিপ ঢপ করতে লাগলো। হাত-পা কাঁপতে GT সে বললে-হািজর, আমার মাত্রী অতিড়ে । কিছু খাবার নেই, অতিড়ের পোয়াতি, কি |ায়, না আছে একটু আটা হাকিম ধমকের সরে বললেন-আঃ কি চাই ? -আটী, চিনি, সাজি, একটু মিছরি-Gनद ध न ! --না দিলে মরে যাবো হজাের । একটু দয়া করে—হবে না। আধাসের আট হবে, একপোয়া সাজি, একপোয়া মিছরিবলেই খসা খসা করে কাগজে লিখে হাকিম। গঙ্গাচরণের হাতে তুলে দিয়ে বললেন-যাও-- --হাজার, পাঁচ-ছ কোশ দাির থেকে আসচি। এতে ক'দিন হবে হাজার। দয়া করে ছি, বেশি করে দিন-- -আমি কি করবো ? হবে না যাওগঙ্গাচরণ হাত জোড় করে বললে-গরীব ব্রাহ্মণ, দয়া করে আমায়-- হাকিম বিরক্তির সঙ্গে হাত বাড়িয়ে বললেন-দেখি কাগজ ? যাও, এক সের আটা- যত লোকজনের ধাক্কায় গঙ্গাচরণকে ছিটকে পড়তে হােল জানলা থেকে । পেছন থেকে একজন বলে উঠলো-ওমা, দেরি করো কেন ? কেমনধারা লোক তুমি ? সরো চাপরাসী চে’চিয়ে বললে-হঠ যাওবাজারে দোকান থেকে আটা কিনতে গিয়ে দেখলে আটা এবং সাজি দুই-ই খারাপ কেবারে খাদ্যের অন্যাপযন্ত নয় বটে। তবে জিনিস ভালও নয়।