পাতা:আগামীকাল - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পয়সা খরচ করে যেসব জেলবন্দী বিপলবীদের সংসার চালিয়েছিলেন শেষে একদিন ওরাই চার বলে কৃতজ্ঞতা নিবেদন করলে, তখন তাঁর আর সইল না পলিটিক্সের ক্ষরে নমস্কার দিয়ে বইপত্তর নিয়ে ঘরের কোণে আশ্রয় নিলে । কিন্তু যার চোখে দেশোধারের মোতাত বইয়ের কালো অক্ষরগলোতে মন ভরবে কেন ? তখন যা হোক কিছু করার জন্য আমারও মন খাব চঞ্চল। আমি যে এক গোয়ালেরই গর। সদ্য পলিটিক্সে ইস্তফা দিয়ে বেকার হয়ে পড়েছি। একদিন এককড়িদাকে বললাম, দাদা, রাজনীতির পাকচক্করে আর মাথা গলাচ্ছি না। এককড়িদা দীঘ শ্ৰবাস ফেলে বললে, তাই বলে জলধি জীবনটাকে ত এ ভাবে নিতান্তই ব্যথা করে দেয়াও ত চলে না, দেশের কোন কাজেই কি লাগবে না ? এ-দগতি যে সহ্য করা যায় না। ভাই । আমি বললাম, এককড়িদা, অবশ্য যদি অভয় দেন একটা ফন্দি দিতে পারি। রাজনীতির কচকচানি ছেড়ে চলন সোস্যাল সাভিসে ঝলে পড়ি । আমার কথা শানে এককড়িদা ঠোঁট থেকে গড়গড়ির নলটা নামিয়ে আচমকা সোজা হয়ে বসলেন। ওর চোখে-মথে অত্যন্ত্র আগ্রহটকু লক্ষ্য করে আমি সোৎসাহে বলতে লাগলম, হ্যাঁ এককড়িদা, আমাদের পক্ষে সোস্যাল সাভিসের পথটা বেছে নেয়াই সব চেয়ে নিরাপদ।। ফাঁসির ভাবনা থাকবে না, জেল খাটার ভীতি মাঝ রাত্রে ঘােম ভাঙিয়ে দেবে না, কারো বিষনজরেও পড়তে হবে না । বিদ্যা, জ্ঞান অর্জন, চারিত্রিক শব্দ্ধতা ও সঞ্চয় প্রভাতি থেকে দেশের মানষেকে দরে ঠেলে রাখার জন্য দাঁচোখে কৌশলের ঠলি পড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমার কথায় এককড়িদার মাখে হাসির ঝিলিক দেখা দিল । গড়গড়ির নলটি নামিয়ে রেখে উচ্চস্থৰাসত আবেগের সঙ্গে আমার হাত দটো চেপে ধরে বললেন, জলধি, তুমিই আমার সত্যিকারের হিতাকাঙ্খী । তুমিই আমায় বাঁচার আনন্দের সন্ধান দিয়েছ । আমি রাজী জলধি, তোমার পরামর্শ নিতে আমি রাজী। সত্যি এককড়িদা, আমাদের মত রাজনীতির পোকা যাদের মাথায় ঢাকেছে, একমাত্র সংসারের আবর্তকেই যামা পরম কাম্য ব’লে জ্ঞান করে তৃপ্ত থাকতে পারে না, সমাজসেবামলক কাজই ওদের বাঁচার আনন্দের একমাত্ৰ দিশারী। হ্যাঁ জলধি, আমার পিতৃপরিষের সঞ্চিত অর্থের সন্ন ব্যবহার করতে তোমার সক্রিয় সহযোগিতা আমার পক্ষে যে একান্তই অপরিহার্য ভাই । ‘আমার অবস্থা-‘রাই আমিও তা-ই চাই ।” তব মনের ভাব গোপন রেখে বললাম, এককড়িদা, চাইলে আপনার পাশে পাশে থেকে ছোট-ভাইয়ের মত হাকুম তামিল করতে ot† [ এককড়িদা আমায় বকে জড়িয়ে ধরে বললেন, তুমি হবে। আমার কাজের অন্যতম সহায়ক, হবে নবপ্রতিস্ঠিত সংস্থার সেক্রেটারি। ব্যস, সেই থেকে তোড়জোড় শহর হয়ে গেল, গড়ে উঠল বিদেশ-কল্যাণ-সঙ্ঘ ।’ দেশের কাজ করতে এসে যে শেষ পর্যন্ত ՓՀ