পাতা:আজকের আমেরিকা.djvu/৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।



আজকের আমেরিকা
৩৭

বাড়িতে এসেছি তার মালিক হলেন একজন স্ত্রীলোক। তাঁর জন্মস্থান বার্মিংহামে, মিঃ চেম্বারলেনের বাড়ির কাছে। এই মহিলার স্বামী একজন চীনা ভদ্রলোক, তাই তাঁর গৃহে আমার স্থান হয়েছিল।

 পুলিস কারখানা বাড়িটা বেশ পাহারায় রাখার বন্দোবস্ত করেছিল কিন্তু সেই পুলিস-পাহারার দিকে লক্ষ্য করত না। লোকে কোনরূপ ভয়ও করত না। লোক চলছে নির্বিকার চিত্তে। আইরিশদের কথা কেউ ভুলেও উচ্চারণ করত না। সে ভুল ইচ্ছাকৃত নয়, কারণ সে বিষয়টা তেমন গ্রাহের মধ্যেই নয়। বোমা ফাটছে, লোক মরছে, ঘর ধ্বসে পড়ছে তবুও বিষয়টা গ্রাহের নয়! এই অগ্রাহের ভাব কাদের দ্বারা সম্ভব? লক্ষ লক্ষ আইরিশ লণ্ডনে বাস করছে, তাদের মাঝে এমন কেউ সংবাদপত্র মারফতে দুঃখও প্রকাশ করছে না। তার কারণ কি? কারণ আর কিছুই নয়, শুধু বিষয়টা অগ্রাহ্য। যারা বিপদে পড়লে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে, চিৎকার করতে থাকে, তাদের কাছে বিষয়টার গুরুত্ব আছে। ১২ নম্বর গাওয়ার স্ট্রীটে এবং ভারতীয় সংবাদপত্রে তার প্রচার আছে, কিন্তু লণ্ডনের কোনও ক্লাব তার কথা মোটেই ভাবছে না, সংবাদপত্রগুলিও তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। যারা বীর তারা সামান্য বিষয় নিয়ে হৈচৈ করে না, তারা তৎপর হস্তে বিক্ষোভ দমন করে।

 এ অন্‌চলে অনেক সাইপ্রাসবাসী থাকে। তাদের নাক মুখ এবং শরীরের গঠন দেখবার মতই। একজন সাইপ্রাসবাসীর সংগে ভাব করে তাকে নিজের ঘরে এনে নানারূপ কথা বলেছিলাম। লোকটি রুটি বিক্রি করত। তার চেহারা দেখলে মনে হয় না সে ফরসা। তার ব্যবসা বেশ ভাল, কিন্তু যদি তার চেয়ে ভাল রংএর কোনো কাশ্মীরী ঐ ব্যবসা করতে আরম্ভ করে, তবে তার ব্যবসা চলে না। অনেক কাশ্মীরী